Electric Busses In Kolkata

কলকাতায় চালু হলো ইলেক্ট্রিক বাস – Electric Busses in Kolkata Street

কলকাতা

কলকাতা শহরের দূষণ ধীরে ধীরে কমাতে শহরে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সিএনজি চালিত বাসের ভাবনা রয়েছে সরকারের।

একসময়ের গর্বের তিলোত্তমা কলকাতা, আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে| কলকাতা শহরের দূষণ ধীরে ধীরে কমাতে শহরে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সিএনজি চালিত বাসের ভাবনা রয়েছে সরকারের। আসলে আমাদের শহরকে পরিবেশ বান্ধব করে তুলতে এক সময় মহানগরীর রাস্তায় অটোরিকশার পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা বা টোটো চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারপর কলকাতার রাস্তায় অগণিত টোটো নেমেও ছিল। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এলাকায় টোটো নিষিদ্ধ করে দেওয়ায়, সেই দূষণের অটোরিকশারই বাড়বাড়ন্ত এখন শহরের সব প্রান্তে।

আমাদের কলকাতা শহরে প্রতিদিন যত অটোরিকশা চলে তার বড় একটা অংশই বেআইনি। আইনি ও বেআইনি মিলিয়ে মহানগরীর বুকে এখন কমবেশি ২০,০০০ অটো চলে সেগুলো ফোর স্ট্রোক এবং গ্যাস চালিত অটো। আসলে ডিজেল অটোর চেয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলোতে পরিবেশ অনেকটাই কম দূষিত হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কলকাতা শহর জুড়ে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ ডিজেল গাড়ি অর্থাৎ বাস ও লরি চলাচল করে। এই ডিজেল চালিত যানবাহনগুলো শহরকে দূষিত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের রাজধানী নয়া দিল্লি এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। কলকাতা এর খুব কাছে চলে এসেছে| পৃথিবীর দূষিত শহরগুলোর মধ্যে কলকাতা এখন ১০ নম্বরে রয়েছে।

তাই রাজ্যের রাজধানী শহরের বায়ুদূষণ কমাতে বুধবার থেকে কলকাতায় শুরু হচ্ছে ইলেক্ট্রিক বাস পরিষেবা। জানা যাচ্ছে প্রথম পর্যায়ে চালু হবে মাত্র কুড়িটি বাস। আসতে আসতে মোট আশিটি বাতানুকূল বাস। এই সব ক’টি বাসই চলবে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের অধীনে। প্রথম পর্যায়ে যে সুন্দর বাসগুলি এসেছে, সেগুলি বত্রিশ আসনের। জানা গেছে, ভবিষ্যতে চল্লিশ আসনের বাসও আসবে।

তবে পরিবহণ দফতরের সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বাসে উঠলেই ন্যূনতম কুড়ি টাকা ভাড়া দিতে হবে। যদিও এখনও সব বাসের রুট চূড়ান্ত না হলেও প্রথম পর্যায়ে নবান্ন থেকে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার পর্যন্ত কয়েকটা বাস চালানো হবে। এছাড়াও দমদম বিমানবন্দর থেকেও বিভিন্ন রুটে বেশ কিছু বাস চলবে। এর মধ্যে কয়েকবার বাসের সফল ট্রায়াল রান হয়েছে।

আধুনিক এই বাস চালানোর জন্য পরিবহণ দফতরের পক্ষ থেকে কিছু চালকদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বাসে চার্জ দেওয়ার জন্য নোনাপুকুর-সহ পরিবহণ দফতরের বেশ কয়েকটি ডিপো, নবান্ন এবং শহরের কয়েকটি জায়গায় থাকবে এই বিশেষ চার্জিং পয়েন্ট। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে কমবেশি একশো কিলোমিটার চলতে পারবে বাসগুলি। চার ঘণ্টা ও দু’ ঘণ্টার ভিত্তিতে দুইপ্রকারে চার্জের সময় লাগবে। এই ৩২ আসনের বাসগুলির দাম প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা ও ৪০ আসনের দাম প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা। পরিবেশবান্ধব এই বাসগুলির দামের একটা বড় অংশ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। আশা করা যায়, পরিবেশ-বান্ধব হওয়ার পথে এই যান, যথেষ্ট সদর্থক ভূমিকা নেবে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *