Air Strike By India At Masood Azhar Camp

হামলা থেমে নেই – সার্জিকাল স্ট্রাইকের বদলে আকাশ থেকে মাসুদের ডেরাতেই আঘাত – Air Strike By India at Masood Azhar Camp

ভারতবর্ষ

সেনাদের মৃত্যু মিছিলে ভারতবাসীর মনখারাপের অধ্যায়কে ভুলতে দিচ্ছে না জঙ্গি বাহিনী| তাই আবার হামলা|

গোটা পৃথিবীর সমবেদনাকে পাত্তা না দিয়ে ফের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা চললো। সেনাদের মৃত্যু মিছিলে ভারতবাসীর মনখারাপের অধ্যায়কে ভুলতে দিচ্ছে না জঙ্গি বাহিনী| তাই আবার হামলা| এই সেনা ও জঙ্গি সংঘর্ষে নিহত হলেন এক মেজর-সহ চার জন জওয়ান। গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারালেন কাশ্মীরের এক সাধারণ নাগরিকও। গুরুতর আহত বেশ কয়েক জন।

সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবারের একটা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয় পিংলানে। তারপর জঙ্গিদের সঙ্গে তুমুল গুলি বিনিময়ের ফলে প্রাণ হারিয়েছেন মেজর-সহ চার জওয়ান। সকাল ৯টা পর্যন্ত সেনা ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলি বিনিময় চলছে। পিংলান গ্রামে একটি বাড়িতে বেশ কয়েক জন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর পেয়ে রবিবার গভীর রাতে সেই বাড়ি ঘিরে ফেলে সেনা। বাড়ির মধ্যে দুই জঙ্গিকে সেনাবাহিনী ঘিরে ফেলেছে বলেও জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবারের হামলার পর নিয়মিত সেনা তল্লাশি চলার সময় সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে জঙ্গিরা। থেকে নেই আমাদের সেনাবাহিনীও।

প্রধানমন্ত্রী পূর্ণ স্বাধীনতা সেনাদের উপর দেওয়ার পর সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ মহল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছে| জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি প্রধান মাসুদ আজহারের ঘাঁটিতে নিখুঁত লক্ষ্যে আকাশ থেকে বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে চাচ্ছে সেনা বাহিনী| একই সাথে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করতে হামলা করতে চাই নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য। কিন্তু এ সব করতে গিয়ে ভয়ানক যুদ্ধ লেগে গেলে কী হবে, তার হিসেবও মাথা ঠান্ডা রেখে নিখুঁত ভাবেই কষতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। যদিও প্রাক্তন সামরিক শীর্ষ কর্তারা মনে করছেন, সীমান্ত বা নিয়ন্ত্রণ রেখার এ পার থেকে গোলাগুলি ছোড়া বা ফের সার্জিকাল স্ট্রাইকের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ বিকল্প মাসুদ আজহার এবং তার জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গি শিবিরগুলিতে ‘প্রিসিশন এয়ার স্ট্রাইক’ অর্থাৎ নিখুঁত বিমান হানা চালানো।

বায়ুসেনার প্রাক্তন এক প্রধান মনে করেন ,আমাদের বায়ুসেনার সেই ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তার জন্য একেবারে নিখুঁত, ‘রিয়াল টাইম’ জানা প্রয়োজন| শনিবারই পাক-সীমান্ত ঘেঁষা পোখরানে বায়ুসেনা আকাশ থেকে মাটিতে কোনও লক্ষ্যে হামলা নিয়ে মহড়া দিয়েছে। বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বি এস ধানোয়া পোখরানে দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘‘আমরা কতটা জোরের সঙ্গে, কত দ্রুত এবং কত নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত করতে পারি, সেই ক্ষমতা তুলে ধরছি।’’

নিখুঁত সামরিক হামলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে দিশাহারা পাকিস্তানের উপরে আর্থিক চাপ বাড়াতে অন্য কূটনৈতিক অঙ্কও কষা হচ্ছে। পাক সরকার যে ভাবে জঙ্গিদের অর্থ সাহায্য করে, তা বন্ধ করতে এবং পুলওয়ামার ঘটনায় পাক যোগ প্রমাণ করতে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর হাতে এ নিয়ে প্রামাণ্য নথি তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ।

কিন্তু এটা বাস্তব যে, পুলওয়ামার পরে ভারতের দিক থেকে পাল্টা বড়মাপের হামলা হতে পারে, আঁচ করে পাকিস্তান এখন যুদ্ধের জন্য তৈরি। সেনা কর্তারা বলছেন, ‘প্রিসিশন এয়ার স্ট্রাইক’-এর কথা ভাবা হলেও কোনও ভাবেই তা জনবহুল এলাকায় করা যাবে না। কারণ সাধারণ নিরীহ মানুষের প্রাণ গেলে ভারতের দিকেই সমোলোচনার আঙুল উঠবে। সেই জন্যই ওসামা বিন লাদেনের ডেরায় আকাশ থেকে বোমা ছোড়েনি। তার বদলে মার্কিন নেভি সিল-এর কম্যান্ডোরা ঝুঁকি নিয়ে নিঃশব্দে লাদেনের ডেরায় নেমেছিল। তাই এই মুহূর্তে আমাদের সেনাবাহিনীর প্রয়োজন, সঠিক গোয়েন্দা দপ্তরের তথ্য| যাতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঠেকিয়ে, জঙ্গি প্রধানকে ও তাদের বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে বিনাশ করা|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *