Anil Ambani

জেলে যেতে পারেন সুপ্রিম কোর্টের দোষী সাব্যস্ত অনিল আম্বানি – Anil Ambani Could Be Jailed

ভারতবর্ষ

রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান অনিল অম্বানিকে, আজ বুধবার দোষী সাব্যস্ত করল সুপ্রিম কোর্ট।

দেশের টেলিযোগাযোগের অন্যতম কিংবদন্তি, প্রধানমন্ত্রী যার মজবুত হাতে চাপিয়ে দিয়েছেন দেশের প্রতিরক্ষার সরঞ্জাম বানানোর দায়িত্ব| কয়েক মাস ধরেই সারা দেশে জুড়ে চলছে সেনা-বিমান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর| আর সেই অস্বস্তির মধ্যে আর যে দমকা ঝড় বয়ে গেলো দেশের শীর্ষ আদালত, সুপ্রিম কোর্টে| নেপথ্যে দেশের অন্যতম বিজনেস ম্যাগনেট অনিল আম্বানি| আজ বিখ্যাত রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান অনিল অম্বানিকে দোষী সাব্যস্ত করল সুপ্রিম কোর্ট। শুধুমাত্র আদালত অবমাননার মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

প্রসিদ্ধ এরিকসন ইন্ডিয়া নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, অনিল আম্বানির রিলায়েন্স কমিউনিকেশের কাছে তারা সাড়ে পাঁচশো কোটি টাকা পায়। কিন্তু তাদের সেই মোটা বকেয়া টাকা কিছুতেই মেটাচ্ছে না অনিল আম্বানির সংস্থা। এর পর নিয়ম মতে সুপ্রিম কোর্ট, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনকে সেই অর্থ পরিশোধ করতে বলে। কিন্তু অভিযোগ, সেই বকেয়া এখনও শোধ করেনি অনিল অম্বানির সংস্থা। ফলে অনিল অম্বানির বিরুদ্ধে দেশের সম্মানের শীর্ষ আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে।

আর এই মামলাতেই রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান অনিল অম্বানিকে, আজ বুধবার দোষী সাব্যস্ত করল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও একই সঙ্গে তাঁর সংস্থার দুই ডিরেক্টরকেও সুপ্রিম কোর্ট দোষী সাব্যস্ত করেছে। ওই দুই ডিরেক্টর হলেন রিলায়েন্স টেলিকমের চেয়ারম্যান সতীশ শেঠ ও রিলায়েন্স ইনফ্রাটেলের চেয়ারপার্সন ছায়া ভিরানি। এরিকসন ইন্ডিয়া রিলায়েন্সের কাছে এখনও ৪৫৩ কোটি টাকা পাবে।

আজ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা সম্পূর্ণ ভাবে মিটিয়ে দিতে হবে অনিল অম্বানিকে। আর তা না হলে তিনমাসের জেল হতে পারে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যানের। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে আদালত অবমাননার জন্য তিনজনকেই এক কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সেই জরিমানা না দিলে এক মাসের কারাবাসে যেতে হবে অনিল অম্বানী ও তাঁর সংস্থার দুই ডিরেক্টরকে।

আজ আদালতকে অনিল অম্বানী জানিয়েছেন, এরিকসনের বকেয়া মেটানোর জন্য তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে তাঁর দাদা মুকেশ অম্বানীর সংস্থা রিলায়্যান্স জিও-র সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল তা ব্যর্থ হওয়ায় সমস্যায় পড়েছে তাঁর সংস্থা। গত ২০১৮-র ২৩ অক্টোবর আদালত রিলায়্যান্স কমিউনিকেশন-কে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এরিকসনের সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে।

পাশাপাশি এটাও বলেছিল, সেই বকেয়া সম্পূর্ণ ভাবে মেটাতে দেরি হলে বছরে ১২ শতাংশ সুদও দিতে হবে তাদের। কিন্তু ২৩ অক্টোবরের সেই নির্দেশ অনুযায়ী সময় মতো টাকা মেটাতে অক্ষম অনিলের সংস্থা। ফলে সুদ সমেত ৫৫০ কোটি টাকা মেটাতেই হবে অনিল অম্বানিকে| আর সেখানে অক্ষম হলেই কারাগারের চারদেওয়াল তার জন্য অপেক্ষা করছে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *