2014 Khagragarh Blast Case Verdict

Khagragarh Blast Case: অভিযুক্তদের সাজা ঘোষণা

কলকাতা

খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে (Khagragarh Blast Case) সাব্যস্ত উনিশ জনের সাজা ঘোষণা করছে নগর দায়রা আদালত।

খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে (Khagragarh Blast Case) সাব্যস্ত উনিশ জনের সাজা ঘোষণা করছে নগর দায়রা আদালত। জানা যাচ্ছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত আলিমা এবং গুলশনরা বিবির ছ’ বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। এদের দুজনের অতীত অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই। এছাড়া রহমতুল্লা, সইদুল ইসলাম, মহম্মদ রুমেলের দশ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। রহমতুল্লার ক্ষেত্রে কুড়ি হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সাথে আব্দুল হাকিম, রেজাউল করিম, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, শাহাদুল আলমদের আট বছরের সাজা ঘোষণা করেছে আদালত। এদের কুড়ি হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাবাসের সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যেকের সঙ্গেই বিচারপতি আলাদা ভাবে কথা বলেন। সবাই সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন বিচারপতির কাছে।

তদন্তে নেমে এনআইএ এখনও পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে ১৯ জন সম্প্রতি বিচারকের কাছে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন নিজেদের দোষ কবুল করে নেয়। সেই ১৯ জনেরই এ দিন সাজা ঘোষণা করবে নগর ও দায়রা আদালত। মামলার চার্জ গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে। এনআইএ সূত্রে খবর, মোট ৮০০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে গোটা পর্বে। বিস্ফোরণের পিছনে থাকা নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর যে শীর্ষ নেতারা এই কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছে সেই কদর গাজি, কওসর ওরফে বোমা মিজান, ডালিম শেখ, ইউসুফ শেখরা যদিও দোষ স্বীকার করেনি।

২০১৪ সালে ২রা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন দুপুরে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে বর্ধমানের খাগড়াগড়। তদন্ত থেকে সামনে আসে জঙ্গিযোগ। জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি যে এরাজ্যে তাদের জাল বিস্তার করেছে তা পরিস্কার হয়। প্রথমে জেলা পুলিশ এবং সিআইডির উপরে থাকে এর দায়িত্বভার। তবে ঘটনার আটদিনের মাথায় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তভার নেয় এনআইএ। তারপরেই গ্রেপ্তার করা হয় ৩১ জনকে। সকল ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারায় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪১৯ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অশান্তি তৈরির চেষ্টা-সহ বিস্ফোরক আইন, অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। প্রথম চার্জশিট ফাইল হয় ৩০শে মার্চ, ২০১৫ সালে। মামলার চার্জগঠন ১৬ই জুলাই, ২০১৬ সালে ও আইনি পর্ব শুরু হয় ১৩ই জুলাই, ২০১৭ সালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *