Matangini Hazra Biography in Bengali

Matangini Hazra: স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা

ইতিহাস

দেশের হয়ে আত্মদানের জন্যে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর নাম (Matangini Hazra) উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা রয়েছে ও থাকবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা: পরাধীন ভারতবর্ষে স্বাধীনতা আন্দোলনের এক ব্যতিক্রমী মহিলা মাতঙ্গিনী হাজরা। সাধারণ দরিদ্র কৃষক পরিবারের এই বৃদ্ধা, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। তিনি এক হাতে শাঁক আর অন্য হাতে তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। দেশের হয়ে আত্মদানের জন্যে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর নাম (Matangini Hazra) উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা রয়েছে ও থাকবে।

নারী বীরত্বের এক জীবন্ত চরিত্র এই মাতঙ্গিনী হাজরা। আজ তাঁর প্রয়াণ দিবস। ১৯৪২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক তমলুকের সরকারি আদালত ও থানা দখলে এগিয়ে যায়। ৭৩ বছরের বর্ষীয়ান এক বৃদ্ধা একঝাঁক শিক্ষিত যুবকদের পেছনে ঠেলে দিয়ে পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে দেন।

Matangini Hazra Biography in Bengali
Matangini Hazra Biography in Bengali

১৮৬৯ সালের ১৭ই নভেম্বর, বাংলার মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার অন্তর্গত আলিনান গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তিঁনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস মাইতি ও মাতার নাম ভগবতী দেবী ৷ যদিও তাঁর প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় প্রথাগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। খুব অল্পবয়সে বিয়ে হয় ত্রিলোচন হাজরা নামক এক ব্যক্তির সাথে। নিঃসন্তান অবস্থায় মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিঁনি বিধবা হন। নিজের কষ্ট ভুলে তিঁনি সবসময় অপরকে সাহায্য করার সুযোগ পেলে এগিয়ে যেতেন। সেই জন্য সবাই তাঁকে ‘গান্ধীবুড়ি’ বলে ডাকতো।

[ আরো পড়ুন ] Arati Saha: প্রথম ভারতীয় মহিলা ইংলিশ চ্যানেল পার করেছিলেন

১৯০৫ সালে তিঁনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে মাতঙ্গিনী আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেন। এরপর লবণ আইন অমান্য করে গ্রেফতার বরণ করেন। অল্প দিনের মধ্যে মুক্তি মিললেও, কর মকুবের দাবিতে প্রতিবাদ চালিয়ে গেলে আবার কারারুদ্ধ হন। বহরমপুরের কারাগারে ছ-মাস বন্দি ছিলেন। ওপর তিনি হিজলি বন্দি নিবাসেও বন্দি ছিলেন কিছুদিন। কিছু দিন বাদে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্যপদ লাভ করেন। নিজের হাতে চরকা কেটে খাদি কাপড় বানাতে শুরু করেন। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মাতঙ্গিনী শ্রীরামপুরে মহকুমা কংগ্রেস অধিবেশনে যোগ দেন। কিন্তু সেখানে ইংরেজ পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন।

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে গান্ধিজির আহ্বানে সমগ্র দেশে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়। বাংলার মেদিনীপুর জেলাতে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। স্বদর্পে এগিয়ে আসেন মাতঙ্গিনী হাজরা। কংগ্রেস সদস্যেরা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় মেদিনীপুর জেলার সকল থানা ও অন্যান্য সরকারি কার্যালয় দখল করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ৭৩ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরার নেতৃত্বে অগণিত স্বদেশপ্রেমিক তমলুক থানা দখলের উদ্দেশ্যে একটি মিছিল বার করে। ইংরেজদের ছোঁড়া তিন তিনটি গুলি মাতঙ্গিনী হাজরার দেহে গেঁথে যায়। হাতে তেরঙ্গা পতাকা নিয়ে বন্দেমাতরম বলতে বলতে সেখানে তিঁনি লুটিয়ে পড়েছিলেন। ২০০২ সালে ভারতের ডাকবিভাগ মাতঙ্গিনী হাজরার কবিতা ছবি দেওয়া পাঁচ টাকার ডাকটিকিট চালু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *