Vishwakarma Puja Mantra and Paddhati

Vishwakarma Puja – শিল্পীদেব – বিশ্বকর্মা পুজো – Mantra

জ্যোতিষ শাস্ত্র রাশিফল

তার জন্মদিন বিশ্বকর্মা পূজা (Vishwakarma Puja) বা বিশ্বকর্মা জয়ন্তী নামে পরিচিত। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান বিশ্বকর্মা শিল্পী ও নির্মাতাদের দেবতা।

নিজস্ব প্রতিবেদন: হিন্দু ধর্মের এক প্রসিদ্ধ দেবতা ভগবান বিশ্বকর্মা। তার জন্মদিন বিশ্বকর্মা পূজা (Vishwakarma Puja) বা বিশ্বকর্মা জয়ন্তী নামে পরিচিত। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান বিশ্বকর্মা শিল্পী ও নির্মাতাদের দেবতা। ব্রহ্মাপুত্র বিশ্বকর্মাই, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নকশা নির্মাণ করেন। ভগবান ব্রহ্মা তাঁর কাঁধে বিশ্বজগতের সৃষ্টির দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। তাঁর চার বাহু, মাথায় রাজার মুকুট, হাতে জলের কলস, বই, দড়ির ফাঁস ও অপর হাতে থাকে একটি যন্ত্র। বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা তাঁর মাতা ও অষ্টম বসু প্রভাস তাঁর পিতা। ভগবান বিশ্বকর্মার বাহন হাতি।

Vishwakarma Puja Mantra and Paddhati
Vishwakarma Puja Mantra and Paddhati

এই বিশ্বকর্মা একজন বৈদিক দেবতা। ঋগবেদের দশম মণ্ডলে ৮১ ও ৮২ সূক্তদ্বয়ে বিশ্বকর্মার উল্লেখ আছে। ঋগবেদ অনুসারে তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তাঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদ সর্বদিকে বিস্তারিত। তিনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা অভিধায় ভূষিত। এই মহান শিল্পীদেব, দেবতাদের পুষ্পক রথের নির্মাতা, অস্ত্রশস্ত্রের স্রষ্টা, শ্রীবিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিবের ত্রিশূল, লক্ষ্মীর কোষাধ্যক্ষ কুবেরের কুবের পাস, কার্তিক বল, লঙ্কা নগরী, পঞ্চপান্ডবের ইন্দ্রপ্রস্থ নগরী তৈরি এবং শ্রী ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ জগন্নাথের বিগ্রহ নির্মাতা ।

মহালয়ার সকালে তর্পন – চিরায়ত পরম্পরার রীতিআরও জানতে ক্লিক করুন …

প্রত্যেক বছরের মতো এবারও বিশ্বকর্মা পূজা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উদযাপিত হবে। বিশ্বকর্মা পুজোর তিথি সূর্যের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এই সময় অনুযায়ী সূর্য যখন সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশ করে তখন হয় কন্যা সংক্রান্তি। সেই দিনই হয় এই বিশ্বকর্মা পুজো। শাস্ত্রীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২০ সালের বিশ্বকর্মা পুজো পড়েছে ১৬ই সেপ্টেম্বর। ফলে চেনা ছকের ১৭ই সেপ্টেম্বর এবারের বিশ্বকর্মা পুজো হচ্ছে না। সেই দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যে ৭:২৩ মিনিট নাগাদ বিশ্বকর্মা পুজোর সময়কাল।

১৫১ বছর পর কাল সর্পদোষ কাটছে কার কার ? – আরও জানতে ক্লিক করুন …

তিনি দেবতা কৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা শহরটি সুনিপুন ভাবে নির্মাণ করেছিলেন। বিশ্বকর্মার ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে তিনি এই বিশ্বের সকল কর্মের প্রধান সম্পাদক। তিনি সব ধরনের শিল্পের প্রকাশক। শিল্পবিদ্যায় বিশ্বকর্মার আছে একচ্ছত্র অধিকার। তিনি নিজেই চতুঃষষ্টিকলা, স্থাপত্যবেদ ও উপবেদের প্রকাশক। তাঁকে স্বর্গীয় ছুতারও বলা হয়। বিশ্বকর্মার কন্যা সজ্ঞাকে সূর্য্যের সঙ্গে বিবাহ দেন। সজ্ঞা সূর্য্যের প্রখর তাপ সহ্য করতে পাছিলেন না, তাই বিশ্বকর্মা শান চক্র স্থাপন করে সূর্যের উজ্জ্বলতার এক অষ্টমাংশ কর্তন করেন। এই কর্তিত অংশ পৃথিবীর ওপর পতিত হলে উক্ত অংশের দ্বারা বিশ্বকর্মা দেবতাদের জন্য বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করেন।

                           বিশ্বকর্মা পূজার ধ্যানমন্ত্র: 
                      দংশপালঃ মহাবীরঃ সুচিত্রঃ কর্মকারকঃ।
                      বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃকতঞ্চ বাসনামানো দণ্ডধৃক।।
                              ওঁ বিশ্বকর্মণে নমঃ।

                              বিশ্বকর্মার প্রনাম মন্ত্র:
                       দেবশিল্পি মহাভাগ দেবানাং কার্য্যসাধক ।
                         বিশ্বকর্মন্নমস্তুভ্যং সর্বাভীষ্টপ্রদয়ক ।।

কলকারখানায় শ্রীবৃদ্ধির জন্য ভগবান বিশ্বকর্মাকে ভক্তি ভরে পুজো করা হয়। স্বর্ণকার, কর্মকার , দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিরা কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। তবে এটি সাধারণত যন্ত্রের প্রতিষ্ঠানে পালিত হয়। এই দিনে অফিস বা কারখানার কর্মচারীরা কারখানা এবং অফিস পরিষ্কার করেন। বিশ্বকর্মা পূজা করার জন্য সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তোলেন। গাড়ি মোটর বা মেশিনগুলি ধুয়ে পরিষ্কার করে , ঘর পরিষ্কার করবেন। পূজার সমস্ত উপকরণ ও পাশাপাশি যন্ত্রপাতিগুলি পূজার স্থানে রাখতে হয়। স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে বসুন। হাতে ফুল, দূর্বা, বেলপাতা ও চাল নিয়ে পূজার মন্ত্র পড়ে ফুল ছিটিয়ে দিন। প্রসাদ বিতরণ করে মেতে উঠুন ঘুড়ি উড়াতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *