ugtfuyrd

আজি ‘বসন্ত’ জাগ্রত দ্বারে – সাবধান হোন চিকেন পক্স থেকে – Chicken Pox Remedies

লাইফস্টাইল

সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

কাঁপিয়ে দিয়ে শীত চলে যেতে বসেছে| মৃদু দখিনা বাতাস আমাদের চারপাশে| পাতা খসার সাথে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে নব কিশলয়| আর এখনই চারিদিকে রং ভরানো সুন্দর ফুল আর গন্ধ ভোরে যায়| কিন্তু তার মাঝেই আসে “বসন্ত” বা চিকেন পক্স| আসলে এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ, যা ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।

সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। সারা শরীরে ছোট ছোট পানি ফোসকার মতো লালচে গোটা দেখা যায়। এর সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা শুরু হয় এবং রোগী বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও সারা গায়ের এই ফোস্কা সারতে বহুদিন সময় নেয়। আর তারপর সেই দাগ যেতেও অনেক সময় লাগে।

যে ভাবে ছড়ায়-
মূলত আক্রান্ত রোগীর পক্সের ফোস্কার সংস্পর্শে এলে তা সহজেই ছড়ায়। রোগীর কাশি বা হাঁচি থেকে দ্রুত ছড়ায়।রোগীর ব্যবহার করা জিনিসের ব্যবহার করলে, অজান্তেই তা ছড়িয়ে পরে।আবার গর্ভবতী মায়ের থেকে শিশু এবং নবজাতক শিশুর হতে পারে যদি আগে মায়ের এই রোগ হয়।যেহেতু এটা একটা প্রাকৃতিক ভাইরাস তাই বেশি সাবধানতা অতি প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা চিকেন পক্স জীবনে একবার হয়। কিন্তু শরীরে ২ শতাংশ কোনও কারণে ভাইরাস সাপ্রেসড রয়ে গেলে তাঁদের ২-৩ বারও চিকেন পক্স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

chicken pox reason
chicken pox reason

প্রাকৃতিক সচেতনতা–
এই সময় আমাদের সবুজে প্রকৃতিও অনেক কিছু জোগান দেয় আমাদের এই বিপদের ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে| বসন্তের চেনা সজনে ফুল, সজনে শাক, নিমপাতা আর করলা খুব উপকারী এই রোগের জন্য। আবার শীতের কমলালেবু আর আমলকি থেকেও ভিটামিন সি-এর মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ানো যায়। কাঁচা হলুদের সাথে কচি নিম পাতা মাখলেও ভালো ফল পাওয়া যায়|

একবার যখন ফোস্কা বেরনো আরম্ভ হল তারপর যদি এই ভাইরাসকে সাপ্রেস (চেপে) দেওয়া হয় ওষুধের মাধ্যমে, তাহলে পরবর্তীকালে এর থেকে বিভিন্ন রোগ হতে পারে- যেমন নিউমোনিয়া, সেপটিক টনসিলাইটিস, রিউম্যাটয়েড আথ্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড ফিভার ইত্যাদি। তাই এই রোগ হয়ে গেলে যখন রোগীর ফোস্কা শুকতে শুরু করে, তখন খুব সাবধানতার সঙ্গে ওগুলো একটা দেশলাই বাক্সে জমিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া উচিত|

হোমিও ওষুধ-
ভেরিওলিনাম ২০০ এমএল নামক একটি ওষুধ ৭ দিন- শিশুদের জন্য ২টি করে বড়ি, আর যেকোনো বড়দের ক্ষেত্রে ৪টি করে বড়ি দিনে দু’বার খেতে হবে। এই মাসের শুরুতে ৭ দিন খেয়ে নিলেঅনেকটা নিশ্চিন্ত হয় যায় ।

আয়ুর্বেদে সমাধান-
শিশুদের ক্ষেত্রে — তুলসি অ্যান্টিভাইরাস, তাই ২-৪ তুলসি পাতার সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো।গুলঞ্চর রস অর্ধেক চায়ের চামচ সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো।
বড়দের ক্ষেত্রে — ৭-৮টি তুলসি পাতা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ান।৩ চা-চামচ গুলঞ্চর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ান।

যা করবেন না —
১। ঠাণ্ডা জলে স্নান করবেন না। হালকা গরম জলে স্নান করুন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি নিম পাতা সেদ্ধ জলে স্নান করেন।
২। খুব সাবধানে সাবান জলে দিয়ে পক্স ধুতে পারবেন। তবে একদম গা ঘষতে যাবেন না।
৩। স্নান শেষে তোয়ালে বেশী চেপে গা মুছতে যাবেন না। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ভাবেই শরীর শুকিয়ে নিন।
৪ । চুলকানি কমাতে ওলিভ অয়েল বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন।
৫| পাঁঠার মাংস, দুধ বা যে কোনও রকম দুধের তৈরি জিনিস খাবেন না|

তবে অবশ্যই ডাক্তারকে দেখিয়ে নেবেন| আগে জেনে নিন, বসন্ত বা চিকেন পক্স হয়েছে কিনা| ঋতুরাজের আগমনে খুব ভালো থাকুন|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *