মহাসমারোহে দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে মহাবীর জয়ন্তী ।

ইতিহাস লাইফস্টাইল

জৈনদের অন্যতম পথনির্দেশক এই ধর্মের ২৪ তম ও তথা শেষ তীর্থঙ্কর এই মহাবীর। খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ৫৪০ অব্দে উত্তর বিহারের বৈশালীর কুন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বর্ধমান ওরফে মহাবীর।

আজ মহাবীর জয়ন্তী (Mahavir Jayanti)। বিশ্বের অগণিত জৈন সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দিন। প্রতিবছর ২৯ মার্চ দিনটিকেই জৈন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মহাবীরের জয়ন্তী হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয়। জৈনদের ইতিহাস অনুযায়ী, মোট ২৪ জন তীর্থঙ্কর বা আধ্যাত্মিক শিক্ষকের আবির্ভাবের কথা জানা যায়।

এঁদের অন্যধারার শিক্ষার ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে জৈন ধর্ম। এঁদের মধ্যে শেষ তীর্থঙ্কর হলেন মহাবীর। তবে ভারতে জৈন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা কোটিরও কম। জানা যায়, উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য আরো কয়েকটি দেশে প্রবাসী জৈনদের অস্তিত্ব রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে জৈনদের অনেক প্রভাব রয়েছে।

এই ‘জৈন’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘জিন’ শব্দ থেকে। জগতের সকল পার্থিব আসক্তি ও ষড়রিপুকে জয় করে যে ব্যক্তি পবিত্র অনন্ত জ্ঞান লাভ করেছেন, তিনিই ‘জিন’। ‘জিন’-দের প্রচারিত পথের অনুগামীদের ‘জৈন’ বলে। জৈনদের অন্যতম পথনির্দেশক এই ধর্মের ২৪ তম ও তথা শেষ তীর্থঙ্কর এই মহাবীর।

খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ৫৪০ অব্দে উত্তর বিহারের বৈশালীর কুন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বর্ধমান ওরফে মহাবীর। মহাবীরের পিতার নাম সিদ্ধার্থ ও মা ত্রিশলা। কঠোর সাধনা ও আত্মত্যাগের জন্য বর্ধমান হয়ে ওঠেন ‘মহাবীর’। মহাবীর জয়ন্তীর দিন দেশ, বিদেশে ছড়িয়ে থাকা জৈন ধর্মাবলম্বী মানুষ মন্দিরে গিয়ে আরাধনা করেন।

মহাবীর, বর্ধমান নামেও পরিচিত। মহাবীরকেই সাধারণত জৈনধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়। যদিও ২৩শ জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ যে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন সেই বিষয়ে যথেষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ৩০ বছর বয়সে তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করেন এবং বস্ত্র সহ যাবতীয় জাগতিক সম্পত্তি পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। তারপর সাড়ে বারো বছর মহাবীর গভীর ধ্যান অনুশীলন করেন এবং কঠোর তপস্যা করেন। এরপর তিনি ‘কেবলী’ (সর্বজ্ঞ) হন।

মহাবীর জীবনের মান উন্নত করার জন্য ‘অহিংসা’ (প্রত্যেক জীবের প্রতি কায়মনোবাক্যে হিংসা বর্জন), ‘সত্য’ (কার্যে ও বাক্যে সত্যাচরণ), ‘অস্তেয়’ (চুরি না করা), ‘ব্রহ্মচর্য’ (ইন্দ্রিয়-সংযম) ও ‘অপরিগ্রহ’ (সংসারে অনাসক্তি) – এই পাঁচটী ব্রত পালনের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রচার করেন| জৈনরা বিশ্বাস করেন, মহাবীর ৭২ বছর বয়সে মোক্ষ (জন্ম ও মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি) লাভ করেছিলেন।

আজ দিনের বেলার দিকে মহাবীরের মূর্তি ও সুসজ্জিত রথ নিয়ে সুন্দর ধর্মীয় শোভাযাত্রা করেন জৈন ধর্মাবলম্বীরা। সারাদিন প্রার্থনা, প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে তীর্থঙ্কর মহাবীরের জন্মদিনটি পরম শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয়। কলকাতায় মূলত ২টি জৈন মন্দির বিখ্যাত। বেলগাছিয়ার পরেশনাথের মন্দির এবং উত্তর কলকাতার গৌরীবাড়িতে গায়ে গায়ে লাগোয়া মন্দির। এমন শুভ পবিত্র দিবস উপলক্ষে মহাবীরের প্রেম ও সংহতির আদর্শকে সামনে রেখে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। মহাবীরের অহিংসা ও সহমর্মিতার বাণী অমর হয়ে থাকবে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *