Jagadhatri Puja in Chandannagar and Krishnanagar 2019

Jagadhatri Puja: কৃষ্ণনগর ও চন্দননগর ভাসছে আলোয়

ইতিহাস

উপনিষদে এঁর নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা (Jagadhatri Puja) বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত।

জগদ্ধাত্রী বা জগদ্ধাত্রী দুর্গা হিন্দু শক্তি দেবী। ইনি দেবী দুর্গার অপর রূপ। উপনিষদে এঁর নাম উমা হৈমবতী। বিভিন্ন তন্ত্র ও পুরাণ গ্রন্থেও এঁর উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও জগদ্ধাত্রী আরাধনা (Jagadhatri Puja) বিশেষত বঙ্গদেশেই প্রচলিত। জগদ্ধাত্রী দেবী ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহবাহিনী। তার হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ; গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। বাহন সিংহ করীন্দ্রাসুর অর্থাৎ হস্তীরূপী অসুরের পৃষ্ঠে দণ্ডায়মান। দেবীর গাত্রবর্ণ উদিয়মান সূর্যের ন্যায়। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকাল থেকেই বঙ্গদেশে জগদ্ধাত্রী পূজার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এই পূজার অনেক প্রথাই দুর্গাপূজার অনুরূপ।

Jagadhatri Puja in Chandannagar and Krishnanagar 2019
Jagadhatri Puja in Chandannagar and Krishnanagar 2019

জগদ্ধাত্রীর ধ্যানমন্ত্রে দেবীর যে রূপকল্পনা করা হয়েছে তা:-

সিংহস্কন্ধসমারূঢ়াং নানালঙ্কারভূষিতাম্।
চতুর্ভূজাং মহাদেবীং নাগযজ্ঞোপবীতিনীম্।।
শঙ্খশার্ঙ্গসমাযুক্তবামপাণিদ্বয়ান্বিতাম্।
চক্রঞ্চ পঞ্চবাণাংশ্চ দধতীং দক্ষিণে করে।।
রক্তবস্ত্রাপরিধানাং বালার্কসদৃশীতনুম্।
নারদাদ্যৈর্মুনিগণৈঃ সেবিতাং ভবসুন্দরীম্।।
ত্রিবলীবলয়োপেতনাভিনালমৃণালিনীম্।
রত্নদ্বীপে মহাদ্বীপে সিংহাসনসমন্বিতে।
প্রফুল্লকমলারূঢ়াং ধ্যায়েত্তাং ভবগেহিনীম্।।

মহাদেবী জগদ্ধাত্রী সিংহের স্কন্ধে আরূঢ়া, নানা অলংকারে ভূষিতা ও নাগরূপ যজ্ঞোপবীতধারিণী। দেবীর বাম হস্তদ্বয়ে শঙ্খ ও শার্ঙ্গধনু; দক্ষিণ হস্তদ্বয়ে চক্র ও পঞ্চবাণ। রক্তবস্ত্রপরিহিতা সেই ভবসুন্দরী প্রভাতসূর্যের ন্যায় রক্তবর্ণা। নারদাদি মুনিগণ তার নিত্যসেবা করে থাকেন। তার ত্রিবলিবলয়সমন্বিত নাভিমণ্ডল মৃণালবিশিষ্ট পদ্মের ন্যায়। সেই শিবপত্নী রত্নদ্বীপরূপ উচ্চ বেদিকায় স্থিত সিংহাসনে প্রস্ফুটিত পদ্মের উপর উপবিষ্টা।

Jagadhatri Puja in Chandannagar and Krishnanagar 2019
Jagadhatri Puja in Chandannagar and Krishnanagar 2019

আজ জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমীতে দুই নদীর ধারে বাংলার দুই সাংস্কৃতিক নগর উপচে পড়বে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। চন্দননগরে ১২৯টি বারোয়ারি পুজো এ বার। অবিশ্বাস্য লাগলেও, কৃষ্ণনগর সেখানে চন্দনগরের থেকে এগিয়ে। এ বারের হিসেব, বারোয়ারি পুজোর সংখ্যা সেখানে ১৩০ এর বেশি। এখানে বাড়ির পুজোর সংখ্যা ৪২। চন্দননগরের লোকেরা বলছেন, তাঁদের পুজোর সঙ্গে ধরতে হবে লাগোয়া ভদ্রেশ্বরের হিসেব। সেখানে বারোয়ারি পুজোর সংখ্যা ৪২। চন্দননগরে আলোর সাজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রসিদ্ধ হলে কৃষ্ণনগরের গর্ব আবার তাদের বিখ্যাত মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা। দেবীর অঙ্গ সজ্জায় আছে এখানকার নিজস্ব ঘরানার ভুবন ভোলানো ডাকের সাজ। আসলে দুর্গাপূজার উৎসবের বিকল্প হিসেবেই জগদ্ধাত্রীর পূজার উৎসব দেখছি আমরা। সেই জন্যই এই পুজো সর্বজনীন হল না। রয়ে গেল কিছু কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের উৎসব হয়েই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *