Rash Purnima or Kartik Purnima in Bengali

Rash Purnima: উৎসবের আর এক ধারা, রাশ পূর্ণিমা

ইতিহাস

রাস মূলত শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। কার্তিক মাসের পূর্ণিমাই রাসপূর্ণিমা (Rash Purnima)।

রাস যাত্রা সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি বাৎসরিক উৎসব। রাস মূলত শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। কার্তিক মাসের পূর্ণিমাই রাসপূর্ণিমা (Rash Purnima)। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিন বৃন্দাবনের গোপিনী সকাশে রাধার সঙ্গে রাস উৎসবে মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। তবে নবদ্বীপের রাস প্রধানত শাক্ত রসাশ্রিত। শ্রীকৃষ্ণের সুমধুর বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে বৃন্দাবনের গোপিনীরা নিজেদের সমস্ত কাজ বিসর্জন দিয়ে সংসারের সকল মোহ পরিত্যাগ করে বৃন্দাবনে উপস্থিত হয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। তাঁদের বলেন, নিজেদের সংসার-ধর্ম পালন করা উচিত। কিন্তু গোপিনীরা নিজেদের মতে দৃঢ় ছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের দৃঢ়ভক্তি দেখে, তাদের মনোকামনা পূরণার্থে রাসলীলা আরম্ভ করেন।

কার্তিক মাসের পূর্ণিমাই হল রাসপূর্ণিমা। তাই এর আরেক নাম হল কার্তিক পূর্ণিমা। রাস শব্দের অর্থ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য, কোলাহল, বিলাস, ক্রীড়া এবং অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে আনন্দঘন নৃত্যবিশেষ। শ্রীকৃষ্ণের জীবনী প্রধানত শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণেই বর্ণিত রয়েছে। শ্রীমদ্ভাগবতের একটি বিশেষ অংশ হল রাসলীলা। শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনা এবং প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনেই বৃন্দাবনে গোপিনীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রীরাধার সঙ্গে রাস উৎসবে মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। রাসলীলায় যে নৃত্য পরিবেশন করা হয় সেটাই রাসনৃত্য নামে পরিচিতি। রাসপূর্ণিমা উৎসব বাংলাদেশের মনিপুরী আদিবাসীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয়। রাস উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হয় রাসনৃত্যের।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই দিন বৃন্দাবনের গোপিনী সকাশে রাধার সঙ্গে রাস উৎসবে মেতেছিলেন গোপশ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণ। গোপিনীদের নাচ ও শ্রীকৃষ্ণের সুমধুর বংশীধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছিল বৃন্দাবনের পবিত্রভূমি। পরবর্তীকালে শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের এই মিলন উৎসবকে শ্রীচৈতন্যদেব নাম-সংকীর্তনের মধ্যে দিয়ে রাস মহোৎসবে পরিণত করেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, কেউ যদি তাঁকে জানতে চায়, তবে তাঁকে অবশ্যই ভক্তির আশ্রয়ে থাকতে হবে। এই দিনে তাই বৈষ্ণব ভক্তরা তাঁদের ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় মেতে ওঠেন রাসলীলায়। ভক্তের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান গোপিনীদের মানব জীবনের পরমার্থ বুঝিয়ে দিয়ে তাঁদের অন্তর পরিশুদ্ধ করেন। বৈষ্ণবদের কাছে রাস আসলে ভক্ত ও ভগবানের মিলন উৎসব। রাসের সঙ্গে নারী-পুরুষের হাত ধরাধরি করে গোল হয়ে করা হয় ‘হল্লীবক’ নৃত্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *