Is it possible to boycott Chinese products in India?

চাইনিজ পণ্য বর্জন ভারতে কি সত্যিই সম্ভব ?

ব্যবসা

আজও আমরা বিদেশী পণ্য ও সংস্কৃতির জালে আবদ্ধ। ব্রিটিশ গেছে, এখন চীন। দেশ জুড়ে আবার রব উঠলো, চাইনিজ পণ্যের বিকল্প (Boycott Chinese products) …

নিজস্ব প্রতিবেদন: মনে পড়ে যায় স্বাধীনতাত্তর ভারতের স্বদেশী আন্দোলনের কথা। বিদেশী পণ্য বর্জন করতে হবে, আর বাঁচাতে হবে স্বদেশী প্রযুক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতি। এরপর ৭০ বছরেরও বেশি কেটে গেছে স্বাধীনতার। কিন্তু আজও আমরা বিদেশী পণ্য ও সংস্কৃতির জালে আবদ্ধ। ব্রিটিশ গেছে, এখন চীন। দেশ জুড়ে আবার রব উঠলো, চাইনিজ পণ্যের বিকল্প (Boycott Chinese products) খোঁজার।

কয়েকদিন আগেই প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনলক ফেজ ওয়ান চালু করবার সময় কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিল, বেশি করে স্বদেশী পণ্যের ব্যাবহার। বলেছিলেন, “লোকালকে নিয়ে আরও ভোকাল হতে হবে”। আর এই শুনেই কি রেগে গেলো ড্রাগনের দেশ ? উত্তরটা কিন্তু অধরা। তবে মুখোমুখি থেকে হাতাহাতি বাঁধতে কিন্তু খুব বেশি সময় লাগেনি। প্রেক্ষাপট যে লাদাখ, অনেক প্রশ্ন সেখানেও।

Symbolic protest to boycott Chinese products in Delhi
Symbolic protest to boycott Chinese products in Delhi

বিগত সোমবার দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানান, “আত্মনির্ভর ভারত গড়তে একটু বেশি দাম পড়লেও, দেশি পণ্য কেনা জরুরি”। চিনকে নিশানায় রেখে তিনি আরও বলেন, “উন্নত মানের পণ্যও কেনা উচিত ভারতের”। এ দিন দিল্লির করোলবাগে চিনা পণ্য বর্জনের দাবিতে প্রতীকী ভাবে আগুন ধরায় খুচরো ব্যবসায়ীদের সংগঠন সিএআইটি। সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ খন্ডেলওয়ালের দাবি, “চিনকে শিক্ষা দিতে তাদের পণ্য বর্জন করুন দেশবাসী”

Minister of Railways and Commerce Piyush Goyal

এহনো উপদেশের অভাব মিলবেনা দেশ জুড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চাইনিজ পণ্য বর্জন করলে কি সব সমাধান হবে ? এতে বেজিং আরও রাগ উগরাতে পারে। আর সবথেকে বড় বিষয় হলো ভারতের অধিকাংশ কোম্পানির কাঁচামাল চীন থেকেই আসে। যার বিকল্প মেলা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে চাইনিজ স্মার্ট ফোনের বিক্রি কিন্তু কমেনি বরং আনলক সময়কালীন রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে আরও বেড়েছে।

[ আরও পড়ুন ] মুকেশ আম্বানি বিশ্বের ৯ নম্বর ধনী

চিৎকার চেঁচামেচি না করে আমাদের আগে উচিত হবে চীন থেকে ভারতে আসা কোম্পানিগুলিকে বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়ার। এর ফলে ফরেন রিজার্ভের সাথে সাথে অনুসারী শিল্পের বিকাশ ঘটবে। উদাহরণ স্বরূপ: ভারতে যে সমস্ত স্মার্ট ফোন তৈরী হয় তার বেশির ভাগ কাঁচামাল চীন থেকেই আসে। আর শুধু ফোন নয়, টিভি, ফ্রিজ, ল্যাপটপ, খেলনা, সোলার সিস্টেম এ সবের উপর চিনই ভরসা। বরং তারা হাত গুটিয়ে নিলে আমাদের দেশের টেক কোম্পানিগুলি বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

[ আরও পড়ুন ] দেশের কয়লা খনির নিলাম প্রক্রিয়া শুরু

যুব সমাজ মত্ত টিকটক ভিডিও বানাতে। অনেকেই হয়তো জানেননা যে এটিও একটি চাইনিজ প্রোডাক্ট। এছাড়া মোমো, চাওমিন খেতে কে না ভালোবাসে। আমাদের মনে রাখতে হবে চীন শুধু ব্যবসা নয়, প্রবেশ পড়েছে আমাদের গৃহে, আহারে, পোশাকে, গ্যাজেটে ও ইলেকট্রিক জগতে। আর তাই এর থেকে মুক্তি পেতে গেলে ভারতকে টেক যন্ত্রাংশ তৈরী ও বিদেশী পুঁজি আরোহণে বেশিকরে মনোনিবেশ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *