army chief

কড়া বার্তা দিল সেনাবাহিনী – কাশ্মীরে এ বার অস্ত্র ধরলেই ছুটবে সেনার গুলি – Warning To Kasmiri People

ভারতবর্ষ

পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতেও বলেছে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে কিছুতেই ভোলা যাবে না| আসমুদ্র হিমাচল থেকে এই একই বার্তা আসছে| সংহতির পরম্পরাকে বাঁচিয়ে রাখতে সচেষ্ট হচ্ছে সেনাদের সাথে দেশবাসী| চোখের জলে সমবেদনা জানাচ্ছে নিহত পরিবারের দিকে| আর এই একই ভাবে, ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে আমেরিকা-সহ ৪০টি দেশও।

এখানে থেমে না থেকে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতেও বলেছে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন। স্বাভাবিক ভাবে আত্মরক্ষার্থে ভারতের প্রত্যাঘাত করার অধিকার আছে বলেও জানানো হয়েছে। আর আজ সেনা, সিআরপিএফ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বৈঠকে থেকে প্রত্যাঘাত দেওয়ার কথা পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু দেশের মধ্যে দেশদ্রোহিতার বীজ নির্মূল করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সেনাদপ্তর| গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী, পুলওয়ামা হামলার জেরে এ বার জম্মু কাশ্মীরে যেকোনো মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই তাকে গুলি করা হবে। আজ এমনই কঠোর বার্তা দিল সেনা। মঙ্গলবার লেফ্টেন্যান্ট জেনারেল কে এস ঢিলোঁ, কাশ্মীরের মায়েদের কাছে আবেদন করেছেন, তাদের সন্তানরা যেন বিপথে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে|

সারা পৃথিবী জেনে গেছে, পুলওয়ামা হামলার পিছনে রয়েছে কুখ্যাত আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাহিনী – জইশ-ই-মহম্মদ। আর এই জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সেনা সূত্রে বলা হয়েছে, ১০০ ঘণ্টার মধ্যেই কাশ্মীরকে জইশ জঙ্গিদের মুক্ত করা হয়েছে। তাই কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের প্রতি লেফ্টেন্যান্ট জেনারেলের আবেদন, কোথাও এনকাউন্টার হলে, তার ধারে-কাছে কেউ যেন না যায়।

ভারতীয় সেনা চাই না কোনও সাধারণ কাশ্মীরির কোনও ক্ষতি হোক। সেনাবাহিনী থেকে অভিভাবকদের কাছে বলা হয়েছে, তাদের সন্তানরা কেউ ভুল করে কোনো জঙ্গি দলে নাম লেখায়, তাহলে তাঁদের আত্মসমর্পণ করতে বলুন। গতকাল কামরান-সহ তাদের ৩ শীর্ষ নেতাকে মেরেছে আমাদের সেনারা। তবে গতকালের এই তীব্র সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের কোন ক্ষতি হয়নি।

তবে পুলওয়ামার মতো এই সব হামলার সঙ্গে যারা যুক্ত আছে তাদের সময় থাকতে থাকতে আত্মসমপর্ণ করতে বলা হয়েছে। বারুদের গন্ধ মাখা কাশ্মীরের ইতিহাস বদলানোর জন্য সেখানকার মায়েদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কাশ্মীরের সবাইকে সন্ত্রাসবাদের পথ থেকে সরে আসতে হবে সন্ত্রাসবাদী কাজ থামানোর বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি খুব পরিষ্কার। কাশ্মীর উপত্যকায় যে ধ্বংসের কাজের জন্য আসবে তাকে বেঁচে ফিরতে দেওয়া হবে না|

সবাই জানে যে, স্বাধীনতার পর দেশের মাটিতে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পেছনে যে পাকিস্তানের হাতই রয়েছে তাও আজ স্পষ্ট করে জানানো হয়। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের থেকে মোস্ট ফেভারড নেশনের তকমা কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি সেখান থেকে এদেশে বিক্রির জন্য আনা সকল পণ্যের উপর ২০০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি চাপিয়ে দেয়।

কাশ্মীরের বিছিন্নতাবাদী সব নেতাদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা রক্ষীদেরও তুলে নেওয়া হয়। আসলে, দেশের মানুষকেই আগে সাবধান হতে হবে| নিজেদের গলদ না থাকলে, বিদেশের জঙ্গিবাহিনী এখানে এসে হামলা করতে পারবে না| জঙ্গি মুক্ত একটা সুস্থ কাশ্মীরকে নিয়ে একটা শান্তির দেশের নাগরিক হতে চাইছি আমরা সবাই|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *