অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য ১৫ জনের দল ঘোষণা করল বিসিসিআই

গোয়েন্দার নজরে অনিকের অদ্ভুত “ভবিষ্যতের ভূত”

বিনোদন

সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমা কারও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই কোনও সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দিলো

পশ্চিমবঙ্গের দিকপাল গোয়েন্দা বাহিনী অদৃশ্য প্রেরণায় চাগিয়ে উঠে এবার “ভূতের বাড়াবাড়ি” খুঁজতে চলেছেন| পর্দার এই “অনিকিয় ভূত”, লোকসভা নির্বাচনের আগে সমস্যায় ফেলতে পারে বলে মনে করেছেন তারা| তাই রাজীব কুমার, রোজভ্যালি ফেলে, বরং গোয়েন্দার ওঝা ছুটছেন “ভূত” তাড়াতে|

সবাইকে অবাক করে সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমা কারও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই কোনও সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দিলো| ‘ভবিষ্যতের ভূত’ আটকে গেলো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আঁধারে| ইম্পা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, শনি- রবি ছুটি থাকার কারণে অনীকের ই-মেল দেখতে পারিনি। প্রচুর ব্যস্ত|

সোমবার “নবান্নের” কথা শুনে, সবটা দেখে মন্তব্য করবেন| মন্তব্য করতে চাননি কলাকুশলীদের সংগঠন ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও ( মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই )। বাম আমলে নন্দনে বন্ধ হয়েছিল ‘হার্বার্ট’, ‘ওয়ান ডে ফ্রম আ হ্যাংম্যান্স লাইফ’ ছবির প্রদর্শন। ব্রাত্য বসুর ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ এবং অর্পিতা ঘোষের ‘পশুখামার’ নাটকও বাধার মুখে পড়েছিল। অনীকের ছবির এই ঘটনা নিয়ে সেই ব্রাত্য কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি, যেমন ফোন ধরেননি অর্পিতা।

‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর জন্য সিনেমা হলের দরজা খোলার কোনও সম্ভাবনা রবিবারেও দেখা গেল না। কার নির্দেশে কেন ছবির প্রদর্শন বন্ধ রাখা হল, সেই ভৌতিক রহস্যের জট পুরোপুরি না কাটলেও এর পিছনে পুলিশ-প্রশাসনের অনেকটা ভূমিকা আছে বলে জানা যাচ্ছে। ছবির পরিচালক অনীক দত্ত এবং প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায় এ দিন একটি ই-মেল প্রকাশ্যে আনেন।

ছবিটি মুক্তি পাওয়ার দিন চারেক আগে, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি রাজ্য গোয়েন্দা শাখার এক অফিসার জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের কাছে খবর আছে, ছবিটির বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের ‘ভাবাবেগ’-এ আঘাত করে বীভৎস ‘রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে মুক্তির আগে তাঁরা ছবিটি একবার দেখতে চান। সেন্সর বোর্ডের প্রপিতামহ! উত্তরে পরিচালক জানান, যেহেতু ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে, সুতরাং গোয়েন্দাদের জন্য আলাদা স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। কারণ সেন্সর বোর্ডে পাশ হয়ে যাওয়া ছবি অন্য কাউকে দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অত্যন্ত নিন্দার ঘটনা। এটা কি ফ্যাসিস্ট দেশ?’’

জানা গেছে, অদৃশ্য এক ‘হায়ার অথরিটির নির্দেশ’-এর জন্য ভূতের কন্ঠকে আটকে দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা তিনটে নাগাদ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে উপস্থিত হন অনীক এবং এ ছবির কলাকুশলীরা। সেখানে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ হল থেকে নামিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে নাট্যকর্মীরা আগে থেকেই অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন।

সৌমিত্র চট্ট্যোপাধ্যায় খুব স্ট্রং একটা চিঠি লিখেছেন। মুম্বই থেকে সুমন মুখোপাধ্যায় মেল করেছে। পর্দার শিল্পী, দর্শক পাশে আছেন। এখানে আমরা ছবির সঙ্গে যাঁরা আছি, তাঁরা ছাড়াও আজ অনেকে এসেছেন। ‘আমরা আক্রান্ত’ থেকে অম্বিকেশ মহাপাত্র এসেছেন। তরুণ মজুমদার এসেছেন। সকলেরই এক প্রশ্ন।’’ কিন্তু কোথায় গৌতম ঘোষ, অপর্ণা সেন, সৃজিত,সুমন(কবির), সুবোধ (সরকারি), জয় গোস্বামী? একটা নিরাপদ চেয়ার পেতে, একটা সিনেমাকে এতটা ভয়?

পরিচালক অনিকবাবু বলেছেন, এক বছর ধরে এই কাজ চলছে। অনেকেরই হয়তো মনে হয়েছে এই ছবির সঙ্গে থাকব কিনা, পাশে দাঁড়াব কিনা, কিন্তু অভীকের (মুখোপাধ্যায়) মতো ক্যামেরাম্যান, অর্ঘ্যর (কমল মিত্র) মতো এডিটর, দেবুর (দেবোজ্যোতি মিশ্র) মতো মিউজিক ডিরেক্টর সাথে ছিল বলেই কাজটি শেষ করা গেছে| কিন্তু প্রথম দিনই অতি ভ্যাগ্যবান যাঁরা সিনেমাটি দেখেছেন, তারা বলেছেন, আসলে পরিচালক তাঁর ছবিতে বুঝিয়েছেন, কিছু মানুষ তাঁদের কাজ, চিন্তাভাবনা বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য জীবিত অবস্থাতেই কোণঠাসা হয়ে যান এই সমাজে।

হাসির ছলে দেখিয়েছেন, শাসক-ক্ষমতা বা সমসাময়িক কু-নীতির দিকে যে বা যাঁরা আঙুল তুলেছেন তাঁরাই অবশেষে পঞ্চভূতে বিলীন হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, মাচা থেকে মঞ্চ, হোক কলরব—সমকালীন অনেক ঘটনাই অনীক রেখেছেন তাঁর সমৃদ্ধ চিত্রনাট্যে। পাশাপাশি এই রাজ্যে আগের লাল জমানায় ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনাও তুলে ধরা আছে এখানে। এক দর্শকদের মতে, ভূতেদের নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোটের পরিকল্পনার কথাও রয়েছে ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এ। সংস্কৃতির পীঠস্থানে বসে “তেল” হাতে, বুদ্ধিবিক্রেতারা, সামনেই আবার ২১শের জন্য বাতি জ্বালাবেন, গান গাইবেন| কিন্তু ভূতের জন্য ভাবনা নেই – কারণ সেটা তো গোয়েন্দারা ভাবছেন| রাজ্যবাসী, ঋত্বিকের মতো আর নাই বা ভাবলেন|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *