Death Anniversary of Hiralal Sen & Manna Dey

Hiralal Sen & Manna Dey: প্রয়াণ দিবস

লাইফস্টাইল

হীরালাল সেন (Hiralal Sen & Manna Dey) ছিলেন একজন বাঙালি চিত্রগ্রাহক, যাঁকে সাধারণত ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন বলে গণ্য করা হয়।

হীরালাল সেন (Hiralal Sen & Manna Dey) ছিলেন একজন বাঙালি চিত্রগ্রাহক, যাঁকে সাধারণত ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একজন বলে গণ্য করা হয়। ১৮৬৬ সালে তিনি বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাতার আট সন্তানের মধ্যে হীরালাল ছিলেন দ্বিতীয়। মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৮৭৯ সালে মাইনর পরীক্ষা পাস করে ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে ভর্ত্তি হন। কলকাতায় এসে আই।এস।সি। অধ্যয়ন কালে চলচ্চিত্রের প্রতি ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন ভারতের সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপনবিষয়ক চলচ্চিত্রের নির্মাতা। সম্ভবতঃ ভারতের প্রথম রাজনীতিক ছবি তিনিই বানিয়েছিলেন। ১৯১৭ সালে এক অগ্নিকাণ্ডে তার তৈরি সকল চলচ্চিত্র নষ্ট হয়ে যায়।

ভাই মতিলাল সেনের সাহায্যে লন্ডনের ওয়ারউইক ট্রেডিং কম্পানীর চার্লস আরবানের থেকে তিনি একটি ‘Urban Bioscope’ কিনে নেন। পরের বছর তিনি ভাইয়ের সাথে রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানীর গোড়াপত্তন করেন। হীরালাল সেন চল্লিশটিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। ১৯০১ আর ১৯০৪-এর মধ্যে ক্লাসিক থিয়েটারের পক্ষে তিনি অনেকগুলি ছবি নির্মাণ করেন, যথা ভ্রমর, হরিরাজ, বুদ্ধদেব ইত্যাদি। তার সৃষ্ট ছবির মধ্যে একটি ছিল পূর্ণদৈর্ঘ্যের — ১৯০৩-এ তৈরি আলিবাবা ও চল্লিশ চোর।’জবাকুসুম হেয়ার অয়েল’ আর ‘এডওয়ার্ডস টনিক’-এর ওপর বিজ্ঞাপনী ছবি বানিয়েছিলেন। ভারতীয়দের মধ্যে বিজ্ঞাপনে ফিল্ম ব্যবহার করায় তিনিই প্রথম ছিলেন। ১৯১৭ সালে ২৪শে অক্টোবর তিনি পরলোক গমন করেন।

বাংলা ও ভারতীয় সংগীতের এক কিংবদন্তির নাম মান্না দে। মান্না দে’র প্রকৃত নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। ১৯১৯ সালের ১লা মে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।মান্না দে’র গান শেখা শুরু তার কাকা – ১৯২০ ও ৩০-এর দশকের বিখ্যাত গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে’র কাছে। কৃষ্ণচন্দ্র দে ছিলেন অন্ধ এবং ভ্রাতুষ্পুত্র মান্না দে ছিলেন একাধারে তার শিষ্য ও সহকারী। তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল এবং স্কটিশ চার্চ কলেজে[৩] স্নাতক শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে-র সঙ্গে গান গাওয়ার জন্য ১৯৪২ সালে তিনি মুম্বাইর উদ্দেশে পাড়ি জমান।শুরুতে তিনি কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র অধীনে সহকারী হিসেবে এবং তারপর শচীন দেব বর্মণ এর অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য স্বনামধন্য গীতিকারের সান্নিধ্যে আসেন ।

তামান্না’ (১৯৪৩) চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে মান্না দে‘র অভিষেক ঘটে। সুরাইয়া’র সাথে দ্বৈত সঙ্গীতে গান এবং সুরকার ছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্র দে। একাধিক ভাষায় তিনি সুনামের সাথে গান গেয়েছেন। সংগীত জীবনে গেয়েছেন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গান। সংগীত ভুবনে তার এ অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৭১ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মবিভূষণ এবং ২০০৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননায় ভূষিত করে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণ দেয়। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২০১৩ সালের ২৪শে অক্টোবর। সুরের মাঝেই তিনি অমর হয়ে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *