History and Importance of Rash Yatra

আজ বৈষ্ণবীয় রাসযাত্রা – পূর্ণিমার আলোয় ভরা উৎসব

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

ভগবান শ্রী কৃষ্ণের রসপূর্ণ কথাবস্তুকে রাসযাত্রার (Rash Yatra) মাধ্যমে নানা ধারায় তুলে ধরা হয়েছে। জীবাত্মার থেকে পরমাত্মায়, দৈনন্দিন জীবনের …

নিজস্ব প্রতিবেদন:
“যখন করেন হরি বস্ত্রহরণ।
গোপীদের কাছে তিনি করিলেন পন।।
আগামী পূর্ণিমা কালে তাঁহাদের সনে।
করবেন রাসলীলা পূণ্য বৃন্দাবনে ”
বিখ্যাত রাস যাত্রা আসলে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাৎসরিক উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত অঁধারার এক ধর্মীয় উৎসব। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের রসপূর্ণ কথাবস্তুকে রাসযাত্রার (Rash Yatra) মাধ্যমে নানা ধারায় তুলে ধরা হয়েছে। জীবাত্মার থেকে পরমাত্মায়, দৈনন্দিন জীবনের সুখানুভূতিকে আধ্যাত্মিকতায় ও কামপ্রবৃত্তিসমূহকে প্রেমাত্মক প্রকৃতিতে রূপ প্রদান করে অংকন করা হয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরা ও বৃন্দাবনে, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় এই রাস যাত্রা উৎসব পালন করা হয়। তবে ওড়িশা, আসাম ও মণিপুরে মহাসমারোহে রাসযাত্রার উৎসব উদযাপিত হয়।

Rash Yatra was started in Nabadwip
Rash Yatra was started in Nabadwip

এই রাস মূলত বৈষ্ণব ধর্মের উৎসব। এটি একেবারেই বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় শ্রীকৃষ্ণের প্রেম প্রকৃতির উৎসব। এই উৎসবে গোপিনী সহযোগে রাধাকৃষ্ণের আরাধনা রাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। হিন্দু পুরাণে রাস উৎসবের নানাভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়। শ্রী কৃষ্ণের সংস্পর্শ পেয়ে গোপিনীদের মন অহং পূর্ণ হলে শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্হিত হন। গোপিনীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে, শ্রীকৃষ্ণের স্তব স্তুতি করতে থাকেন। এরপর শ্রীকৃষ্ণ প্রত্যাবর্তন করে গোপিনীদের মানব জীবনের পরমার্থ বুঝিয়ে অন্তরাত্মা শুদ্ধ করেন। তিনি সকল গোপিনীদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। জাগতিক ক্লেশ থেকে সকলকে সহজ ভাবে মুক্তি দান করেন। আর এই রূপেই রাশ উৎসবের প্রচলন ঘটে।

[ আরো পড়ুন ] ফলদায়ক কৌশিকী অমাবস্যা – সাধক বামাক্ষ্যাপার স্মৃতি !!!

রাস পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠ উৎসব। শরৎকালে শারদোৎসবের পর থেকে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। কার্তিকীপূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত হয় নবদ্বীপের শ্রেষ্ঠ লোকায়ত উৎসব “রাস“। এখানকার রাসের প্রধান বিশেষত্ব হলো মূর্তির বিশালতা। অপরূপ মৃন্ময়ী মূর্তি নির্মাণ করে তার আরাধনাই নবদ্বীপের রাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য। জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভে এই রাসের সূচনা হয়েছিল। তবে চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পর নবদ্বীপের বৈষ্ণব আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়। তখন গৌরাঙ্গ-পরিজনেরা বাধ্য হয়ে, নবদ্বীপ ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান। ফলে বৈষ্ণবীয় উৎসব অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় অনেকটা ছেদ পড়ে।

[ আরো পড়ুন ] গুরু পূর্ণিমার মাহাত্ম্য, শান্তি ও ধনদৌলতের জন্য করণীয়

তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে নবদ্বীপে রাস উৎসবের সূচনা হয়। এটি একেবারেই অভিনব ও বাংলার ধর্মীয় ইতিহাসে অদ্বিতীয়। বাংলা ১৩ই অগ্রহায়ণ বা ২৯শে নভেম্বর রবিবার, পূর্ণিমার নিশিপালন – স্মার্তমতে রাত্রৌ শ্রী শ্রী কৃষ্ণের রাসযাত্রা। আর বাংলা ১৪ই অগ্রহায়ণ বা ৩০শে নভেম্বর সোমবার, গোস্বামী মতে রাকাপূর্ণিমানুরোধে শ্রী শ্রী কৃষ্ণের রাসযাত্রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *