bh189

সরকারকে ভারতরত্ন ফেরৎ দিলেন ভূপেন হাজারিকার পরিবার – Bharat Ratna Bhupen Hazarika

বিনোদন ভারতবর্ষ

মরণোত্তর ভারতরত্ন সম্মান গ্রহণ করবে না প্রখ্যাত গায়ক তথা সাংবাদিক ভূপেন হাজারিকার পরিবার।

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা – “ভারতরত্ন”। ১৯৫৪ সালের ২ জানুয়ারি এই মহা সম্মান প্রদান চালু হয়। জাতি, পেশা, পদমর্যাদা বা লিঙ্গ নির্বিশেষে “সর্বোচ্চ স্তরের ব্যতিক্রমী সেবা/কার্যের স্বীকৃতি স্বরূপ” এই সম্মান প্রদান করা হয়। যেকোনো মানুষ এই পুরস্কার প্রাপ্তিকে, সম্মানের বলে মনে করেন| যদিও এই “ভারতরত্ন” পুরস্কার নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক থেকেই গিয়েছে| প্রাপ্তি যোগে তার বিরল কর্মের পাশাপাশি দেখে নেওয়া হয় তার কোন রঙের প্রতি গভীর নৈকট্য|মন খারাপের বিষয় তাই নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদ। মরণোত্তর ভারতরত্ন সম্মান গ্রহণ করবে না প্রখ্যাত গায়ক তথা সাংবাদিক ভূপেন হাজারিকার পরিবার।

হাজারিকার ছেলে তেজ হাজারিকা বলেন, সে অসমের এ পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত।তার সুচেতনা বলে, এ থেকে সে সরতে পারি না। তার পিতা, ভূপেন হাজারিকা সবসময়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। সর্বত্র সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই তার পরিবার এ সম্মান নিতে অপারগ। আসলে গায়ক,সরকার ভূপেন হাজারিকা সবসময়ই অসমের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং লড়াই আন্দোলন করেছেন। তাই এই সম্মান গ্রহণ করতে অস্বীকার করছেন । পুত্র হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, ভারত সরকার বাবাকে যে মরণোত্তর সম্মান প্রদান করতে চাইছে পরিবার তা গ্রহণ করবে না। ভূপেন হাজারিকা-সহ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও সমাজকর্মী নানাজি দেশমুখকে ভারতরত্ন সম্মানে সম্মানিত করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রের সরকার। এবছরের প্রজাতন্ত্র দিবসেই সেই সম্মান তুলে দেওয়া হবে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তির কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকা ৮ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ সালে আসামের সদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর ৮৫ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানী হাসপাতালে মারা যান।তিনি ছিলেন ১০ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। ১৯৪২ সালে গুয়াহাটির কটন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট আর্টস, কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে বি.এ এবং ১৯৪৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ পাস করেন। ১৯৫২ সালে নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

গানের জগতে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ছিল এই কণ্ঠশিল্পীর। মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই গান লেখে সুর দিতে থাকেন তিনি। আসামের চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয় এক শিশুশিল্পী হিসেবে। ১৯৩৯ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি অসমীয়া ভাষায় নির্মিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা পরিচালিত ইন্দুমালতী ছবিতে ‘বিশ্ববিজয় নওজোয়ান’ শিরোনামের একটি গান গেয়েছিলেন। পরে তিনি অসমীয়া চলচ্চিত্রের একজন বিখ্যাত পরিচালক হয়ে ওঠেন।

বাংলাদেশ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে ভূপেন হাজারিকার জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। অসমীয়া ভাষা ছাড়াও বাংলা ও হিন্দি ভাষাতেও তিনি সমান পারদর্শী ছিলেন এবং অনেক গান গেয়েছেন। অবশ্য এসব গানের অনেকগুলোই মূল অসমীয়া থেকে বাংলায় অনূদিত। তার গানে মানবপ্রেম, প্রকৃতি, ভারতীয় সমাজবাদের, জীবন-ধর্মীয় বক্তব্য বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এছাড়াও, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে অন্যধারার প্রতিবাদী সুরও প্রকাশ পেয়েছে একাধিকবার| “রুদালির” সুর চিরন্তনতার বার্তাবাহক|

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য – ১৯৭৯ সালে অল ইন্ডিয়া ক্রিটিক অ্যাসোসিয়েশন পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে অসম সরকারের শঙ্করদেব পুরস্কার, ১৯৯২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, ১৯৯৩ সালে পদ্মভূষণ, ২০০১ সালে অসম রত্ন এবং ২০০৯ সালে সঙ্গীত নাটক একাডেমি পুরস্কার। তিনিই প্রথম ভারতীয় হিসেবে জাপানে এশিয়া প্যাসিফিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুদালী ছবির শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন। এতো কিছুর মাঝে ” ভারতরত্ন” ফিরিয়ে দেওয়া হয়তো …….বিতর্ক থাক, তিনি তো স্মৃতির সরণিতে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *