Mrinal Sen 96th Birth Anniversary

পরিচালক মৃণাল সেনের ৯৬তম জন্মদিন।

ইতিহাস বিনোদন

Veteran Movie Director Mrinal Sen 96th Birth Anniversary

তাঁর ৯৬তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী গৌতম দেব, কৈলাস বিজয়বর্গীয় প্রমুখরা।

আজ ১৪ই মে, কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের ৯৬তম জন্মদিন। বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রে বিশ্বব্যাপী কিংবদন্তিদের অন্যতম হলেন এই মৃণাল সেন। তাঁর ৯৬তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী গৌতম দেব, কৈলাস বিজয়বর্গীয় প্রমুখরা।

শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলা সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা সুরিন্দর ফিল্মস। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশিষ্ট পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ, যাঁরা তাঁর কাজের গুণমুগ্ধ ভক্ত। তাঁর চলচ্চিত্র নির্মিতির ধাঁচে ইতালীয় নব্য বাস্তববাদের অভ্যন্তরীণ উপকরণ ও ফরাসি নবতরঙ্গের প্রভাব পড়েছে; চেখভ্-ব্রেখট্-চ্যাপলিনের গল্প-নাটক-চলচ্চিত্র উপস্থাপনের রীতির উপস্থিতিও টের পাওয়া যায়।

১৯২৩ সালের ১৪ মে তত্‍কালীন পূর্ববঙ্গের ফরিদপুরে জন্ম মৃণাল সেনের। পূর্ব বাংলায় তিনি তাঁর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ালেখা সম্পন্ন করে দেশভাগের পর পশ্চিম বাংলার কলকাতায় স্থায়ী হন।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে স্নাতক হওয়ার পর তিনি বেশ কিছুদিন সাংবাদিকতা করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছবিতে সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৫৬ সালে মুক্তি পায় মৃণাল সেনের প্রথম ছবি রাত ভোর। তবে সাফল্যের দেখা সেই ছবি পায়নি। বাইশে শ্রাবণ (১৯৬০) এবং পুনঃশ্চ (১৯৬১)-তে প্রতিফলিত হয় মৃণাল সেনের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা । তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে উত্‍পল দত্ত অভিনীত ভুবন সোম। তাঁর সাড়া জাগানো ছবি মৃগয়া দিয়েই সিনেমার জগতে পা রেখেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী এবং মমতা শংকর।

মৃণাল সেন স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যা পড়াশোনা করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক শাখার সঙ্গে যুক্ত হন। চল্লিশের দশকে তিনি আইপিটিএর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ তবে তিনি কখনো কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হননি। তিনি কখনো সাংবাদিক, কখনো ওষুধ বিপণনকারী এবং চলচ্চিত্রে শব্দ কলাকুশলী হিসেবে কাজ করেন।

২৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৪টি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৬টি চলচ্চিত্রবিষয়ক মৌলিক গ্রন্থও লিখেছেন। ভারতীয় প্যারালাল সিনেমার পুরোধা ব্যক্তি তিনি। গত শতাব্দীর পাঁচের দশক থেকে শুরু করে নয়ের দশক এবং শূন্য দশকের পশ্চিম বাংলার সমাজকাঠামোর নানা সংকট থেকেই তিনি তাঁর অধিকাংশ চলচ্চিত্রের বিষয় বেছে নিয়েছেন।

তিনি ১৯৮১ সালে পদ্মভূষণ লাভ করেন এবং ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল অবধি ভারতীয় সংসদের সাম্মানিক সদস্যপদ লাভ করেন। ফরাসি সরকার তাঁকে কমান্ডার অব দ্য অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটারস সম্মানে সম্মানিত করেন। আর রাশিয়া তাঁকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ সম্মানে ভূষিত করেছে। মৃণাল সেন জন্মদিন সম্পর্কে তাঁর অটোবায়োগ্রাফিতে লিখেছিলেন, ‘I am one year younger than what I’ll be in next year’ ! তাঁকে প্রণাম জানাই|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *