বিবেকানন্দের ধর্ম মহাসভা আর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস

বিবেকানন্দের ধর্ম মহাসভা: আর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস

লাইফস্টাইল

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, বিবেকানন্দের ধর্ম মহাসভা।

ভারত পথিক স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রি়য়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, বিবেকানন্দের ধর্ম মহাসভা। অনেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মমতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব বিবেকানন্দকে দিয়ে থাকেন।

ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। প্রথম বিশ্বধর্ম মহাসভা ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে উদ্বোধন হয়। এদিন তিনি ভারত এবং হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলেন , “আমেরিকার ভ্রাতা ও ভগিনীগণ!” এই সম্ভাষণে প্রায় সাত হাজারের মত দর্শক-শ্রোতা দুই মিনিট দাঁড়িয়ে তাকে সংবর্ধনা জানান।

তিনি জানান “যে ধর্ম বিশ্বকে সহিষ্ণুতা ও মহাজাগতিক গ্রহণযোগ্যতা শিখিয়েছে সে ধর্মের সর্বাধিক প্রাচীন সন্ন্যাসীদের বৈদিক ক্রমানুসারে। যেহেতু বিভিন্ন স্রোতধারার উৎসসমূহ বিভিন্ন জায়গায় থাকে, সেগুলির সবই সমুদ্রের জলে গিয়ে মিশে যায়, সুতরাং, হে প্রভু, বিভিন্ন প্রবণতার মধ্য দিয়ে মানুষ বিভিন্ন যে সকল পথে চলে, সেগুলো বিভিন্ন রকম বাঁকা বা সোজা মনে হলেও, সেগুলি প্রভুর দিকে ধাবিত হয়! যে আকারের মধ্য দিয়েই হোক না কেন, যে-ই আমার নিকট আসে, আমি তাঁর নিকট পৌঁছাই; সকল মানুষই বিভিন্ন পথে চেষ্টা করছে যা অবশেষে আমার নিকট পৌঁছায়।”

সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা হওয়া সত্ত্বেও এটি সভার আত্মা এবং এর বিশ্বজনীন চেতনা ধ্বনিত করে। সভার সভাপতি, ড. ব্যারোজ বলেন, “কমলা-সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মসমূহের মাতা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তাঁর শ্রোতাদের উপর সবচাইতে বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তার করেছেন।”আমেরিকার পত্রিকাসমূহ স্বামী বিবেকানন্দকে “ধর্মসভার সবচেয়ে মহান ব্যক্তিত্ব” এবং “সভার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি” হিসেবে প্রতিবেদন লেখে। তিনি সভায় আরো কয়েকবার হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কিত বিষয়ে বলেন। সেই সভা ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে সেপ্টেম্বর সমাপ্ত হয়।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং৭৬৭ বিমানটি প্রায় ২০ হাজার গ্যালন জেট ফুয়েল নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত হানে। প্রসিদ্ধ ১১০তলা ভবনের ৮০তম তলায় বিমানটি আঘাত হানে। আর মুহূর্তের মধ্যেই কয়েক শ মানুষ নিহত হয়। বহু মানুষ আটকা পড়ে ভবনের বিভিন্ন স্থানে। আজ সেই নাইন-ইলেভেন। ইতিহাসের সেই বীভৎস দিন যেদিন টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছিল। ২০০১ সালের এই দিনে আত্মঘাতী বিমান হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ার। কে বা কারা ওই হামলা চালিয়েছিল তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়দাকে দায়ী করে আফগানিস্তান ও ইরাকে গণহত্যা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

১৮ মিনিটের মাথায় ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের আরেকটি বোয়িং ৭৬৭ বিমান সাউথ টাওয়ারের ৬০তম তলায় ঢুকে পড়ে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়, ভবনের বিভিন্ন অংশ খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে আশপাশের ভবনগুলোর ওপর ছড়িয়ে পড়ে। তখনই প্রথম বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের আরেকটি বিমান বোয়িং ৭৫৭ আঘাত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের পশ্চিম অংশে। এখানেও বিপর্যয়ের কারণ ছিল জেট ফুয়েল। পেন্টাগনের ১২৫ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তি মারা যান, সাথে বিমানে থাকা ৬৪ জন আরোহীর সবাই মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঠিক কেন্দ্রে এ হামলার ১৫ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের সাউথ টাওয়ারটি ধ্বসে পড়ে। ধূলা আর ধোঁয়ার মেঘ তৈরি হয় সেখানে। আশেপাশের এক ডজনের বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয় বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০০৬ সালের ১৮ই অক্টোবরে একই জায়গায় আবার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাজ শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *