Over 12 crore people lost their job in India within a month

ভারতে শুধুমাত্র মে মাসেই কাজ হারিয়েছে ১২ কোটি

ভারতবর্ষ

একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গত এক মাসে কাজ হারিয়েছেন (Job loss in India) অন্তত ১২ কোটির মানুষ। সংখ্যাটা যে আরও বাড়তে চলেছে, সে …

দেশের জিডিপি তলানিতে । মুদ্রাস্ফীতি মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে । তার উপর করোনা আর আম্ফান ঝড়ের স্পেশাল আর্থিক প্যাকেজ, ভাবাচ্ছে কেন্দ্র সরকারকে । সবথেকে বড় সমস্যা বেকারত্ব । একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গত এক মাসে কাজ হারিয়েছেন (Job loss in India) অন্তত ১২ কোটির মানুষ। সংখ্যাটা যে আরও বাড়তে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ৫০% বেতন কাটা হলো – আরও জানতে ক্লিক করুন …

দেশের ভিন্ন প্রান্তের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালু হতেই স্পষ্ট বেকারত্বের আসল চিত্র। প্রতিদিন করোনা স্পেশাল ট্রেনে করে রাজ্যে রাজ্যে ফায়ার যাচ্ছেন হাজার হাজার কাজ হারা শ্রমিকের দল । নূন্যতম রুজি-রুটির সংস্থানও আপাতত কল্পনাতীত । লকডাউন উঠে গেলেও যে ফের কাজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই বললেই চলে । যদিও এই ১২ কোটির কাজ হারানো শুধুমাত্র অনুমান । বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যাটা ২৫ কোটিরও বেশি হতে পারে ।

Over 12 crore people lost their job in India within a month
Over 12 crore people lost their job in India within a month

আগেই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানে জোর দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিগত বছরে আরও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ সরকার । ভোটের মুখের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ বলে বরাবরই মোদীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে সকল বিরোধী দল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে গত তিন মোদী সরকারের সব চেষ্টা বিফলে গিয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের ভৃখণ্ড নিজেদের মানচিত্রে ঢোকালো নেপাল – আরও জানতে ক্লিক করুন …

এখন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা ত্যাগ করে আপাতত অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কাজ ফেরানোই বড় প্রশ্ন মোদির কাছে । সময় যত বাড়ছে, পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শ্রমিক সম্প্রদায়ের মানুষদের রুজি রুটির যোগান করতে হবে সরকারকেই । নিম্নবিত্ত পরিবারে একজনের উপার্জনের উপর গড়ে ৫ জন মানুষের সংসার চলে । সুতরাং, দুর্দ্দশায় দিন কাটাচ্ছে কম করে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ।

বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতে উন্নয়ন নিয়ে পরামর্শদাতা বহুজাতিক সংস্থা ‘IPE Global’ -এর ধারণা, ভাইরাসের চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু হবে অভাবে ও ক্ষুদায় । ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি অশ্বজিৎ সিংহ বলেন, ‘‘বহু বছর ধরে দারিদ্র দূরীকরণে ভারত সরকারের সমস্ত প্রচেষ্টা মাত্র কয়েক মাসেই বিফল করে দিয়েছে।’’ এমনটি চলতে থাকলে সরকারকে দেশ জুড়ে বিপর্যয় ঘোষণা করতে হতে পারে ।

বেসরকারি চাকরি, অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা ও সমীক্ষা করে যাওয়া এক সংস্থা ‘সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি’ (CMII) -এর তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র মে মাসেই কাজ হারিয়েছেন প্রায় ১২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ। এর মধ্যে মার্চ ও এপ্রিল মাসের তথ্য বাকি আছে । পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর তোড়জোড় না করা পর্যন্ত আসল চিত্রটা সামনে আসেনি।

CMII -এর ওই রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুরির ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিক এবং যাঁরা নিজে ছোটখাট ব্যবসা করেন তাঁরা। এর মধ্যে রয়েছেন হকার, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, নির্মাণ শিল্পের শ্রমিক, রিকশা-অটো চালকদের মতো পেশার লোকজন। সরকার এই মুহূর্তে আর্থিক সাহায্য নিয়ে তাদের সামনে না গেলে, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *