Worms in Humans and Redress

Worms in Humans: শরীরের ক্ষতিকর কৃমি থেকে রেহাই

লাইফস্টাইল

বাচ্চাদের শরীরে বাসা বাঁধতেই বেশি আগ্রহী থাকে ক্ষতিকর পরজীবীর দল। শরীরে কৃমির (Worms in Humans) মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই নানান উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়।

পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ মানুষের পেটেই কৃমি থাকে। তবে বড়দের তুলনায় বাচ্চাদের শরীরে বাসা বাঁধতেই বেশি আগ্রহী থাকে ক্ষতিকর পরজীবীর দল। শরীরে কৃমির (Worms in Humans) মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই নানান উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়। এক মার্কিন চিকিৎসকের মতে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃমির সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বেশ কিছু ঘরোয়া উপায়েও কৃমির হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।

Types of Worm
Types of Worm

শরীরে কৃমির উপসর্গ মানেই:- ১। মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়া। ২। মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া। ৩। ঘুমানোর সময়ে মুখ থেকে লালা পড়া। ৪। অকারণে ক্লান্ত লাগা। ৫। ত্বকে র‌্যাশ, চুলকানি। ৬। ক্ষুধা না লাগা। ৭। গা-হাত-পা ব্যথা। ৮। অনিয়মিত ঋতুর সমস্যা।

এই কৃমির সমস্যায় ঘরোয়া সমাধান:-
১। শশার বীজ — কৃমির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে শশার বীজ অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। শশার বীজ শুকিয়ে, গুঁড়া করে রোজ ১ চামচ করে খেতে পারলে দ্রুত উপকার পাবেন।
২। লবঙ্গ– লবঙ্গে থাকা অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি পারাসাইটিক, ব্যাকটিরিসাইডাল উপাদান কৃমির ডিম ধ্বংস করে দেয়। এক কাপ গরম জলে এক চা-চামচ লবঙ্গের গুঁড়ো মিশিয়ে ১০-২০ মিনিট জ্বাল দিন। বাচ্চাকে এটি দিনে দু’বার দিন। এক সপ্তাহ এমন চলতে থাকুক, দেখবেন কৃমি অকালে প্রাণ হারিয়েছে।
৩। আদা– আদা হজমের সমস্ত রকমের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটে ইনফেকশন, ইত্যাদি দূর করতে আদার জুড়ি মেলা ভার। কাঁচা আদার রস খান খালি পেটে। কৃমির সমস্যায় দ্রুত ফল পাবেন।
৪। হলুদ– কাঁচা হলুদ অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। কৃমির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে এটি খুবই কার্যকরী একটি উপাদান। আধা কাপ উষ্ণ জলে সামান্য হলুদ গুঁড়া এবং লবণ মিশিয়ে খান। এই মিশ্রণ ৫ দিন পর পর খেতে পারলে দ্রুত উপকার পাবেন।
৫। করলা — তেঁতো খাবার বলতে প্রথমেই মাথায় যে খাবারটা আসে, তাই হল করলা। কৃমি তাড়াতে এই করলাকে কিন্তু ভুললে চলবে না। বাচ্চার পেটের ভিতর কৃমির সঙ্গে লড়াই করতে পারে। এক কাপ করলার রস জল আর মধুর সাথে মিশিয়ে দু’দিন অন্তর বাচ্চাকে দিন।
৬। আনারস– আনারসের ব্রোমেলিন এনজাইম শরীরে বাসা বাঁধা প্যারাসাইট বা পরজীবী মারতে সাহায্য করে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর পর তিন-চার দিন শুধু আনারস খেয়ে থাকতে পারলে কৃমির সমস্যা সম্পূর্ণ সারানো সম্ভব।
৭। নিম– নিমে আছে অ্যান্টি প্যারাসাইটিকাল উপাদান, অন্ত্রের কৃমি মারতে যার কোনও তুলনাই নেই। গরম দুধে নিমের গুঁড়ো আর মধু মিশিয়ে হপ্তায় দু’বার বাচ্চাকে দিতে পারেন। মাখনে রোস্ট করে ভাত বা পাউরুটির সাথে দিতে পারেন। এতেও যদি বাচ্চার আপত্তি হয়, তা হলে এক গ্লাস গরম জলে আধা চা-চামচ নিমের পেস্ট মিশিয়ে খালি পেটে খাইয়ে দিন ওকে। এক সপ্তাহ এই নিয়ম মানুন, কৃমি পালাতে বাধ্য।
৮। মিষ্টি কুমড়ার বীজ-– দুই চামচ মিষ্টি কুমড়ার বীজের গুঁড়া ৩ কাপ জল দিয়ে আধ ঘণ্টা সিদ্ধ করুন। ওই জল সকালে খালি পেটে এক সপ্তাহ খান। উপকার পাবেন। এ ছাড়া ১ চামচ মিষ্টি কুমড়ার বীজের গুঁড়ার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়েও খেতে পারেন। কৃমির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *