US & Bangladesh Defence Pact is Possible

US & Bangladesh:প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (US & Bangladesh) লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

একটা স্বপ্নপূরণের আশা তৈরী হতে চলেছে বাংলাদেশে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল (US & Bangladesh) লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের অর্থ ও ক্ষমতা দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে বাংলাদেশ। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ এখন বিশ্বাস করে যে, উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সামগ্রী ক্রয় করার সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের। এখন দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে নিয়মিত প্রতিরক্ষার বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে। গত ৮ই এপ্রিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মর্গান অর্টাগাস জানান, ‘বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও দেশটির সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।’ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনের পাশাপাশি নিরাপত্তা অংশীদারত্বের সাফল্যকে বিবেচনার মধ্যে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়টি বিভিন্ন স্তরের আলোচনায় জোরের সাথেই তুলছে।

তবে কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশের সাথে হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করাটা ঠিক হবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কোনো অঙ্গীকার দেশের স্বার্থের জন্য কতটা লাভ বা ক্ষতি, সেটা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পম্পেও গত বছরের জুনে বাংলাদেশের সমুদ্র নিরাপত্তার জন্য চার কোটি ডলার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঘোষণা করেন।এই অর্থ ব্যয়ের প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনার বাস্কেট বাড়ানোর তাগিদ বাংলাদেশের আছে। এর আগে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফ্রিগেট ক্রয় করেছে।

বাংলাদেশ তার আর্থিক সামর্থ্য প্রদর্শনের পর অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে। কারণ, তারা এখন বিশ্বাস করে যে, ঢাকা উন্নত ও মানসম্পন্ন পণ্য ক্রয়ের ক্ষমতা রাখে।২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে সোফা বা স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস অ্যাগ্রিমেন্ট প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি আর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র কেন, কোনো দেশকেই এ ধরনের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। এ আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সই হয়নি। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সামরিক সামর্থ্য, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর দিক থেকে এ ধরনের চুক্তি করতে কোনো সমস্যা নেই। তবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেভাবে বাড়ছে সেখানে যেন চুক্তির সময় বাংলাদেশের অবস্থান জোরালো থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *