Kojagari Laxmi Puja Mantra in Bengali

Kojagari Laxmi Puja: কোজাগরী লক্ষ্মীদেবীর পুজো

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

পুরানে আছে সাগর মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মী (Kojagari Laxmi Puja) সমুদ্র থেকে উদিত হন। এই নীল সাগর হলেন লক্ষ্মী দেবীর পিতা।

নিজস্ব প্রতিবেদন: দশভূজার আরাধনা ও বিসর্জনের পরেই বাংলায় শুরু হয় নানা পুজোর উৎসব। প্রথমেই আসে কোজাগরী লক্ষ্মীদেবীর পুজো। পুরানে আছে সাগর মন্থনের সময় দেবী লক্ষ্মী (Kojagari Laxmi Puja) সমুদ্র থেকে উদিত হন। এই নীল সাগর হলেন লক্ষ্মী দেবীর পিতা। সাগরের গভীরে মুক্তা, প্রবাল, রত্ন পাওয়া যায়। সেই ধোন ও রত্নের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন লক্ষ্মী। তিনি শ্রী বিষ্ণুর সহধর্মিণ। তিনি কখনো সীতা, রাধা, রুক্মিণী আবার মহাপ্রভুর সহধর্মিণী লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে দেবী লক্ষ্মীর উল্লেখ আছে। আসলে সোনার শস্য সম্পদের দেবী বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এবং আশ্বিন পূর্ণিমা ও দীপাবলীতে লক্ষ্মীর পুজো হয়।

মা লক্ষ্মীর আবাহন মন্ত্র :

ওঁ লক্ষ্মীদেবী ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুদ্ধস্য অত্রাধিষ্ঠান কুরু মম পূজান গৃহাণ।

Kojagari Laxmi Puja Mantra in Bengali
Kojagari Laxmi Puja Mantra in Bengali

খারিফ শস্য ও রবি শস্য ঘরে উঠলে বাঙালি মেতে ওঠে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনায়। অন্নপূর্ণার আলতা রাঙা পায়ের চিহ্ন আঁকা হয় সকল ঘরে। ধন-সম্পদের আশায় সকল হিন্দু মহিলা ও পুরুষেরা উপবাস ব্রত পালন করেন। ফুল ফল মিষ্টি নৈবেদ্য দিয়ে আরাধনা করেন এই লক্ষ্মী মায়ের। তিনি খ্যাতি, জ্ঞান, সাহস, শক্তি, জয়, সুসন্তান, বীরত্ব, শস্য, সুখ, বুদ্ধি, সৌন্দর্য, উচ্চাশা, উচ্চভাবনা, নৈতিকতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন সকলকে দেন। তাই এই লক্ষ্মী পূজা করলে মানুষ সার্বিকভাবে সুন্দর ও চরিত্রবান হন।

বাংলা ১৪২৭ ও ইংরেজি ২০২০ সালের পূর্ণিমা তিথি শুরু –
বাংলা- ১৩ই কার্তিক শুক্রবার, ১৪২৭
ইংরেজি – ৩০শে অক্টোবর, শুক্রবার, ২০২০
সময়- সন্ধ্যা ০৫টা ৪৬ মিনিট।
পূর্ণিমা তিথি শেষ-
বাংলা তারিখ:- ১৪ই কার্তিক, শনিবার ১৪২৭
ইংরেজি- ৩১শে অক্টোবর, শনিবার ২০২০
সময়- রাত ৮টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত।
পূর্ণিমার নিশিপালন ও শ্রী শ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজা ১৩ই কার্তিক (৩০শে অক্টোবর) শুক্রবার।

এই কোজাগরী শব্দটি এসেছে ‘কো জাগর্তি‘ থেকে। এর অর্থ ‘কে জেগে আছো?‘। দীপ্ত পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী বরদানের জন্য জগৎ পরিক্রমা করেন। ভক্তিপূর্ণ চিত্তে এদিন লক্ষ্মীর পুজো করার পরে প্রথমে বালক, বৃদ্ধ ও আতুরদের আহার করাতে হয়। এরপর ব্রাহ্মণ ও নিকটজনদের নারকেল জল ও চিঁড়ে আহার করিয়ে তা নিজে গ্রহণ করতে হয়। এই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার সঠিক সময় প্রদোষকাল। অর্থাৎ সূর্যাস্ত থেকে দু ঘণ্টা পর্যন্ত সময়। প্রদোষ থেকে নিশীথ অবধি তিথি থাকলেও, সেই প্রদোষেই পূজা হয়।

লক্ষ্মীর ধ্যানমন্ত্র:

ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।

এই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হয় মূলত প্রতিমা, সরা, নবপত্রিকা বা কলার পেটোর তৈরি নৌকা দিয়ে। একে বাণিজ্যের নৌকা বা সপ্ততরী নৌকা বলা হয়। লক্ষ্মী সরাও বিভিন্ন রকমের – ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি, সুরেশ্বরী, শান্তিপুরী সরা প্রভৃতি। লক্ষ্মী সরায় তিন, পাঁচ, সাত পুতুল আঁকা হয়। এতে মা লক্ষ্মী, জয়া বিজয়া সহ লক্ষ্মী, রাধাকৃষ্ণ, সপরিবার দুর্গা ইত্যাদি থাকে।

গণেশ চতুর্থী – বুদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য লাভের পুজো – আরও জানতে ক্লিক করুন …

বাঙালি হিন্দুদের বিশ্বাসে এই আরাধ্যের লক্ষ্মীদেবী দ্বিভূজা। অনেক জায়গাতে মা লক্ষ্মীর, চতুর্ভূজা কমলে-কামিনী মূর্তিও দেখা যায়। তার বাহন হলো পেঁচা। সোনার ধান, চাল, অন্ন, খাদ্যশস্য হল লক্ষ্মীর প্রতীক। যারা খাদ্য অপচয় করেন, তাঁদের উপর দেবী লক্ষ্মী তুষ্ট হন না। ধানক্ষেতেই বাস করে ইঁদুর। এরা ধান ও শস্যের প্রচুর ক্ষতি করে। মা লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা, এই ইঁদুরদের তাড়িয়ে খাদ্যশস্যকে রক্ষা করে । তাই মা লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে পেঁচা যথার্থ ।

বিভিন্ন রাশি মানুষেরা লক্ষীদেবীর আরাধনা করবেন। মেষ রাশির জাতকেরা লক্ষ্মীদেবীর “রমা” স্বরূপ আরাধনা করলে মঙ্গলজনক হবে। বৃষ রাশির পক্ষে মঙ্গল হবে লক্ষ্মীদেবীর “মোহিনী” স্বরুপ উপাসনা করলে। মিথুন রাশির মানুষেরা দেবীর “পদ্মাক্ষী” স্বরূপকে পুজো করুন। কর্কট রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “কমলা” স্বরূপ পুজো করুন। সিংহ রাশির মানুষেরা লক্ষ্মী দেবীর “ক্রান্তিমতি” স্বরূপকে আরাধনা করুন। কন্যা রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “অপরাজিতা” স্বরূপকে আরাধনা করুন। তুলা রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “পদ্মাবতী” স্বরূপকে পুজো করুন। বৃশ্চিক রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “রাধা” স্বরূপকে আরাধনা করুন। ধনু রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “বিশালাক্ষী” স্বরূপকে উপাসনা করুন। মকর রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “লক্ষ্মীস্বরূপ” ধরে পুজো করুন। কুম্ভ রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “রুক্মিণী” স্বরূপকে আরাধনা করুন। মীন রাশির মানুষেরা লক্ষ্মীদেবীর “বিলক্ষণা” স্বরূপকে আরাধনা করুন।

১৫১ বছর পর কাল সর্পদোষ কাটছে কার কার ? – আরও জানতে ক্লিক করুন …

মা লক্ষ্মীর পুজোর সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একেবারেই লোহার তৈরি বাসন ব্যবহার করা যাবে না। লক্ষ্মী দেবীকে সাদা রঙের ফুল অর্পণ করা যাবে না। লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের ফুল ব্যবহার করা যাবে। লক্ষ্মী দেবীর পুজোর সময় তুলসী পাতা দেওয়া যাবে না। মা লক্ষ্মীর আসনে সাদা বা কালো কাপড় পাততে নেই। লাল, গোলাপি প্রভৃতি রঙের কাপড় ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ্মী পুজোর দিন বাড়ি থেকে কাউকে চাল দিতে নেই। মা লক্ষ্মীর পুজোয় কাঁসর ঘণ্টা বাজানো যাবে না। লক্ষ্মী পুজো করার সময় নিজে লাল, গোলাপি, হলুদ, কমলা এই ধরনের রঙের বস্ত্র পড়বেন।

মা লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র:

ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবি মহালক্ষ্মী নমঽস্তু তে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *