Kaushiki Amavasya 2020 Bengali

ফলদায়ক কৌশিকী অমাবস্যা – সাধক বামাক্ষ্যাপার স্মৃতি !!!

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

এই ২০২০ সালে কৌশিকী অমাবস্যা (Kaushiki Amavasya 2020) পড়ছে ১৮ই অগাস্টের সকাল ১০:৪১ মিনিটে। এটি ১৯শে অগাস্টের সকাল ৮:১২ …

নিজস্ব প্রতিবেদন: বাংলা পঞ্জিকার সাথে জড়িয়ে আছে পূর্ণিমা ও অমাবস্যা। এরমধ্যে কয়েকটি অমাবস্যার গুরুত্ব একেবারেই আলাদা। তবে কৌশিকী অমাবস্যা সকল ধর্মীয় অনুরাগীর কাছে খুব প্রাসঙ্গিক। আগামী ১৮ই ও ১৯ অগস্ট (১লা ও ২ ভাদ্র), মঙ্গল ও বুধবার কৌশিকী অমাবস্যা। এই ২০২০ সালে কৌশিকী অমাবস্যা (Kaushiki Amavasya 2020) পড়ছে ১৮ই অগাস্টের সকাল ১০:৪১ মিনিটে। এটি ১৯শে অগাস্টের সকাল ৮:১২ মিনিটে শেষ হবে। এই ভাদ্রমাসের আমাবস্যা বহু তন্ত্রসাধকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অগণিত শাস্ত্রজ্ঞরাও অপেক্ষা করে থাকেন এই অমাবস্যার দিকে।

Kaushiki Amavasya 2020 Bengali
Kaushiki Amavasya 2020 Bengali

কথিত আছে, এই বিশেষ তিথিতে তন্ত্রসাধনা করে তারাপীঠ মহাশ্মশানে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই সময় থেকে এই অমাবস্যার দিনটি সর্বত্র বিশেষভাবে পালিত হয়।

Bamakhepa
Bamakhepa

আসলে এই দিনে তন্ত্রসাধনা করলে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করা সম্ভব হয়। আর সেই কারণেই, তারাপীঠের মহাসস্মানে যজ্ঞ করেন অগণিত সাধকরা। সিদ্ধিলাভের নেশায় এই তিথিকে প্রধান বলে স্মরণ করেন। তবে শাস্ত্রজ্ঞরা মনে করছেন, করোনার তীব্র সংকটকালে এই কৌশিকী অমাবস্যা সংকটমোচনের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠবে।

[ আরো পড়ুন ] শ্রী শ্রী মনসা পূজা, লৌকিক হিন্দু সর্পদেবী !

এই কৌশিকী অমাবস্যায় কালসর্প দোষ দমন করা সম্ভব হয়। কোনো মানুষের কোষ্ঠীতে যদি এই দোষ থাকে, তবে কৌশিকী অমাবস্যার দিন মন দিয়ে শিবপুজো করলে তার সৌভাগ্য ফল আসে। তাই ভক্তদের কাছে কৌশিকী অমাবস্যার রাত অত্যন্ত লাভদায়ক। সেই রাতে পরিষ্কার একটা নারকেল ফাটিয়ে, তার কয়েকটি টুকরো দরজার বাইরে রাখুন। আর সকালে ভোরের আলো ফুটলেই, তা ফেলে দিন। মনবাঞ্ছা পূর্ণ হবে। তবে এই প্রক্রিয়া বিশুদ্ধ বস্ত্রে ও শুদ্ধ মনে করতে হবে।

[ আরো পড়ুন ] গুরু পূর্ণিমার মাহাত্ম্য, শান্তি ও ধনদৌলতের জন্য করণীয়

এই কৌশিকী অমাবস্যার রাতে আটা জাতীয় কোনও জিনিস যেকোনো মাছকে খাওয়ান। নদী, জলাশয়, পুকুর বা অ্যকোয়ারিয়ামের মাছকে খাওয়াতে পারেন। তবু এই আটা মাছকে খাওয়ালে দুর্ভাগ্য কেটে যাবে বলে। আবার এই অমাবস্যার রাতে অবশ্যই সদর দরজার সামনে একটা তেলের প্রদীপ রাখুন। সম্ভব হলে বাড়ির সমস্ত দরজার সামনে তেলের প্রদীপ রাখুন। প্রদীপের নিচে একটা বেলপাতা রাখবেন। এতে বহুদিনের দুর্ভাগ্য কেটে সৌভাগ্য আসবে। রাতের গভীরে ঈশ্বরকে ভক্ত ভরে প্রণাম করবেন।

Tarapith during Kaushiki Amavasya 2020
Tarapith during Kaushiki Amavasya 2020

পুরাণ অনুযায়ী, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভ একবার কঠিন সাধনায় ভগবান ব্রহ্মাকে তুষ্ঠ করে। সাধনায় তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা তাদের বর দেন। তাদের কোনও পুরুষ হত্যা করতে পারবে না। তবে একমাত্র মৃত্যু হতে পারে সেই নারীর হাতে যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করেন নি। এমন দেববাণী শুনে শুম্ভ নিশুম্ভ যারপরনাই খুশি হন। মহানন্দে দুজনেই অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। অসুর বিনাশের জন্য আসে পার্বতীর কথা। তিনি দক্ষ যজ্ঞস্থনে আত্মাহুতি দেওয়ার ফলে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেন। এই কৃষ্ণবর্ণ দেবী কঠিন যজ্ঞের পর কালিকা রূপে অবতীর্ণ হলেন। তাঁর দেহের কোশিকা কালো বর্ণ হওয়ায় নাম হয় কৌশিকী।
এই তিথিতে কৌশিকী রূপে তিনি বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভকে।

[ আরো পড়ুন ] শ্রীকৃষ্ণ ও জন্মাষ্টমী, ভক্তের খুব কাছের

আবার মৎস পূরাণ ও মাণ্ডেয় পূরাণ থেকে জানা যায়, অসুর দ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করতে দেবী পার্বতী সাধনাতে বসেন। দীর্ঘ কঠিন তপস্যার পর, নিজের শ্বেতশুভ্র গায়ের রঙ পরিবর্তিত হয়। ফলে উজ্জ্বল কালো বর্ণে এক ভয়াল ভয়ংকর রূপ ধারণ করেন দেবী। সেই ব্যতিক্রমী রূপে দেবী পার্বতী হয়ে ওঠেন ‘মাতা কৌশিকী’। আর এই কৌশিকীই অমাবস্যার এক বিশেষ কালক্ষণে, অন্ধকারে বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভকে। সেই প্রথাকে স্মরণ করে বিভিন্ন জায়গাতে অনুষ্ঠিত হয় কৌশিকী অমাবস্যার পূজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *