সরস্বতী পুজোর পরদিন শীতল ষষ্ঠী - বিজ্ঞান সম্মত সংস্কার

সরস্বতী পুজোর পরদিন শীতল ষষ্ঠী – বিজ্ঞান সম্মত সংস্কার

বিজ্ঞান লাইফস্টাইল

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের এও এক রান্নাঘরের পার্বণ।

বিদ্যার দেবী সরস্বতী পুজোর পরের দিন শীতল ষষ্ঠী, যা অপভ্রংশে শেতল ষষ্ঠী। মা-ঠাকুমার কাছে এককথায় গোটা সেদ্ধ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের এও এক রান্নাঘরের পার্বণ। আগেরদিন রান্না করে পরদিন ঠান্ডা খেতে হয় গোটা সেদ্ধ৷ কারণ এদিন অরন্ধন৷ আবার এই গোটা সেদ্ধ ভীষণভাবে পুষ্টিকরও৷ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হলো যেহেতু এই সময় পক্স, ইনফেকশন, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ হয়, তাই শরীর ঠান্ডা রাখতেও গোটা সেদ্ধ খাওয়া হয়৷

এই একটা দিন ফের একবার বাঙালিকে যে কতটা আদ্যোপান্ত বাঙালি করে তোলে তা একটু গভীরভাবে ভাবলেই স্পষ্ট চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আসলে প্রত্যেক জাতিরই কিছু একান্ত নিজস্ব কিছু সমৃদ্ধ বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রথার সাথে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন থাকে। পশ্চিমি উগ্র হাওয়ায় অতি মিশ্র সংস্কৃতির গ্রাসে বিলীন হয়ে যেতে বসেছে আমাদের বেশকিছু সনাতনি প্রথা। হয়তো পরবর্তীতে এটি হয়তো জায়গা করে নেবে বেণীমাধবের পাঁচালির এক কোন|

এই দিন নিজের সন্তানের সার্বিক মঙ্গল কামনায় ব্রত করেন মায়েরা৷ আগুনে উনুনের পাশাপাশি এদিন বাঙালি বাড়িতে পেষাইয়ের শিল নোড়াকেও বিশ্রাম দেওয়া হয় ৷ গোটা সেদ্ধ খেয়ে শরীর ঠান্ডা রাখা হয়৷ ডাক্তাররাও তাই এই খাবারকে বলেন কমফর্ট ফুড৷
গোটা মুগ, গোটা বেগুন, জোড়া মাখন সিম, জোড়া কড়াইশুঁটি, শিস পালং, টোপা কুল, সজনে ফুল, বাঁধাকপি। শীতল ষষ্ঠীর অবশ্য উপাদেয় ও উপকারী উপাদান। বাজার থেকে এসব কিছুই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কেনা শেষ করতে হয় সরস্বতী পুজোর সকালের মধ্যে। এই পার্বণ মূলত এ দেশীয়দের মধ্যে প্রচলিত। মানে যাকে বলে ঘটিদের মধ্যে। আর সেই সঙ্গে নিজের বাপ-ঠাকুরদার মেনে আসা প্রথাকে আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়ার একটা আত্মগর্বের উদ্গার আছে ।যেহেতু ষষ্ঠী তাই এই সময়কার ৬ রকম মরশুমি সব্জি একসঙ্গে গোটা সেদ্ধ করে খাওয়া হয় ৷

প্রতিটি প্রজন্মের একটা অলিখিত দায় দায়িত্ব থাকে। তার পারিবারিক আদর্শ, রীতিনীতি, সনাতনি প্রথার ধারক ও বাহক হিসাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত। কিন্তু সময়ের হাত ধরে বদল অবশ্যম্ভাবী। সেই বদলের সঙ্গে পা মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু এগিয়ে যাওয়া মানেই কি, পুরনো সব কিছুকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া? এই এগিয়ে যাওয়া কিন্তু কোনও কিছুকে শেষ করে এগিয়ে যাওয়া নয়। বরং তাল মিলিয়ে সাবেকি পরম্পরাকে বাঁচিয়ে অগ্রসর হওয়াই আধুনিক আগামী|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *