Pulak Bandyopadhyay biography in Bengali

প্রখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দোপাধ্যায়

ইতিহাস

বাংলা গানের স্বর্ণযুগের ঔজ্জ্বল্য বেড়েছিল সেই দক্ষ মণিকারের নৈপুণ্যে। তিনি প্রখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (Pulak Bandyopadhyay) । আজ তার …

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলা গানের অন্যতম কারিগর তিনি। একটা গানের কাঠাম হলো কথা বা লিরিক। তার উপর মাটির প্রলেপ দিয়ে রং ধরান একজন সুরকার। আর গায়ক বা গায়িকা সেই অবয়বে চক্ষুদান করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন। বাংলার শ্রোতাদের আনন্দ দেওয়ার ভার তুলে নিয়েছিলেন একজন মানুষ। বাংলা গানের স্বর্ণযুগের ঔজ্জ্বল্য বেড়েছিল সেই দক্ষ মণিকারের নৈপুণ্যে। তিনি প্রখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় (Pulak Bandyopadhyay) । আজ তার প্রয়াণ দিবস। তিনি চলে গিয়েছিলেন সবাইকে চমকে দিয়ে। তাঁর আত্মহননের দুঃসংবাদ সংগীতের আবহে শূন্যতা নেমে আসে।

এই মানুষটাই মান্না দের জন্য লিখলেন, যখন এমন হয়/ জীবনটা মনে হয় ব্যর্থ আবর্জনা/ ভাবি গঙ্গায় ঝাঁপ দি-ই/ রেলের লাইনে মাথা রাখি/ কে যেন হঠাৎ বলে/ আয় কোলে আয়/ আমি তো আছি/ ভুললি তা কি/ মা সে কী তুমি? ১৯৯৯ সালে ৭ই সেপ্টেম্বর, তার দেহাবসান ঘটে। তিনি হুগলী নদীতে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন।

Pulak Bandyopadhyay biography in Bengali
Pulak Bandyopadhyay biography in Bengali

গঙ্গাবক্ষে নিজেকে আহুতি দিয়েছিলেন বাংলা সিনেমার সর্বকালের সেরা গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা গানের গীতিকার হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর থাকবে পুলক বন্দোপাধ্যায়ের স্থান। নামের মধ্যে আছে তার সৃষ্টির চাবিকাঠি। তার কথাতেই পুলকিত হয়ে ওঠে অগণিত সংগীত ভক্তরা। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ২রা মে , হাওড়ার হাওড়ার সালকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নির্বাকযুগের অভিনেতা কান্তিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

[ আরো পড়ুন ] Salil Chowdhury: সুরকার সলিল চৌধুরী

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শৈশব কাটে হাওড়ায়। অ্যাংলো সান্সক্রিট স্কুলের ছাত্র পরবর্তীতে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স নিয়ে বি.এ.পাশ করেন। অল্প বয়স থেকেই নাটক, সাহিত্য ও সঙ্গীতকলায় তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাই মাত্র সতেরো বছর বয়সে চলচ্চিত্র পরিচালক সরোজ মুখোপাধ্যায়ের ‘অভিমান’ ছবিতে প্রথম গান লেখেন।

এইচ.এম.ভি. ও আকাশবাণীর গীতিকারদের নিয়ে বিতর্কের সময় তিনি কিছুদিন প্রিয়ব্রত ছদ্মনামটি ব্যবহার করেন। ১৯৫৭ সাল। HMV থেকে প্রকাশিত হল তিন “বন্দ্যোপাধ্যায়” এর এক যৌথ প্রয়াস – অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনার প্রথম রেকর্ড – “তোমার দুচোখে আমার স্বপ্ন আঁকা”। মান্না দে ও পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এক সফল জুটি হয়ে ওঠে। পঞ্চাশ বছরে তিনি চার হাজারেরও বেশি গান লিখেছেন। সঙ্গীতের নানাবিধ শাখায় অসাধারণ কাজ করেছেন।

[ আরো পড়ুন ] অভিনেতা ভানু বন্দোপাধ্যায়, অভিনয় করেছেন ৩০০ ছবিতে

হেমন্ত, মান্না দে, গীতা দত্ত, লতা, আশা, হৈমন্তী, শ্যামল, ভূপেন, প্রতিমা, উৎপলা, অরুন্ধতী, সতীনাথ, অনুপ, আরতী মুখোপাধ্যায়সহ অনেক গুণী শিল্পী তার কথায় ও সুরোরোপে গান গেয়েছেন। প্রথম কদম ফুল ছবির “আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না”, বা বসন্ত বিলাপ ছবির “লেগেছে লেগেছে আগুন” তাঁর রসবোধের পরিচয়। “হৃদয়ের গান শিখে তো গায় গো সবাই “, “জানি তোমার প্রেমের যোগ্য আমি তো নই”, “সেই তো আবার কাছে এলে”, “আমি তোমার কাছেই ফিরে আসব” এসব গান মন ছুঁয়ে যায়। “চেয়ে চেয়ে দেখলাম, তুমি চলে গেলে!” যেন নদীর গহীন জলে নয়, তিনি হারিয়ে গেলেন এক অসীম সংগীতের উচ্চমার্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *