অপারেশন করে পেটের মধ্যে কাঁচি রেখে চলে গেলেন ডাক্তারবাবু

অপারেশন করে পেটের মধ্যে কাঁচি রেখে চলে গেলেন ডাক্তারবাবু

রাজ্যের খবর

শিক্ষিত, সচেতন, দায়িত্ববান মানুষরাই যেন দ্রুতগামী কালের নিয়মে নিজেদেরকে বেহিসাবি ছোটাতে গিয়ে, চরম ভুল করে ফেলছেন|

অসম্ভব বলে কিছু নেই| শিক্ষিত, সচেতন, দায়িত্ববান মানুষরাই যেন দ্রুতগামী কালের নিয়মে নিজেদেরকে বেহিসাবি ছোটাতে গিয়ে, চরম ভুল করে ফেলছেন| অসহায়ের মতো ভুগতে হচ্ছে অগণিত অসুস্থ মানুষকে| যাদেরকে আমরা সৃষ্টিকর্তার সমার্থক হিসাবে ভাবি, শ্রদ্ধা করি- তাদের একটা অংশ এই জায়গা থেকে দাপটের সাথে অন্যায় করে যাচ্ছেন, শুধু অর্থের জন্য| গুটিকয়েক ডাক্তার তাদের জীবনকে আরো বিলাসের করতে, অনেকের জীবন শেষ করে দিচ্ছেন খুব সহজেই এবং নীরবে|

এক মহিলা তিন মাস আগে জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য হসপিটালে ভর্তি হন। কাটাকুটি সেরে, একটু ভালো হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি হয়ে বাড়ি যান| কিন্তু বাড়ি যাওয়ার পর থেকেই তিনি পেটের মারাত্মক যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। আসলে সেই সুচিকিৎসক(কু) ভুল করে পেটের মধ্যে ডাক্তারি ছুরি-কাঁচি রেখেই সেলাই করে হাত ধুয়েছিলেন| মাস খানেক পরে এক্স রে করাতে রোগিনীর পেটের ভিতরে ধরা পড়ল অবহেলার এই কর্মকান্ড। দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদের একটি হাসপাতালে তিনমাস আগে অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হয়েছিলেন ওই মহিলা। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের সময় ডাক্তারির বিশেষ কাঁচি বা ফরসেপ রোগিনীর পেটের ভিতরেই রেখে সম্পূর্ণ ভাবে ভুলে যান। গত তিন মাস ধরে সেই রোগিনী ওই ফরসেপ বয়ে বেড়াচ্ছেন পরম মমতায়।

হায়দরাবাদের বিখ্যাত নিজাম ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ৩৩ বছর বয়সী এই মহিলা তিন মাস আগে অস্ত্রোপচারের জন্য ভর্তি হন। এক্স রে রিপোর্ট দেখেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর আত্মীয়দের এবং কুশলী চিকিৎসকদেরও। ওই রিপোর্টেই দেখা যায় মহিলার পেটের মধ্যে রয়েছে দিব্যি ঘুমিয়ে আছে একটি ডাক্তারি শানিত কাঁচি। অবস্থা বুঝে অবিলম্বে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফের অস্ত্রোপচার করে ওই যন্ত্রটি বের করে আনা হয়। এনআইএমএসের পরিচালক কে মনোহর এনডিটিভিকে বলেন, “রোগী আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা রোগীর স্বাস্থ্য সমস্যা মিটিয়ে দিতে ওই উপকরণটি বের করে দিচ্ছি।”

পূর্বের অস্ত্রোপচারটি করেছিলেন সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি বিভাগের একজন প্রখ্যাত শল্য চিকিৎসক। হাসপাতালের তরফে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি বলেন। জানা গেছে পুলিশের কাছে, দু’জন ডাক্তারের বিরুদ্ধে ওই মহিলার স্বামী অভিযোগ দায়ের করেছেন। ক্রেতা সুরক্ষা আদালতও এই অবাক করা বিষয়টি দেখছে।
সব আইনের পথ দেখা শেষ হলেও কি ঘুম ভাঙবে ওই গুটিকয়েক অন্য ধারার ডাক্তারদের? ডাক্তারের শাস্তি জুটবে কিনা জানা নেই| পাশে দাঁড়িয়ে অনেকেই বলবেন, ভুল তো মানুষেরই হয়! এই ভুল তা যদি তার বাড়ির করো হতো বা সেই ডাক্তারের?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *