Whatsapp

ভারত থেকে বিদায় নিতে প্রস্তুত হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ – Whatsapp Ban in India 2019

গ্যাজেট

গোটা বিশ্ব জুড়ে অন্তত ১৫০ কোটি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন,আর তার মধ্যে ২০ কোটি ব্যবহারকারীই ভারতের।

দিনের বেশির ভাগ সময় যার গহ্বরে নিজেকে ঢুকিয়ে দিয়ে মনের স্বাদ মেটায়, সেই স্বাদের শিবির টাটা জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে| গতিময় সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটতে মানুষ নেটের জীবনকেই অভ্যাসের করে তুলেছে| ভালো-মন্দের পাল্লা কোন দিকে ভারী – সেসব যে ভাবতে কেউ রাজি নয়| তাই ফেসবুকের চেয়ে আরো আপন হয়ে উঠেছে হোয়াটসঅ্যাপ|

কিন্তু সেখানে আশংকার এক কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে| সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য বেশ কিছু সাহসী নতুন আইন নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। আর সে সব আইন পাশ হলে,হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষে এ দেশে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে । এই মুহূর্তে হোয়াটসঅ্যাপের অন্যতম বড় বাজার ভারত।

গোটা বিশ্ব জুড়ে অন্তত ১৫০ কোটি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন,আর তার মধ্যে ২০ কোটি ব্যবহারকারীই ভারতের।হোয়াটসঅ্যাপ সংস্থার কর্তা কার্ল উগ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ওই বিধিনিষেধে সব চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, ছবি ও খবর কথা থেকে আসছে তার উপর।

এ দিকে, হোয়াটসঅ্যাপ ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’-কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। যার অর্থ দাতা ও গ্রহীতা ছাড়া কোনও তৃতীয় ব্যক্তি সেই বার্তাটি দেখতে পারেন না। গোটা পৃথিবী ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষাকে আরও মজবুত ও নিরাপদ করতে চাইছে। ফেসবুকের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোয়াটসঅ্যাপও সেই নিয়ম মেনে চলছে। হোয়াটসঅ্যাপকে যদি নতুন আইন মেনে ভারতে ব্যবসা করতে হয়, তবে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলতে হবে। আর তা অনেকটাই অসম্ভব।

ফলে নতুন আইন আসলে ভারতীয় বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হতে পারে বলেই আশঙ্কা হোয়াটসঅ্যাপ কর্তাদের। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও মিথ্যা খবর ছড়ানো এবং তার ফলে অশান্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন সরকার। বিষয়টি থামাতে নতুন আইন বলবৎ করার কথাও ভাবা হচ্ছে। ফেসবুকেও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রথমেই বিধিসম্মত সতর্কীকরণ দিয়ে বিষয় ও বিজ্ঞাপনদাতা সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

আবার অন্য দিকে দেখা যাচ্ছে, প্রতি মাসে প্রায় ২ মিলিয়ন বা ২০ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। একসঙ্গে অনেক মেসেজ পাঠানো এবং সন্দেহজনক ব্যবহারের জন্যই ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ অ্যাকাউন্ট সরাসরি থামিয়ে দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ২০ শতাংশ অ্যাকাউন্টকে হোয়াটসঅ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করবার সময় ব্লক করা হয়েছে।সেই নম্বর ব্যবহার করে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের কাছে পাঠাতে থাকে ‘স্প্যাম’ মেসেজ। সেই সব অ্যাকাউন্টগুলিকেই খুঁজে ব্লক করতে উদ্যোগী হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর ফলে গ্রাহক সুরক্ষা বজায় থাকবে এবং ব্যবহারকারীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ একটু অস্বস্তিতে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *