Chennai Blackmail With Nude Pic and Video of 600 Women

Blackmail With Nude Pic and Video: চাকরির নামে ধোকা

কলকাতা

১৬টি রাজ্যের ৬০০ মহিলার নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি। আর ব্ল্যাকমেল (Blackmail With Nude Pic and Video)? সে তো অন্য কাহিনী ।

“যার নাম নারী, তার চলন বেঁকা” কিন্তু এখানে তো দেখা যাচ্ছে অন্য কিছু। একটি ভুয়ো জব এজেন্সী খুলে দেদার কালো ব্যবসা চালাচ্ছিলেন (Blackmail With Nude Pic and Video) একটি নামজাদা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার এক সফ্‌টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। পাঁচতারা হোটেলে লোভনীয় চাকরির টোপ দিয়ে চলছিল সদস্য সংগ্রহ। আর এই কারণেই বিভিন্ন রাজ্যের মহিলা আবেদনকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছিল তাঁদের নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো।

কিন্তু চমক এখানেই শেষ নয়, সেই সব নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে, ঐসব মহিলা আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমানে টাকা আদায় করা হচ্ছিলো। এই ভাবেই ১৬টি রাজ্যের ৬০০ মহিলার নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে পুলিশ দাবি। আর ব্ল্যাকমেল ? সে তো অন্য কাহিনী ।

চেন্নাই শহরে ওই ভুয়ো লোক নিয়োগের অফিস খুলেছিলেন ক্লেমেন্ট রাজ চেঝিয়ান ওরফে প্রদীপ। এই প্রদীপ কর্মরত ছিল একটি নামজাদা সফ্টওয়ার কোম্পানিতে । বেশির ভাগ সময়ই তাঁর থাকত নাইট শিফ্ট। আর তার সুযোগ নিয়েই তিনি এই সব ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ রচনা করতেন বলে পুলিশ -এর মত। চেন্নাইয়ের এক স্থানীয় মহিলা আবেদনকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবারাবাদ পুলিশ ক্লেমেন্ট ওরফে প্রদীপকে তাঁর চেন্নাইয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আজই হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সূত্র বলছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই ব্ল্যাকমেল করার ব্যবসা চালাচ্ছিলেন প্রদীপ। এই কাজে তাকে নাকি একজন মহিলা সবসময় সাহায্য করতেন । ফাইভ ষ্টার হোটেলে চাকরির টোপ দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রদীপ প্রায় ১৬টি রাজ্যের ৬০০ মহিলা আবেদনকারীর কাছ থেকে তাঁদের নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের মিয়াপুর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এস রবি কুমার বলেছেন, ‘‘যে গ্যাজেটগুলি উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলিকে পাঠানো হয়েছে ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে।’’

অভিযুক্ত এই ইঞ্জিনিয়ার পুলিশের কাছে তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। জানা যাচ্ছে, মহিলা আবেদনকারীদের কাছ থেকে তাঁদের মোবাইল ফোনের নম্বরও সংগ্রহ করতেন। এও জানিয়েছেন, তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে মহিলা আবেদনকারীরা ইতিমধ্যেই নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো পাঠিয়েছেন।

পাঁচতারা হোটেলের কর্মীনিয়োগ ম্যানেজার হিসাবে পরিচয় দিয়েই মহিলা আবেদনকারীদের কাছ থেকে ফোন নম্বর চাইতেন। তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। পরে তাঁদের ডেকে পাঠাতেন দ্বিতীয় পর্যায়ের একটি ইন্টারভিউয়ে। সেই সময় তাঁকে সাহায্য করতেন আর এক মহিলা, যার নাম অর্চনা জগদীশ।

এক তদন্তকারী পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইন্টারভিউয়ের পরেই সম্পূর্ণ অচেনা একটি ফোন নম্বর থেকে ক্লেমেন্ট হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠাতেন মহিলা আবেদনকারীদের। সেই মেসেজেই তিনি তাঁদের নগ্ন ছবি ও ভিডিয়ো পাঠাতে বলতেন। তার কারণ হিসাবে বলতেন, কাজটা একেবারে সামনে থেকে করতে হবে বলে, লোকজনের সঙ্গে মিশতে হবে বলে পাঁচতারা হোটেল কর্তৃপক্ষ যাঁদের নিয়োগ করবেন, তাঁদের ফিগার কেমন, তা-ও জেনে-বুঝে নিতে চান। এরপর ওই মহিলা আবেদনকারীদের ভিডিয়ো কল করতেন ক্লেমেন্ট। কলের মধ্যেই তাঁদের পোশাক খুলে দেখাতে বলতেন। সেই সময়েই তিনি আলাদা একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই ভিডিয়ো কল রেকর্ড করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *