History of Manasa Puja and Rituals

Manasa Puja: শ্রী শ্রী মনসা পূজা, লৌকিক হিন্দু সর্পদেবী !

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাতে, মনসা দেবীকে (Manasa Puja) নিয়ে মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছিল। এর মধ্যে বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল …

নিজস্ব প্রতিবেদন: মা মনসা হলেন লৌকিক হিন্দু সর্পদেবী। প্রধানত বাংলাতে ও উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে এই পূজা প্রচলিত আছে। আসলে সর্পদংশনের হাত থেকে রক্ষা পেতে, সর্পদংশনের প্রতিকার পেতে, প্রজনন ও ঐশ্বর্যলাভের উদ্দেশ্যে মা মনসার পূজা করা হয়। মনসা নাগ-রাজ বাসুকীর ভগিনী ও ঋষি জরৎকারুর স্ত্রী। দেবীর অপর নাম বিষহরি, নিত্যা ও পদ্মাবতী। খ্রিস্টীয় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাতে, মনসা দেবীকে (Manasa Puja) নিয়ে মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছিল।

এর মধ্যে বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গল কাব্য ও বিপ্রদাস পিপলাইয়ের মনসাবিজয় কাব্য বিখ্যাত। বাংলার বণিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মনসাপূজা বিশেষ প্রচলিত। মনসামঙ্গল কাব্যের চাঁদ সদাগর, প্রথম মনসার পূজা করেছিলেন।

History of Manasa Puja and Rituals
History of Manasa Puja and Rituals

পুজোর সময় ও পদ্ধতি:

২০২০ সালের শ্রী শ্রী মা মনসা পূজা হবে ৩২শে শ্রাবন ১৪২৭ সোমবার। দিনে — ৭.০২ এর মধ্যে। ১০.২১ থেকে ১২.৫০ এর মধ্যে। রাতে — ৬.৩৫ থেকে ৮.৫৪ এর মধ্যে। ১১ .১২ থেকে ২.১৭ পর্যন্ত।

মায়ের অঞ্জলি — ১. আস্তিকস্য মুনের মাত জগৎ আনন্দকারিনী। এহ্যেহি মনসা দেবী নাগমাতা নমোহস্তুতে। ২. আগচ্ছে বরদাদেবী সর্ব কল্যাণ কারিনী। সর্পভয় বিনাশিনী মনসা দেবী নমোহস্তুতে। ৩. আস্তিকস্য মুনির মাতা ভগিনী বাসুকেস্তথা। জরৎকারু মুনে পত্নী মনসাদেবী নমোহস্তুতেঃ।

পূজার উপকরণ — সিঁদুর, ঘট, মনসা গাছ বা তাহার ডাল, পূজার শাড়ী ১, মধুপর্কের বাটী ১, মধু, ঘৃত, দধি, তিল, হরিতকী, পুষ্প, দূর্বা, তুলসী, বিল্বপত্র, ধূপ, দীপ, বড় নৈবেদ্য ১, অষ্টনাগের নৈবেদ্য ৮, কুচা নৈবেদ্য ১, উচ্ছে, দুগ্ধ উপকরণ, ফল-মূলাদি, দক্ষিণা।

[ আরো পড়ুন ] বিপত্তারিণী পুজো – দেবী সঙ্কটনাশিনীর রূপ

পুরাণ ও কিংবদন্তিতে আছে, মনসার হলেন শিবের স্বীকৃতকন্যা ও জরৎকারুর পত্নী। জরৎকারু মনসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মনসার মা চণ্ডী, তাকে ঘৃণা করতেন। যদিও কোনো কোনো ধর্মগ্রন্থে আছে, শিব নয়, ঋষি কাশ্যপ হলেন মনসার পিতা। জন্ম-সংক্রান্ত কারণে মনসার পূর্ণ দেবীত্ব প্রথমে অস্বীকার করা হয়েছিল। তাই মনসার উদ্দেশ্য ছিল দেবী হিসেবে নিজের কর্তৃত্ব স্থাপন করা।

[ আরো পড়ুন ] গুরু পূর্ণিমার মাহাত্ম্য, শান্তি ও ধনদৌলতের জন্য করণীয়

হিন্দু অথর্ববেদে, সর্পদেবী হিসেবে মনসার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরাণে তাকে ঋষি কাশ্যপ ও নাগ-জননী কদ্রুর কন্যা বলা হয়েছে। খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দীতে, মনসা প্রজনন ও বিবাহের দেবী হিসেবে চিহ্নিত হন। শিব বিষ পান করার পর মনসা মধ্যে তা সঞ্চার হয় ও ‘বিষহরা’ নামে পরিচিত হন। মনসার মূর্তিতে এক সর্প-পরিবেষ্টিত নারী রূপে দেখা যায়। তিনি একটি পদ্মের উপর বসে থাকেন। আবার একটি সাপের উপর দাঁড়িয়ে থাকেন। সাতটি গোখরো সাপের ফনা দেবীর মাথার উপর ছাউনির আকার ধারণ করে। কোনো কোনো মূর্তিতে কোলে একটি শিশুকে দেখা যায়।

[ আরো পড়ুন ] শ্রীকৃষ্ণ ও জন্মাষ্টমী, ভক্তের খুব কাছের

বাংলার রাঢ় অঞ্চলে মনসা পুজোতে ‘ঝাপান’ অনুষ্ঠান হয়। মল্ল রাজধানী বিষ্ণুপুরে ‘মনসার ঝাপান’ বিখ্যাত। শ্রাবণ মাসের নাগ পঞ্চমী তিথি, শ্রাবণ সংক্রান্তি ও অন্যান্য দিনে হয় মনসার পুজো। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতে মনসা পুজো করলে পাঁচটি অলৌকিক ফল পাওয়া যায় — মনসা পুজো করলে বাস্তুদোষ দূর হয়। পারিবারিক অশান্তির বিনাশ হয়। বন্ধ্যা নারীও সন্তানবতী হতে পারে। বাড়ির সবাই সুস্থ থাকে। সারা বছর আর সর্পভীতি থাকে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *