Lack of Sleep at Night Solutions

রাতে ঘুমের অভাব — শরীর ও মনের অসুখ।

লাইফস্টাইল

মস্তিষ্কের নিউরো হরমোনাল অসামঞ্জস্য অনিদ্রার অন্যতম কারণ। অনিদ্রার ফলে কর্মক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা ও মনোযোগ কমে যেতে পারে।

অনেকে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার সমস্যায় ভোগেন। বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা হয়। শরীর সারা দিনের কাজকর্মের পর ছন্দগতভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন ঘুমের প্রয়োজন পড়ে। একজন স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক ছয় থেকে আট ঘণ্টা, অথবা সব মিলিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা ঘুমায়। এই ঘুম যখন কম হয়, তাকে অনিদ্রা বলা হয়।

Lack of Sleep at Night Solutions
Lack of Sleep at Night Solutions

মস্তিষ্কের নিউরো হরমোনাল অসামঞ্জস্য অনিদ্রার অন্যতম কারণ। অনিদ্রার ফলে কর্মক্ষমতা, বুদ্ধিমত্তা ও মনোযোগ কমে যেতে পারে। শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে। যেমন, ওজনাধিক্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া এমন আরো কিছু।ঘুম না হলে শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, ঘুম না হওয়া কোনো রোগ নয়, তবে ঘুম না হলে নানা রোগ আক্রমণ করতে পারে।

১. ঘুমানোর রুটিন তৈরি — ঘুম যেকোনো প্রকার অসুস্থতা থেকে শরীরকে শতকরা ৫০ ভাগ সুস্থ করে তোলে।রাতে ভালো ঘুম হওয়ার সাথে ভালো স্বাস্থ্যের একটি বিষয় জড়িয়ে থাকে। প্রতিটা মানুষের শরীরের চাহিদার উপর ঘুম নির্ভর করে।প্রতিদিন একটি নিদির্ষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন। একটি রুটিন তৈরি করুন। প্রতি রাতে ওই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা শুরু করুন। ছুটির দিন হোক বা অন্য যে কোনো দিন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।

২. ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি — ঘুম হওয়ার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার তা হল ভালো ঘুমের পরিবেশ থাকা। তাই খেয়াল রাখুন আপনার ঘরটি যেন শান্ত, অন্ধকার এবং আরামদায়ক হয়।বিভিন্ন ধরনের শব্দ হলে, বা ঘরে আলো থাকলে, ঘর খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা থাকলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে থাকে।ঘর গরম থাকলে ফ্যান ছেড়ে দিন বা জানালা খুলে দিন। চোখে যেন আলো না পড়ে সেজন্য আই মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি থেকে দূরে — ঘুম হওয়া বা ঘুম থেকে জেগে ওঠার ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণ করে মেলাটোনিন হরমোন। অনেকে মোবাইল বা কম্পিউটার নিয়ে সময় কাটায়। কিন্তু এতে ঘুম না আসার সমস্যাটি আরো বেড়ে যায়।ইলেকট্রনিক স্ক্রিনগুলো একটি নীল রশ্মি নিঃসরণ করে যা অনিদ্রা সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে শরীর থেকে মেলাটোনিন উৎপন্ন হতে বাঁধা পায়।

৪. রিল্যাক্সেশন — ঘুমের জন্য শরীর কে রিল্যাক্স রাখা খুব কার্যকর একটি পদ্ধতি। আরো ভালো হয়, যদি এটি আপনার দৈনন্দিন রুটিনের সাথে মেনে চলেন।ঘুমানোর আগে গভীর নিঃশ্বাস এর ব্যায়াম করতে পারেন। এতে শরীর ও মন দুটোই রিল্যাক্সে থাকে এবং ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়।শরীরকে যথাসম্ভব শিথিল করে দিন।আপনার মন চিন্তামুক্ত হবে। আর মন চিন্তামুক্ত থাকলে ঘুম ও সহজেই চলে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *