Biography and History of Rani of Jhansi Lakshmibai

Rani of Jhansi: ঝাঁসির রানী লক্ষ্মী বাঈয়ের প্রয়াণ দিবস

ইতিহাস

ভারতের ইতিসাসে এক ব্যতিক্রমী নারী (Rani of Jhansi) শক্তির আধার হিসাবে তাকে স্মরণ করা হয়। অবলার তকমা সরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অগণিত …

নিজস্ব প্রতিবেদন: অসীম সাহস , দীপ্ত মানসিক শক্তি, হার না মানা হার নিয়েই এই মহিলা বিখ্যাত। ভারতের ইতিসাসে এক ব্যতিক্রমী নারী (Rani of Jhansi) শক্তির আধার হিসাবে তাকে স্মরণ করা হয়। অবলার তকমা সরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন অগণিত ভারতীয়ের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। ধর্ম ও বর্ণের বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের প্রতি ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন।

পুরুষের পোশাক পরে মমতাময়ী অথচ বীরাঙ্গনা এক ‘মা’ ছিলেন এই অবিস্মরণীয় ভারতীয় নারী। সেই অসমসাহসী বীরাঙ্গনার নাম ‘ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ’। ইতিহাস আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রেখেছে এই অতুলনীয় নেত্রীকে। স্বাধীন ভারত প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বে রেখেছিলেন তার অসামান্য অবদান। সেটিই ছিল স্বাধীনতাকামী ভারতবর্ষের মানুষের প্রেরণার উৎস।

Jhansi Rani Lakshmibai in Movie
Jhansi Rani Lakshmibai in Movie

জন্ম ও পরিবার:

আজও চেনা পাঠ্যসূচি থেকে বার হয়ে তিনি আমাদেরকে দেশত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের অন্যতম প্রতিমূর্তি ও পথিকৃৎ হয়ে আছেন তিনি। ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মী বাঈ এর জন্ম ১৮২৮ সালের ১৯শে ডিসেম্বর। ভারতবর্ষের ইতিহাসে অন্যধারার বিপ্লবী হিসেবে চিরস্মরণীয় তিনি। তার প্রকৃত নাম ছিল “মণিকর্ণিকা” এবং ডাক নাম “মনু”।

দক্ষিণ আমেরিকার এক সংগ্রামের উৎসেচক চে গুয়েভারা – আরও জানতে ক্লিক করুন …

মহারাষ্ট্রের মারাঠী করাডে ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ‘মরুপান্ত তাম্বে’ ও মা ‘ভাগীরথী বাঈ তাম্বে’। মাত্র চার বছর বয়সেই তিনি মাকে হারান। একেবারে পারিবারিক পরিবেশে থেকে, নিজের বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষালাভ করেন লক্ষ্মী বাঈ। তার বাবা বিথুরের পেশোয়া আদালতে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন মহারাষ্ট্রীয় ব্রাহ্মন আবার পেশায় রাজপুরোহিত।

আত্মরক্ষার শিক্ষা:

বাবা, লক্ষী বাঈকে “ছাবিলি” নামে ডাকতেন। অল্প বয়স থেকেই অন্যদের তুলনায় তিনি বেশি স্বাধীনতা ভোগ করতে পেরেছিলেন। চেনা ধারা বদলে, আত্মরক্ষার শিক্ষালাভের পাশাপাশি ঘোড়া চালনা, তীরন্দাজির শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন । তিনি কাছের বান্ধবীদেরকে নিয়ে নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন।

লক্ষ্মীবাঈয়ের বিয়ে ও সন্তান:

বিথুর জায়গাাটা ছিল আজকের উত্তর প্রদেশের কানপুর শহরের কাছে। বিথুরের শাসক ছিলেন রাজা বাজী রাও পেশওয়া। বিথুরের পেশোয়ার দরবারে সবার সঙ্গে মিলেমিশে খেলাধুলা করেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ১৮৪২ সালে ঝাঁসীর মহারাজা গঙ্গাধর রাও নিওয়াকরের সাথে বিয়ে হয় তার। এরপর থেকেই তিনি “ঝাঁসীর রাণী” হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

কার্ল মার্কসের জীবনের গুপ্ত ইতিহাস – আরও জানতে ক্লিক করুন …

রাণী দত্তক নেন:

১৮৫১ সালে একটি পুত্র সন্তান দামোদর রাও আসে। কিন্তু চার মাস পর ছেলেটি মারা যায়। রাজা ভয়ানক শোকগ্রস্থ ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুত্র হারার কষ্ট ভুলতে রাজা এবং রাণী “আনন্দ রাও”কে দত্তক নেন। এই আনন্দ রাও ছিলেন গঙ্গাধর রাওয়ের জ্যেঠাতো ভাইয়ের ছেলে। এই শিশুটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল দামোদর রাও। তাদের অকালে মৃত পুত্রের নামেই তার নামকরণ করা হয়!

স্বামীর মৃত্যু:

স্বামী গঙ্গাধর রাও ১৮৫৩ সালের ২১শে নভেম্বর মারা যান। আনন্দ রাওকে দত্তক নেয়ায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর সাথে জট তৈরী হয়। গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসী’র দখল স্বত্ত্ব বিলোপ নীতি সামনে আসে। ফলে তার সিংহাসন পেতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। লর্ড ডালহৌসী জানান, ঝাঁসীর সিংহাসনে প্রকৃত উত্তরাধিকারী নেই এবং ঝাঁসীকে কোম্পানীর নিয়ন্ত্রণাধীনে নেওয়া হবে।

অপমানিত লক্ষীবাঈ:

৮৫৪ সালে ঝাঁসীর রাণীর নামে বার্ষিক ৬০,০০০ টাকার ভাতা ধরা হয়। ঝাঁসীর কেল্লা ছাড়ার হুকুম জারী করা হয়। অপমানিত লক্ষীবাঈ সেই পেনশন ভাতা প্রত্যাখ্যান করেন। ব্রিটিশ আইনবিদের সঙ্গে পরামর্শ করার সিদ্ধান্ত নেন। লন্ডনের আদালতে শুনানীর জন্য মামলা ও দায়ের করেন। কিন্তু ব্রিটিশ আলাদত ভারতবর্ষের মানুষদের আবেদন শুনতে রাজি ছিলেন না। রানীর আপিল সোজাসুজি খারিজ হয়।

লক্ষ্মীবাঈ এর জীবন যুদ্ধ:

একের পর এক বিপদ সামনে আসে ঝাঁসির রাজত্বে। শুরু হয় লক্ষ্মীবাঈ এর জীবন যুদ্ধ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দামোদর রাওকে ঝাঁসি রাজ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে অস্বীকার করে। পাল্টে যায় চালচিত্র। ১৮৫৭ সালের ১০ই মে, মিরাটে ভারতীয় বিদ্রোহ ঘটে। গুজব ছড়ায়, লি ইনফিল্ড রাইফেলের আচ্ছাদনে শুকরের মাংস এবং গরুর চর্বি থাকে।

ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী রাইফেলে শুকরের মাংস এবং গরুর চর্বি ব্যবহৃত হয়। ইংরেজ জানায়, যারা সেই রাইফেল ব্যবহারে করবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে ইংরেজ। এই বিদ্রোহে সিপাহীরা অনেক ব্রিটিশ সৈন্যসহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মানুষদের হত্যা করে।

সিপাহী বিপ্লবের শুরু:

সিপাহী বিপ্লবের শুরুতেই ঝাসিঁ ছেড়ে গোয়ালিয়রে পালিয়ে চলে যেতে পারতেন। ইংরেজদের সাথে আপোস করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন। স্বার্থ ত্যাগ করে, হাতের মুঠোয় জীবন নিয়ে শেষপর্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের পথ বাছেন। তেজস্বী লক্ষীবাঈ, শেষদিন পর্যন্ত লড়াই করে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত রেখেছেন। রাজার মৃত্যুর পর একমাত্র লক্ষ্মীবাঈয়ের অধিকার ছিল ঝাঁসি শাসন করার।

ডালহৌসির আইন:

ডালহৌসির অন্যায় আইনকে দৃঢ় চরিত্রের লক্ষ্মীবাঈ মেনে নিতে পারেননি। তাই সিপাহী বিদ্রোহের দাবানল ছুঁয়ে গিয়েছিল ঝাঁসিকেও। পরিস্থিতি বুঝে লক্ষ্মী বাঈ তার বাহিনীকে নিয়ে নিরাপদে ঝাঁসী ত্যাগ করেন। সমগ্র ভারতবর্ষে প্রবল গণআন্দোলন ছড়ায়। ইংরেজের অলক্ষ্যে লক্ষ্মী বাঈ একই ঝাঁসী ত্যাগ করেন। কিন্তু তার শাসনে ঝাঁসী শান্ত ছিল। “হলদী-কুমকুম” অনুষ্ঠানে ঝাঁসীর অগণিত মহিলারা শপথ নেন।

James Andrew Broun-Ramsay known as Lord Dalhousie
James Andrew Broun-Ramsay known as Lord Dalhousie

ঝাঁসী অবরোধ:

ব্রিটিশ আক্রমণকে ভয় না পেয়ে তারা মোকাবেলা করবে। ১৮৫৮ সালের ২৩শে মার্চ, ব্রিটিশ সেনা ঝাঁসী অবরোধ করে। পিছু না হটে, লক্ষ্মী বাঈ নিজের সেনাবাহিনীকে সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেন। ঝাঁসী এবং লক্ষ্মী বাঈকে মুক্ত করতে বিশ হাজার সৈনিক । এই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অন্যতম বিদ্রোহী নেতা তাতিয়া তোপে। ব্রিটিশ সৈন্যদলে সেনার সংখ্যা ছিল ১,৫৪০ জন। তবু তাতিয়া তোপে ব্রিটিশ সৈন্যদের অবরোধ ভাঙ্গতে পারেননি।

Eminent Indian military commander Tatya Tope
Eminent Indian military commander Tatya Tope

ব্রিটিশ ঝাঁসী দখল করে:

প্রশিক্ষিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্রিটিশ সেনার সামনে সেই আক্রমণ দাঁড়াতে পারেনি। লক্ষ্মী বাঈয়ের নিজস্ব বাহিনী হার মানতে বাধ্য হয়। আক্রমণের তিন দিন পর ঝাঁসী শহরটি ব্রিটিশ সেনা দখল করে। যদিও এর আগের এক রাতে দুর্গের দেওয়াল থেকে সন্তানসহ লাফ দিয়ে লক্ষ্মী বাঈ প্রাণরক্ষা করেন। ঐ সময় তাকে ঘিরে রেখেছিল তার নিজস্ব নারী দল। আনন্দ রাওকে সাথে নিয়ে রাণী কাল্পীতে যান। সেখানে তিনি অন্যান্য বিদ্রোহী বাহিনীর সাথে মিলিত হন । তাতিয়া তোপের নেতৃত্বেও একটি বিদ্রোহী দল ছিল।

গোয়ালিয়রের কেল্লা দখল:

সুযোগ বুঝে রাণী লক্ষ্মী বাঈ এবং তাতিয়া তোপে গোয়ালিয়রের দিকে এগিয়ে যান। গোয়ালিয়রের মহারাজার দলকে পরাজিত করে। পরাজিত বাহিনীকে যৌথবাহিনীর সাথে মিশিয়ে নেন। গোয়ালিয়রের কেল্লা দখল করে সম্মিলিত বাহিনী। রাণী লক্ষীবাঈ এই সময়ে কালপি নামক একটি স্থানে নতুন করে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শিবির স্থাপন করেন। গোয়ালিয়র ও কালপিতে তার সাথে যুদ্ধ শুরু করে ইংরেজ সেনাবাহিনী। ব্রিটিশরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

Gwalior Fort
Gwalior Fort

শহীদ হন রাণী:

ব্রিটিশরা ছিল উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্রের অধিকারী এবং বিজ্ঞানকে তারা সফল ভাবে ব্যবহার করেছিল। ১৮৫৮ সালের ১৭ই জুন, ফুল বাগ এলাকার পাশে কোটাহ-কি সেরাইয়ে ব্রিটিশ সেনার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে শহীদ হন রাণী। তিনদিন পর ব্রিটিশ সেনাদল গোয়ালিয়র পুণর্দখল করে। জানা যায়, ইংরেজদের আধুনিক অস্ত্রের আঘাতেই তিনি নিহত হন।

কথিত আছে রানীকে গোয়ালিয়রের একটি তেঁতুল গাছের নীচে সমাহিত করা হয়। আবার এক গল্পও প্রচলিত আছে যে, যুদ্ধে আহত রানী অনুমান করেছিলেন ইংরেজ সেনারা তার মৃতদেহের অসম্মান করবে। তিনি এক সন্ন্যাসীকে অনুরোধ করেন, মৃত্যুর পর যেন তার দেহ গোপনে পুড়িয়ে ফেলা হয়!

ব্যক্তিগত দিনপঞ্জি:

লক্ষ্মী বাঈ সকাল পাঁচটার সময় উঠতেন। সুগন্ধি আতর দিয়ে স্নান করতেন। সাদা চান্দেরী শাড়ি পরে নিয়মিত প্রার্থনায় বসতেন। স্বামীর মৃত্যুর পরও মাথায় চুল রাখার অপরাধে জল ঢেলে প্রায়শ্চিত্ত করতেন। তুলসী পূজা করতেন তুলসীবেদিতে। সাড়ে সাতশ মানুষ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন। তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তির কারণে সকলকে মনে রাখতে পারতেন।

ভগবানের পূজা করার পর আহার করতেন। আহারের পর, এক ঘণ্টার বিশ্রাম নিতেন। সাধারণত তিনটের সময় পুরুষের পোশাকে তিনি দরবারে যেতেন। গাঢ় নীল রঙের জামা, পায়জামা ও মাথায় সুন্দর পাগড়িসদৃশ টুপি পরতেন। আর কোমরে জড়িয়ে রাখতেন একটি নকশা করা দোপাট্টা। এর পাশে থাকত মূল্যবান রত্নখচিত তলোয়ার।

স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি আর কখনো নাথ বা অলংকার পরেন নি। হাতে থাকতো হীরার বালা, গলায় মুক্তার মালা এবং কনিষ্ঠ আঙুলে হীরার আংটি। তার চুলগুলো সযত্নে পিছনে বাঁধা থাকতো। তিনি নরম বালিশে ঠেস দিয়ে কোমল গদিতে বসতেন। দরজার বাইরে সর্বদা দু’জন ভৃত্য রুপার গদা নিয়ে উপস্থিত থাকতো।

সাহিত্যে ও পর্দায়:

চেনা বৃত্তের বাইরে ছিলেন এই তেজস্বী মহিলা। প্রখ্যাত মহাশ্বেতা দেবী “ঝাঁসী কি রাণী” নামে একটি বই লিখেছেন। জর্জ ম্যাকডোনাল্ড ফ্রেজার রচিত “ফ্ল্যাশম্যান ইন দ্য গ্রেট গেম” বইতে রাণী লক্ষ্মী বাঈয়ের কথা লেখা আছে। মাইকেল ডি গ্রেসের “লা ফ্যামে সেক্রি” উপন্যাসে ঝাঁসীর রাণীর ব্যক্তিগত জীবন ধরা হয়েছে। এতে রাণী এবং একজন ইংরেজ আইনজীবির ঘনিষ্ঠতা দেখানো হয়েছে।

২০০৭ সালে জয়শ্রী মিশ্র ইংরেজি ভাষায় “রাণী” নামে একটি উপন্যাস লেখেন। জন মাস্টারের “নাইটরানার্স অব বেঙ্গল” উপন্যাসে এক ব্রিটিশ অফিসার এবং রানী লক্ষ্মী বাঈয়ের সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে।

১৯৫৩সালে “দ্য টাইগার এণ্ড দ্য ফ্লেম” ভারতে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম টেকনিকালার ফিল্ম। বিষয় ঝাঁসি রানী। ছবির পরিচালক সোহরাব মোদী। এছাড়া হয় টেলিভিশন সিরিজ “ঝাঁসী কি রাণী”। প্রখ্যাত কেতন মেহতা তৈরী করেন “দ্য রেবেল বা বিদ্রোহী”। আর ২০১৮ সালে তৈরী হয় “মণিকর্ণিকাঃ দ্যা কুইন অফ ঝাঁসি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *