109th Birth Anniversary of Mother Teresa

Mother Teresa: আজ মাদার টেরেসার ১০৯তম জন্মদিন

লাইফস্টাইল

গরীব, দুঃস্থ ও অনাথদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজের আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন সন্ন্যাসিনী (Mother Teresa) হয়ে।

জন্মসূত্রে আলবেনিয়ান হয়েও মনে প্রাণে পূর্নাঙ্গ ভারতীয়। গরীব, দুঃস্থ ও অনাথদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজের আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন সন্ন্যাসিনী হয়ে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছিলেন মিশনারিজ অফ চ্যারিটি। তিনি হলেন মাদার টেরেসা (Mother Teresa)।

১৯১০ সালের ২৬শে অগাস্ট অটোম্যান সাম্রাজ্যের ইউস্কুবে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন আলবেনিয়ার রাজনীতিবিদ। কিন্তু মাত্র 8 বছর বয়সেই বাবাকে হারান তিনি। এরপর তাঁর মা তাঁকে রোম্যান ক্যাথলিক আদর্শে বড় করে তোলেন। মাত্র ১২ বছরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিজেকে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত করার। ১৮ বছর বয়সে সব কিছু ত্যাগ করে কলকাতায় আসেন মানুষের কল্যাণ করতে এবং যোগ দেন সিস্টার্স অফ লরেটোতে।

১৯২৯ সালে ভারতে এসে দার্জিলিঙে নবদীক্ষিত হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৩১ সালের ২৪শে মে তিনি সন্ন্যাসিনী হিসেবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন। এরপর মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করার সংকল্পে তিনি লরেটো স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে ১৯৫০ সালের ৭ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ‘মিশনারিজ অব চ্যারিট’। যার শাখা বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে আছে।

আজ মাদার টেরেসার ১০৯তম জন্মদিন
আজ মাদার টেরেসার ১০৯তম জন্মদিন

এর পাশাপাশি গড়ে তুললেন ১৯৫২ সালে এই চ্যারিটির অধীনেই ‘নির্মল হৃদয়’, কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ‘শান্তি নগর’। ১৯৫৫ সালে স্থাপন মাদার স্থাপন করেন ‘নির্মল শিশুভবন’। ১৯৬৫ সালে ভেনিজুয়েলায় মিশনারি অব চ্যারিটির শাখা প্রতিষ্ঠার পর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৮ সালে রোম, তানজানিয়া এবং অস্ট্রিয়াতে শাখা খোলা হয়। ১৯৭০-এর দশকে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার কয়েক ডজন দেশে শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭৯ সালের ১৭ই অক্টোবর তিনি তাঁর সেবাকার্যের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ১৯৮০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন লাভ করেন। ১৯৮২ সালে বৈরুত অবরোধের চূড়ান্ত প্রতিকূল সময়ে মাদার তেরেসা, হাসপাতালে আটকে পড়া ৩৭ শিশুকে উদ্ধার করেন। ইসরায়েলী সেনাবাহিনী ও প্যালিস্থানি গেরিলাদের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি ঘটায় পরিবেশ কিছুটা অনুকূলে আসে। এই সুযোগেই রেডক্রসের সহায়তায় তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত অঞ্চলে যান। বিধ্বস্ত হাসপাতালগুলো থেকে কম বয়সের রোগীদের সরিয়ে আনেন। মাদার তেরেসার মৃত্যুর সময় বিশ্বের ১২৩টি দেশে এইচআইভি/এইডস, কুষ্ঠ ও যার চিকিৎসাকেন্দ্র, ভোজনশালা, শিশু ও পরিবার পরামর্শ কেন্দ্র, অনাথ আশ্রম ও বিদ্যালয়সহ মিশনারিজ অব চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র ছিল।

তিনি বলেন, “ ঈশ্বর চান যে, আমি এক বন্ধনমুক্ত সন্ন্যাসিনীই থাকি, ক্রুশ চিহ্নের দীনতা আমাকে আবৃত করে থাক। আজ একটা ভাল শিক্ষা পেলাম। গরিব লোকদের দারিদ্র্য কত কষ্টকর। যখন বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছি, হেঁটে হেঁটে আমার গা-হাত-পা ব্যথা হয়ে যেত। আমি ভেবে দেখলাম, বাসস্থান, খাদ্য, সাহায্য কোথায় পাবে, তার চেষ্টাতেই গরিব মানুষদের দেহ এবং আত্মা কী যন্ত্রণা ভোগ করে। তখন প্রবল হয়ে উঠলো লোভ। লরেটোর প্রাসাদোপম গৃহগুলির কথা মনে উদয় হল। সুন্দরী, কী আরামদায়ক! আর কী চাই? কে যেন আমায় লোভ দেখাতে লাগল, ‘একবার মুখ ফুটে চাইলেই, সে-সবই আবার ফিরে পাব।’ আমার প্রভু, নিজের ইচ্ছায়, তোমার প্রতি প্রেমে, আমি তাই করতে চাই, যা আমাকে দিয়ে তুমি করাতে চাও। এক বিন্দু অশ্রুও আমার চোখ থেকে আমি পড়তে দিলাম না।” ১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *