Bengali Poet Sukanta Bhattacharya Biography

Sukanta Bhattacharya: সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রয়াণ দিবস

ইতিহাস

বাংলা সাহিত্যের এক ক্ষণজন্মা প্রতিভার নাম সুকান্ত (Sukanta Bhattacharya)। মসি আর মগজের মেলবন্ধনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে অন্য ধারায় উর্বর করেছে।

“আমি যেন সেই বাতিওয়ালা,
সে সন্ধ্যায় রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে
অথচ নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালার সামর্থ্য,
নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার।। ”
বাংলা সাহিত্যের এক ক্ষণজন্মা প্রতিভার নাম সুকান্ত (Sukanta Bhattacharya)। মসি আর মগজের মেলবন্ধনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে অন্য ধারায় উর্বর করেছে। কবিগুরু, কাজী সাহেবের পর তার নামটাই উচ্চারিত হয়। আজ তার প্রয়াণ দিবস। তিনি ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে, কলকাতার যাদবপুর ১১৯ লাউডন স্ট্রিটের রেড অ্যান্ড কিওর হোমে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায় একটা সৃষ্টির জীবনবৃত্ত। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে নিজেকে মানুষের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সৃজনশীলতা ব্যাপ্তির দিক থেকে দীপ্ত ও সুদূরপ্রসারী।

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস ও ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল -এর জন্মদিনআরও জানতে ক্লিক করুন …

সুকান্ত ভট্টাচার্য -এর জীবনী:

পরাধীন দেশে ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট তিনি তার মাতামহের বাড়ি কলকাতার কালীঘাটের ৪৩,মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নিবারন ভট্টাচার্য ও মা সুনীতি দেবী একেবারেই সাধারণ পরিবারের মানুষ। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তার প্রথাবৃত্তিগত শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে তিনি বলিষ্ঠ হাতে কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রেসেন্ট অভিযানের নীতি আরও জানতে ক্লিক করুন …

সুকান্ত ভট্টাচার্য -এর সাহিত্য জীবন:

অল্প বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লেখেন। সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। কবির রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে দুই বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্তের সাম্যবাদী রচনা সকল মানুষকে জীবনের সন্ধান বলে দেয়।
কবিকে প্রণাম জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *