Jibanananda Das was a Bengali poet, writer, novelist and essayist in the Bengali language

Jibanananda Das: আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মদিন

ইতিহাস

জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার …

” পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন। “
জীবনানন্দ দাশ (Jibanananda Das) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক। তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম। জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। ১৮৮৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলা শহরে জীবনানন্দ দাশ জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার নিবাসী ছিলেন। তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন। জীবনানন্দের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্ত, ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন গৃহস্থ, কিন্তু তিনি কবিতা লিখতেন।

Jibanananda Das was a Bengali poet, writer, novelist and essayist in the Bengali language
Jibanananda Das was a Bengali poet, writer, novelist and essayist in the Bengali language

ছোটবেলায় ভোরে ঘুম থেকে উঠেই বাবার কণ্ঠে উপনিষদ আবৃত্তি ও মায়ের গান শুনতেন। লাজুক স্বভাবের হলেও তার খেলাধুলা, বাগান করা, ভ্রমণ ও সাঁতারের অভ্যাস ছিল। ছেলেবেলায় মামার সঙ্গে বহু জায়গায় বেড়িয়েছেন। শৈশবে একবার কঠিন অসুখে পড়েন। স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্যে মাতা ও মাতামহ হাসির গানের কবি চন্দ্রনাথের সাথে লক্ষ্মৌ, আগ্রা, দিল্লী প্রভৃতি স্থান ভ্রমণ করেন। জন্মসূত্রে তার পদবী “দাশগুপ্ত” হলেও তিরিশের দশকের শুরুতে জীবনানন্দ “গুপ্ত” বর্জন করে কেবল দাশ লেখা শুরু করেন। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের বেখেয়ালী জীবন কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। তিনি ছেলেবেলা থেকেই মায়ের প্রভাবে কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৯১৯ সালে ‘বর্ষা আহ্বান’ কবিতাটি ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । তখন তিনি শ্রী জীবনানন্দ দাশগুপ্ত নামে লিখতেন।

বিংশ শতাব্দীর শেষ ধাপে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন। তিনি প্রধানত কবি হলেও তার বেশকিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধও প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৫৪ সালে অকালমৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প লিখেছেন। জীবনানন্দ মায়ের কাছ থেকেই সাহিত্যচর্চা ও কবিতা রচনার প্রেরণা লাভ করেন। কবির রচনাবলি, কাব্যগ্রন্থ-ঝরা পালক, ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। মৃত্যুর পর তার প্রকাশিত উপন্যাস-মাল্যবান, সতীর্থ। ১৯৫৪ সালে এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি কলকাতায় ২২শে অক্টোবর পরলোকগমন করেন। তাঁকে প্রণাম জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *