Dipannita Laxmi Puja Vidhi and Mantra

দীপান্বিতা অলক্ষ্মী পুজো – ধন ধান্য শ্রী সুরুচি সৌভাগ্যের দেবী

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

দেবী লক্ষ্মী প্রজাপতির মুখের আভা থেকে জন্ম নেন। কিন্তু অলক্ষ্মী (Dipannita Laxmi Puja) জন্ম নেন প্রজাপতির পৃষ্ঠদেশ থেকে। আবার …

নিজস্ব প্রতিবেদন: কালীপূজার সাথে আরও একবার মা লক্ষ্মী পূজিত হন। এই অলক্ষ্মী একজন হিন্দু দেবী। তিনি আসলে লক্ষ্মীর জ্যেষ্ঠা ভগিনী ও দুর্ভাগ্যের দেবী। অলক্ষ্মী কল্কি পুরাণ ও মহাভারত কথিত দৈত্য কলির দ্বিতীয়া স্ত্রী। দেবী লক্ষ্মী প্রজাপতির মুখের আভা থেকে জন্ম নেন। কিন্তু অলক্ষ্মী (Dipannita Laxmi Puja) জন্ম নেন প্রজাপতির পৃষ্ঠদেশ থেকে। আবার অন্যপুরান মতে, লক্ষ্মীর জন্ম সমুদ্রমন্থনের সময়। বাইরের পার্থিব সুখ ও সৌভাগ্যের আলোয় মনের ভেতরে ঈর্ষা ও অহং মনুষ্যত্বকে গ্রাস না করার জন্য এই পুজোর প্রচলন ৷

-: লক্ষ্মীর আবাহন মন্ত্র :-

ওঁ লক্ষ্মীদেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুদ্ধস্য অত্রাধিষ্ঠান কুরু মম পূজান গৃহাণ।

এই অলক্ষ্মী মাতাকে বিদায় জানিয়ে, মা লক্ষ্মীর পুজো করার রীতি চালু আছে দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে। সন্ধ্যাবেলাতে অলক্ষ্মী বিদায় ও মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। চালের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় অলক্ষ্মী মূর্তি। প্রথমে তার পুজো করে, কুলোয় করে অলক্ষ্মী বিদায় করতে হয়। অলক্ষ্মী অমঙ্গল ও অশুভের প্রতীক। সেই কারণেই তাকে বিদায় করে লক্ষ্মীবরণ করা হয়। গোবর দিয়ে অলক্ষ্মীর ও পিটুলি দিয়ে লক্ষ্মী, কুবের ও নারায়ণের মূর্তি তৈরী করা হয়। বাড়ির উঠানের এক কোণে অলক্ষ্মীর মূর্তি রেখে প্রথমে পূজা করা হয়।

Dipannita Laxmi Puja Vidhi and Mantra
Dipannita Laxmi Puja Vidhi and Mantra

এই পূজা শেষে মেয়েরা কুলো পিটাতে পিটাতে মূর্তিটি তেমাথায় নিয়ে যায়। সেখান ‘লক্ষ্মী আয়, অলক্ষ্মী যা’ বলতে বলতে মূর্তিটি ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পথে, আলোর মশাল জ্বালানো হয়। এরপর গৃহিণীরা বাড়ি ফিরে লক্ষ্মীর পূজা করে। দেবী লক্ষ্মী ও অলক্ষ্মীর সহাবস্থান একই সঙ্গে ঘটে ৷ দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় ধন, ধান্য, প্রাচুর্যের আগমন ঘটে। এই দিনে অলক্ষ্মী পুজোর মাধ্যমে মনের ঈর্ষা, মলিনতা, অহংকার দূর হয়। ধন, ধান্য ও সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মীর বন্দনা করে তাকে বাড়িতে বরণ করা হয় ৷

-: প্রণাম মন্ত্র :-

ওঁ বি শ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।

এই দিন ঘর বাড়ি সুন্দর ভাবে পরিষ্কার করা হয়। চালের গুঁড়ো দিয়ে লক্ষ্মীর পা এঁকে আল্পনা দেওয়া হয় ৷ মা লক্ষ্মীর প্রতিমা বা পটের সামনে দু’টি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালালে খুব ভাল। সাথে পদ্ম, নারকেল ও ক্ষীরের নৈবেদ্য দিলে প্রসন্ন হন লক্ষ্মী দেবী। সন্ধ্যায় ঘরের চারপাশে আলো বা প্রদীপ জ্বালানো হয় ৷ এতে সকলের মনের অন্ধকার দূর হয়। ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হয় ৷ অন্ধকার ও অশুভ সত্ত্বাকে দূর করার জন্য দীপাবলিই হলো শুভ দিন বা তিথি ৷

-: লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র :-

ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *