Mahalaya 2020 date in West Bengal and the process of rituals

মহালয়ার সকালে তর্পন – চিরায়ত পরম্পরার রীতি

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

বাঙালিদের কাছে মহালয়া (Mahalaya 2020) একটা অন্য ভূমিকা পালন করে। এই দিন তর্পনের জন্য প্রসিদ্ধ। মানুষের বিশ্বাস আছে, প্রয়াত পুর্বপুরুষের ….

বিশেষ প্রতিবেদন: বাঙালিদের কাছে মহালয়া (Mahalaya 2020) একটা অন্য ভূমিকা পালন করে। এই দিন তর্পনের জন্য প্রসিদ্ধ। মানুষের বিশ্বাস আছে, প্রয়াত পুর্বপুরুষের আত্মা, পৃথিবীর খুব কাছে বিরাজ করে। আর এই সময় যদি শুদ্ধ চিত্তে তর্পন করা হয়, তাহলে তর্পন সাফল্যমন্ডিত হয়। এই “তর্পন” শব্দটি “ত্রুপ” থেকে এসেছে। “ত্রুপ” শব্দের অর্থ “সন্তুষ্ট করা”। আসলে ঈশ্বর, ঋষি ও পুর্বপুরুষের আত্মার উদ্দেশে জল নিবেদন করে তাদের সন্তুষ্ট করাকেই এককথায় তর্পন বলা হয়। যদিও পুরান শাস্ত্রোক্ত মতানুসারে, যে সঠিক কার্য্য দ্বারা অপরের তৃপ্তি হয়, তাহাই তর্পন

Mahalaya Tarpan at Babu Ghat
Mahalaya Tarpan at Babu Ghat

ভারতের সনাতন বিশ্বাস বলে, পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ইত্যাদি মৃত্যু-সংক্রান্ত আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। তাই এই পক্ষ শুভকার্যের জন্য ঠিক নয়। তবে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে গণেশ উৎসবের পরবর্তী পূর্ণিমা এই পক্ষ সূচিত হয় ও সমাপ্ত হয় মহালয়া দিবসে। উত্তর ভারত ও নেপালে ভাদ্রের পরিবর্তে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষকে আবার পিতৃপক্ষ বলা হয়। আসলে সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে এই পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। এই সময় পূর্বপুরুষগণ তাদের পিতৃলোক পরিত্যাগ করে, নিকট উত্তরপুরুষদের কাছে অবস্থান করেন।

গণেশ চতুর্থী – বুদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য লাভের পুজো – আরও জানতে ক্লিক করুন …

তারপর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তাঁরা আবার আগের সেই পিতৃলোকে ফিরে যান। সেই কারণে পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে সনাতনীদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে এই তর্পণ করা হয়। নদীতীরে তর্পণ করাই শ্রেয়। তবে দেহের নাভিদেশ পর্যন্ত জলে গিয়ে তর্পণ করা উচিত। তবে প্রতিষ্ঠিত পুকুর বা মাটিতে থেকেও তর্পণ করা যায়। সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বৃষ্টির জলমিশ্রিত জলে কিন্তু এই তর্পণ করা চলবে না।

মহাভারতের কাহিনী সূত্রে জানা যায়, প্রসিদ্ধ দাতা কর্ণের মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করে। তাঁকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। দাতা কর্ণ, ভগবান ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন। উত্তরে ইন্দ্র জানান, কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণই দান করেছেন। তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য সামগ্রী দান করেননি। সেই কারণেই স্বর্গে তাঁকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তখন কর্ণ জানান, তিনি তাঁর পিতৃগণের সম্পর্কে একেবারেই অবহিত ছিলেন না। তাই তিনি স্ব-ইচ্ছায় পিতৃগণকে স্বর্ণ দান করেননি। ফলে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। আর এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়।

১৫১ বছর পর কাল সর্পদোষ কাটছে কার কার ? – আরও জানতে ক্লিক করুন …

মহালয়ের সকালে এই তর্পনের সময় ঈশ্বর, পুর্বপুরুষের আত্মার নাম উচ্চারন করে তাদের কাছে সুখ শান্তি কামনা করা হয়। মানুষ জীবন রক্ষার্থে, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু প্রাণীকে হত্যা করে। এসব ছাড়া ও অন্যান্য অপকর্মের জন্য শাস্ত্রমতে পাপগ্রস্থ হতে হয়। এই পাপ মোচনের জন্য সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী এই তর্পন করতে হয় । বাবা ও মা জীবিত থাকলে প্রেত তর্পন ভিন্ন অন্য তর্পন করা উচিত নয়। তর্পন করার আগে প্রথমেই জল শুদ্ধি করতে হবে। জলে কুরুক্ষেত্রের মন্ত্র পাঠ করে শুদ্ধি করতে হয়।

তর্পনের সময় কুশিতে কুরুক্ষেত্র মন্ত্র পাঠের জল, চন্দন, তিল, তুলসী পাতা ও ত্রিপত্রী দিয়ে তর্পন করতে হয় । বাবা ও মায়ের তর্পনের সময় জল, তিল,চন্দন, তুলসী পাতা ও ত্রিপত্রী রাখতে হয়। আর অন্যন্য তর্পনের সময় তিলের পরিবর্তে ধান বা যব ব্যবহার করা যায়। চন্দন, তিল, যব না থাকলে কুরুক্ষেত্র মন্ত্র পাঠের জলে তুলসী পাতা দিয়া তর্পন সারা যাবে। তিল তর্পন মানে জল ও তিল একসাথে করে পুর্বপুরুষের আত্মার উদ্দেশে নিবেদন করতে হবে। শ্রদ্ধার সময় কালো তিল ব্যবহার করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *