Binoy Badal Dinesh Writers Building Attack History

ঐতিহাসিক বিনয় বাদল দীনেশের রাইটার্স অভিযান

ইতিহাস

১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয়, বাদল ও দীনেশ (Benoy Badal Dinesh) রাইটার্স বিল্ডিংসে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালান। তারা সেই …

নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক গর্বের দিন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে এগিয়েছিলেন তিন অসমসাহসী বিপ্লবী। এদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা। এর নেপথ্যে ছিলেন বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংসের এক অন্য সাহসিকতার ঘটনায় জড়িত। ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয়, বাদল ও দীনেশ (Benoy Badal Dinesh) রাইটার্স বিল্ডিংসে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালান। তারা সেই সময়ের ব্রিটিশ কারাবিভাগের প্রধান অত্যাচারী ইংরেজ অফিসার এন. জি. সিম্পসনকে হত্যা করেন।

বিপ্লবী বিনয় কৃষ্ণ বসুর জন্ম ১৯০৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ও মৃত্যু ১৯৩০ সালের ১৩ই ডিসেম্বর। বিপ্লবী বাদল গুপ্তের জন্ম ১৯১২সালে ও মৃত্যু ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর। বিপ্লবী দীনেশ চন্দ্র গুপ্তের জন্ম ১৯১৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর ও মৃত্যু ১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই। সেই সময় অসংখ্য পুলিশ প্রহরী পরিবেষ্টিত দুর্ভেদ্য অফিস ছিল এই ‘রাইটার্স বিল্ডিং’। এই ভবন আক্রমণ করলে কেউ ফেরার আশা করতেন না।

Benoy Badal Dinesh Writers Building Attack History
Benoy Badal Dinesh Writers Building Attack History

তবু এই দুঃসাহসী অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন বিনয় বসু। বিনয়ের সঙ্গী হলেন দুজন নির্ভীক যুবক – দীনেশ গুপ্ত ও বাদল গুপ্ত। অল্প বয়স থেকেই প্রত্যেকেই পরিচিত ছিলেন। অল্প বয়সেই দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদেরকে নিয়োজিত করেন।

[ আরও পড়ুন ]  সুপারস্টার ‘আন্ডারটেকার’ WWE-কে বিদায় জানালেন

এই তিন বিপ্লবী একসঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণের দায়িত্ব নেন। এই তিন বিপ্লবীদের টার্গেট ছিল কারা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনরেল লে. কর্নেল সিম্পসন। তিন থাকতেন ‘রাইটার্স বিল্ডিং’-এ। জেলখানার বন্দীদের উপর পাশবিক নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত ছিল এই সিম্পসন। কুখ্যাত সিম্পসনের নাম হত্যাতালিকার শীর্ষে ছিল। ৮ই ডিসেম্বর। রাইটার্সের প্রতিটি গেটে সিপাহীদের কড়া পাহারা। অপরিচিতদের দেখলেই সমস্যা। সকাল এগারোটাতে মহাকরণের সামনে এলেন তিনজন। রাস্তা পেরিয়ে আসেন পশ্চিম গেটের সামনে। তাদের সাহেবী পোশাক দেখে কারো মনে সন্দেহ জাগেনি। প্রত্যেকের মাথায় সুন্দর টুপি আর গলায় ঝোলানো মাফলার। ইউরোপীয়দের মতো বিল্ডিগ্যের অন্দরে প্রবেশ করেন প্রতিশোধের আগুন নিয়ে।

[ আরও পড়ুন ]  খ্যাতনামা বাংলাদেশী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা

ঠিক দুপুর ১২টাতে, সামরিক পোশাক পরে তিনজন যুবক সিম্পসনের সহকারীকে ঠেলে কামরার ভিতরে প্রবেশ করেন। ঢুকেই বিনয় বলে ওঠেন ‘প্রে টু গড কর্নেল। ইওর লাষ্ট আওয়ার ইজ কামিং।’ সাথে সাথে তিনটি রিভলবার হতে ছয়টি গুলি সিম্পসনের দেহ ভেদ করে। সিম্পসন লুটিয়ে পড়ে মেঝের উপর। তারপর গুলির আঘাতে আহত হন জুডিসিয়েল সেক্রেটারী মি. নেলসন। জুডিসিয়েল সেক্রেটারী মি. নেলসন, মি. টয়নয় প্রমুখ অনেক ইংরেজ একে একে আহত হলেন। তিনজন বিপ্লবী একটি ফাঁকা ঘরে ঢুকে ‘সায়নাইড‘-বিষের পুরিয়াগুলি মুখে দেন। এর সাথে প্রত্যেকেই নিজেদের কপাল লক্ষ্য করে রিভলবারে রাখা শেষ গুলিটি ছুঁড়ে দিলেন।

বাদল সেখানেই মারা যান। বিনয় হাসপাতালে থাকা অবস্থায় মস্তিষ্কের ‘ব্যাণ্ডেজে’র ভিতর অঙ্গুল ঢুকিয়ে মৃত্যুকে বরণ করে নেন। এরপর ১৯৩১ সালের ৭ই জুলাই দীনেশের ফাঁসি কার্যকর হয়। এই বিনয়-বাদল-দীনেশের নামানুসারে কলকাতার ডালহৌসি স্কয়ারের নাম রাখা হয় বি-বা-দী বাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *