Madan Mitra is Matal According to Google

মাতাল মদন মিত্র ! একি বলছে গুগল !

পশ্চিমবঙ্গ

গুগলে ‘Madan Mitra” লিখে সার্চ করলেই ওনার উইকিপিডিয়াতে ওনাকে মাতাল বলে দেখাচ্ছে গুগল।

মুখমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর খুব ঘনিষ্ঠ থাকা মদন মিত্র রাজনীতির ময়দানে প্রচুর নাম কামিয়েছিলেন। এরপর সারদা কাণ্ডে জেলে ঢোকার পর থেকেই মমতা ব্যানার্জীও ওনার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন । এমনকি আগের বছর ২১ জুলাই, শহীদ দিবসের দিন মমতা ব্যানার্জীর সভাতেও জায়গা পাননি তিনি। তখন ওনাকে সময় কাটাতে হয়েছিল মঞ্চের পাশে বসে ।

তাতেও দমে যাননি দক্ষ রাজনীতিবিদ মদন মিত্র। ধীরে ধীরে আবার রাজনীতিতে নিজের ক্যারিশমা দেখানোর জন্য তৃণমূলের হয়ে নিজের এলাকায়, একের পর এক ছোট খাট সভা করতে থাকেন । কিন্তু সেখানেও মমতা ব্যানার্জীর স্নেহ অর্জন না করতে পেরে, শেষমেশ ফেসবুকের সদব্যাবহার করা শুরু করলেন তিনি।দিদির ভালোবাসা ফেরত পাওয়ার জন্য মদন মিত্র পুরো প্ল্যানিং করে তৈরী ।

রোজ দিনে পালা করে দু থেকে একবার ফেসবুক লাইভে আসতে শুরু করেন। এরপর তিনি রাজনৈতিক দিক না হলেও, অরাজনইতিক দিক থেকেই হার্টথ্রব হয়ে ওঠেন আবার। লাইভে আসছি পাঁচ মিনিটে … এই কথাটা লিখে তিনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে স্ট্যাটাস দিতেন।

আর লাইভে আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওনার লাইভ দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জমা হয়ে যেত। আর এর সিংহ ভাগই ছিল বাংলার তরুণীরা। অনেক তরুণীই মদন মিত্রকে লাইভ চলাকালীন প্রপোজ ও করেছেন, লজ্জাও পেয়েছেন মদন দা । কিন্তু মদন মিত্র সেসবে নজর না দিয়ে নিজের কাজ নিজে করে গেছেন কেবলমাত্র দিদির স্নেহ ফিরে পাওয়ার জন্য ।

ফেইসবুক লাইভে এসে কখনো তিনি নিজেকে নেতাজী আবার কখনো ভগবান শ্রী কৃষ্ণের সাথে তুলনাও করেছেন। এরপর ওনার এই জনপ্রিয়তা দেখে মমতা ব্যানার্জী ওনার উপর আস্থা রেখে ভাটপাড়ার বিধানসভার উপনির্বাচনে ওনাকে আবার প্রার্থী করেন। কিন্তু সেখানে বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অর্জুন সিং এর জনপ্রিয়তার সামনে মুখ থুবড়ে পড়েন বারবার। বোমা থেকে গুলি সবকিছুর সামনাসামনি হতে হয়েছে তাকে ।

বিধানসভা উপ নির্বাচনে হারার পর আর ফেইসবুক লাইভে দেখা যায়নি মদন মিত্রকে। কিন্তু লাইভে না এসেও তিনি আবারও জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গেলেন গুগলের দৌরত্বে । গুগলে ‘Madan Mitra” লিখে সার্চ করলেই ওনার উইকিপিডিয়াতে ওনাকে মাতাল বলে দেখাচ্ছে গুগল। ওনাকে এরকম মাতাল বলে দেখানোর কারণে সবাই ওনার নাম লিখে গুগলে সার্চ করছেন। আর এই করে উনি এখন ফেসবুক ছেড়ে গুগলেও জনপ্রিয়তা হাসিল করে নিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *