Bengali poet and writer Shakti Chattopadhyay

Shakti Chattopadhyay: কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন

ইতিহাস

শক্তি চট্টোপাধ্যায় (Shakti Chattopadhyay) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, লেখক ও অনুবাদক। জীবনানন্দ-উত্তর যুগের আধুনিক কবি তিনি।

‘ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে/মানুষ ছিলো নরম,/কেটে, ছড়িয়ে দিলে পারতো।/অন্ধ ছেলে,/বন্ধ ছেলে, জীবন আছে জানলায়/পাথর কেটে পথ বানানো, তাই হয়েছে ব্যর্থ।/মাথায় ক্যারা,/ওদের ফেরা যতোই থাক রপ্ত/নিজের গলা দুহাতে টিপে বরণ করা মৃত্যু/ছেলেটা খুব ভুল করেছে শক্ত পাথর ভেঙে/মানুষ ছিলো নরম, কেটে , ছড়িয়ে দিলে পারতো।’ — “ছেলেটা”| শক্তি চট্টোপাধ্যায় (Shakti Chattopadhyay) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি কবি, উপন্যাসিক, লেখক ও অনুবাদক। জীবনানন্দ-উত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান আধুনিক কবি তিনি।

বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত এবং আলোচিত ছিলেন। ষাটের দশকে যে চারজন কবিকে হাংরি আন্দোলনের জনক মনে করা হয় তাদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অন্যতম। আজ তার শুভ জন্মদিন। ১৯৩৪সালের ২৫শে নভেম্বর তিনি আমাদের মাঝে আসেন। ১৯৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের জয়নগর মজিলপুরে দরিদ্র এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। দারিদ্রের কারণে তিনি পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। স্নাতক অর্ধসমাপ্ত রেখে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ ছাড়েন।

১৯৫৬ সালে, কবিকে তার মামার বাড়ি ছেড়ে আসতে হয়েছিল এবং তিনি তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে আল্টাডাঙ্গায় একটি বস্তিতে চলে যান। সে সময়ে তিনি সম্পূর্ণরূপে তার ভাইয়ের স্বল্প আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। আশ্চর্য এটাই, শক্তি চট্টোপাধ্যায় অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে লেখালেখিতে মনোযোগী হন। জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে তিনি উপন্যাস লেখা শুরু করলেন। ‘কুয়োতলা’ নামে তিনি প্রথম ‍উপন্যাস লেখেন। এ ছাড়া ‘স্ফুলিঙ্গ সমাদ্দার’ ছদ্মনামে গল্প লিখতেন তিনি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হে প্রেম, হে নৈশব্দ’ ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয় দেবকুমার বসুর চেষ্টায়।

তিনি দোকানের সহকারী হিসেবে সাক্সবি ফার্মা লিমিটেডে কাজ করেছেনন এবং পরে ভবানীপুর টিউটোরিয়াল হোমে শিক্ষকতা করেন। ব্যবসা করার চেষ্টাও করেন। ব্যর্থ হওয়ার পর একটি মোটর কোম্পানিতে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দেন। তিনি ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন। ১৯৬১ সালের নভেম্বরে ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে যে চারজন কবিকে হাংরি আন্দোলনের জনক মনে করা হয় তাদের মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় অন্যতম। তার কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- এ প্রেম হে নৈঃশব্দ্য (১৯৬২), ধর্মে আছো জিরাফেও আছো (১৯৬৭), সোনার মাছি খুন করেছি (১৯৬৮), অন্ধকার নক্ষত্রবীথি তুমি অন্ধকার (১৯৬৮), হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান (১৯৬৯), চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৯৭০), পাড়ের কাঁথা মাটির বাড়ি (১৯৭১), প্রভু নষ্ট হয়ে যাই (১৯৭২), সুখে আছি (১৯৭৪), ঈশ্বর থাকেন জলে (১৯৭৫) ইত্যাদি। শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৭৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮৪ সালে সাহিত্য একাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৯৫সালের ২৩শে মার্চ তিনি পরলোক গমন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *