Bengali Poet Bishnu Dey Biography

Bishnu Dey: বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কবি বিষ্ণু দে

ইতিহাস

কবি ছিলেন ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের অন্যতম অধ্যাপক ও কল্লোল যুগের বিখ্যাত সাহিত্যিক (Bishnu Dey) । ১৯৮২ সালের, ৩রা ডিসেম্বর …

নিজস্ব প্রতিবেদন:
“তোমাকেই ফুল জানি,
তোমারই শরীরে কালোত্তীর্ণ বাণী,
তোমাকেই রাখী বেঁধে দিই করমূলে
অতীত থাকুক আগামীর সন্ধানী
তাই দেখে ঐ কাল হাসে দুলে দুলে”
বাংলা সাহিত্যের এক অন্যতম কিংবদন্তি কবি বিষ্ণু দে। বাংলা আধুনিক কবিতাকে তিনি অন্যউচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। কবি ছিলেন ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের অন্যতম অধ্যাপক ও কল্লোল যুগের বিখ্যাত সাহিত্যিক (Bishnu Dey) । ১৯৮২ সালের, ৩রা ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন। আধুনিক বাঙালি কবি, গদ্যলেখক, অনুবাদক, আধুনিকতা, উত্তর-আধুনিকতা যুগ অ্যাকাডেমিক ও বিশিষ্ট্য শিল্প-সমালোচক। তিনি আধুনিক বাঙালি কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও চিমত্মাশীল ব্যক্তিত্ব।

১৯০৯ সালের ১৮ই জুলাই কলকাতায় পটলডাঙার বিখ্যাত শ্যামাচরণ দে বিশ্বাসের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের আদি নিবাস ছিল হাওড়ায়। বাবা অবিনাশ চন্দ্র দে ছিলেন একজন প্রখ্যাত অ্যাটর্নি। বিষ্ণু দে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন।

Bengali Poet Bishnu Dey Biography
Bengali Poet Bishnu Dey Biography

কলকাতার সেন্ট পল্‌স কলেজ থেকে ১৯৩২ সালে সাম্মানিক ইংরাজি বিষয়ে স্নাতক হন। ১৯৩৪ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে “MA” ডিগ্রি লাভ করেন। তারপর ১৯৩৫ সালে রিপন কলেজ বা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি কলেজে ও ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত মৌলানা আজাদ কলেজে শিক্ষকতা করেন। কিছুদিন কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজেও অধ্যাপনার কাজ করেছেন। প্রণতি রায়চৌধুরীর সঙ্গে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ২রা ডিসেম্বর তার বিবাহ হয়। ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি সাহিত্য আন্দোলনে প্রবেশ করেন। কবি বিষ্ণু দে রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতায় এক উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করেন।

[ আরও পড়ুন ] সুপারস্টার ‘আন্ডারটেকার’ WWE-কে বিদায় জানালেন

কবি বিষ্ণু দে জীবনের এক সময়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মধ্য দিয়েও সময় কাটিয়েছেন। রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের প্রতি তার ছিল স্বচ্ছ সরসতা । বাংলার লৌকিক জীবনচর্চার প্রতি অনুরাগ, গভীর অনুভূতিপ্রিয়, পুরাণ ও ইতিহাস জাগ্রতবোধ, ছন্দের সুচারু সার্থক ব্যবহার, বিচিত্র বিন্যাসে কবিতায় মিলের চমক, শব্দ প্রয়োগে নৈপুণ্যের ব্যবহার ও মানবিক বোধে নিমগ্ন ছিলেন এই আধুনিক কবি বিষ্ণু দে। তিনি, কবিএলিয়টের রচনাশৈলী এবং ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

[ আরও পড়ুন ] বাংলার যাত্রার কিংবদন্তি ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়

‘চোরাবালি’, ‘ওফেলিয়া’, ‘পদধ্বনি’, ‘জন্মষ্টমী’ ইত্যাদি কবির উল্লেখযোগ্য কবিতা। তার কবিতায় প্রথম দিকের ফ্রয়েডের ছায়া যত বেশি, কিন্তু এর পরে মার্কসের প্রভাব স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।সাহিত্যে তার অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, নেহরু স্মৃতি পুরস্কার ও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *