20 major tourist attractions in Kolkata city

কলকাতা শহরের সেরা ২০ টি মুখ্য ভ্রমণ স্থল

ভ্রমণ

কলকাতার সেরা ২০ টি মুখ্য ভ্রমণস্থল (Major Tourist Attractions in Kolkata), প্রবেশের সময় ও টিকিটের দাম সহ । যদিও লিস্টের বাইরে আরও কিছু প্রসিদ্ধ কলকাতার ভ্রমণস্থল আছে যেমন, …

হাইলাইটস:- কলকাতার সেরা ২০ টি ভ্রমণ স্থান (Major Tourist Attractions in Kolkata) :

১। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল (রানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে তৈরি)।
২। ইকো পার্ক (মোট আয়তন ৪৮০ একর এবং এর সঙ্গে একটি দ্বীপ রয়েছে)।
৩। হাওড়া ব্রিজ (৭০৫ মিটার লম্বা ব্রিজটি কোনো পিলার ছাড়াই শুন্যে দাঁড়িয়ে আছে) ।
৪। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ী (রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবন এইখানেই কাটান) ।
৫। বোটানিক্যাল গার্ডেন (এখানে আছে ১২ হাজারেরও বেশী ভিন্ন প্রজাতির গাছ) ।
৬। বেলুড় মঠ (হিন্দু, ইসলাম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান স্থাপত্যের মিশ্রণে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন)।
৭। রবীন্দ্র সদন (প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক, নৃ্ত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী দেখতে পাওয়া যায়) ।
৮। কলকাতা চিড়িয়াখানা (উদ্বোধন করতে এসেছিলেন স্বয়ং ইংল্যান্ডের রাজা প্রিন্স অফ ওয়েলস সপ্তম এডওয়ার্ড)।
৯। জাদুঘর (ভালো ভাবে সবটা দেখতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লাগবে)।
১০। বিড়লা তারামণ্ডল (এশিয়ার বৃহত্তম প্ল্যানেটরিয়াম, তথা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্ল্যানেটরিয়াম)।
১১। সাইন্স সিটি (এখানে আছে স্পেস এক্সিবিউশন, ডায়নামোশেন, আর্থ এক্সপ্লোরেশন, মেরিটাইম সেন্টার ও সায়েন্স পার্ক।)।
১২। ফোর্ট উইলিয়াম (হুগলী নদীর পূর্ব দিকে থাকা শতবছরের বেশী পুরনো এই ভবন)।
১৩। অ্যাকোয়াটিকা (আপনি কৃত্রিম নদীসহ কৃত্রিম ঢেউ পাবেন)।
১৪। মাদার’স ওয়াক্স মিউজিয়াম (এই জাদুঘরটি ভারতের প্রথম মোমশিল্পের জাদুঘর)।
১৫। কফি হাউস ও কলেজ স্ট্রিট (নষ্টালজিকতা ও বিশ্বের শব্দে বড় বই -এর বাজার) ।
১৬। নেতাজি ভবন (এখানে ভারতীয় নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা চলে)।
১৭। দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি (প্রবেশের স্কাইওয়ার্ক মনকে ভরিয়ে দেবে)।
১৮। সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল (গির্জাটি গথিক স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন)।
১৯। নাখোদা মসজিদ (মসজিদের নামাজ ঘরের ধারণক্ষমতা হল কমবেশি ১০,০০০)।
২০। কালীঘাট মন্দির (প্রত্যেক সন্ধ্যার আরতি মন ভরিয়ে দেয়)।

প্রাণের শহর (Kolkata) – রবিঠাকুরের দ্বিতীয় ভাগ পড়তে পড়তে কলকাতার সাথে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এরপর অগণিত সাহিত্যে ও গানের সরণিতে জায়গা নিয়েছে তিলোত্তমা (Major Tourist Attractions in Kolkata)। অগণিত মানুষের প্রাণের প্রবাহতে জেগে থাকে এই প্রাণের শহর। গঙ্গার ধারাবাহক হুগলি নদী ইতিহাসের অনেক কিছুর সাক্ষী বহন করে আজ ছুটে চলেছে সাবলীল গতিতে। ধর্মীয় আবহে, খেলার আবেগে, সংস্কৃতির চেনা মোড়কে খুব সজজেই নির্মল হৃদয় হয়ে ওঠে। মহিনের সুরে অনুরণিত হয় — স্মৃতির ভিতর ট্রামের ধ্বনি বিবাগী সুর গড়ে…।’’

কলকাতার (Kolkata) ইতিহাস

প্রথম থেকে শেষে পর্যন্ত তোমাকে চাই। তবু এই চাওয়ার সীমা থামে না। সেই আবছা অতীতের এক ব্রহ্ম মুহূর্তে কল্লোলিনীর জন্ম। দীর্ঘ দিনের পথচলায় এই শহরটা হয়ে যেন হয়ে উঠেছে একটা বিশেষ ঐতিহ্যের ধারক বাহক। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই কলকাতা যেন শুধু একটা পিচ-ইট-পাথরের শহর নয়, বরং একটা বন্ধুত্বের জীবনধারা। ১৬৯০ সালে তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এজেন্ট জব চার্ণক, নদীর ধারের এই এলাকাটিকে ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু বানানোর কথা ভাবেন। তারপর সুতানুটি, গোবিন্দপুর এবং কলিকাতা নামে তিনটি গ্রাম কিনে নেন স্থানীয় জমিদারদের কাছ থেকে।

মুঘলরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ব্যবসা করার স্বাধীনতা দেন বাৎসরিক ৩০০০ টাকার বিনিময়ে। যদিও ১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা এই কলকাতা দখল করে নেন। কিন্তু ১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ আবার কলকাতার দখল নিয়ে নেন। একটু গুছিয়ে নেওয়ার পর ১৭৭২ সালে কলকাতাকে ভারতবর্ষের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টীংস সকল গুরুত্বপূর্ণ অফিস মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। পরবর্তী সময়ে প্রায় ১৩৯ বছর ভারতবর্ষের রাজধানী হিসেবে কলকাতা থেকে যায়। একটা সময় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ, এই তিনের রাজধানী ছিল কলকাতা।

কলকাতার ভৌগোলিক বিবরণ

কলকাতা শহর (Kolkata) ভারতের পূর্বদিকে ২২°৩৩′ উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮°২০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শহরের গড় উচ্চতা ১.৫ মিটার থেকে ৯ মিটারের মধ্যে। এই শহরের বার্ষিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৮° সেন্টিগ্রেড এবং মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯°-৩০° সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে। বর্ষার পর থেকে শীতের শেষ অর্থাৎ আগস্ট থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এখানে বেড়ানো খুব আরামদায়ক। বিমানে দমদম আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ট্রেনে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন, বা বাস কিংবা যেকোনো গাড়িতেই পৌঁছে যাওয়া যাবে শহর কলকাতায়।

প্রায় ১,৮৮৭ বর্গকিলোমিটারের কলকাতা শহরে নতুন পুরনো মিলিয়ে অনেক কিছুই দেখার আছে। ইংরেজরা শাসন করার সাথে পরম যত্নে গড়ে তুলেছিল এই শহরকে।
সময়ের নিয়মে সাবেকিকে জাপটে ধরে আরও আধুনিক হয়েছে এই শহর। সম্পূর্ণ শহরের স্বাদকে কাছ থেকে উপযোগ করতে বেশ কয়েকটা দিন প্রয়োজন। বাস, ট্যাক্সি, ট্রাম, ট্রেন, লঞ্চ ও পাতালরেল করে পৌঁছে যেতে হবে শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। বিদেশী হলে সঙ্গে রাখতেই হবে প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট ও ভিসা। ক্যামেরা রাখুন কাছের ব্যাগে। এবার প্রশাসনের নিয়ম মেনে চলুন শহরটাকে এবার আপন করে নিই –

Victoria Memorial Tour timings and entry fee
Victoria Memorial Tour timings and entry fee

১: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

পরাধীন ভারতে ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার নামানুসারে তৈরি করা হয় এই বিখ্যাত স্থাপনা। ১৯০৬ সালে এই মেমোরিয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং কাজ শেষ হয় ১৯২১ সালে। এই স্মৃতিসৌধ বানাতে সেই সময় খরচ হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা।

৫৭ একর জায়গা জুড়ে থাকা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আছে মোট ২১ টি বাগান, ২৮ হাজারেরও বেশী স্থাপনা ও প্রায় ৪ হাজার পেইন্টিং। প্রতিবছর কমবেশি ২০ লাখ মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। মাথার উপর থাকা পরী এর প্রধান আকর্ষণের বিষয়।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

ভেতরে প্রবেশের সময় সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত। প্রবেশ মূল্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ২০ টাকা, বিদেশী পর্যটকদের জন্য ২০০টাকা।

New Town Eco Park timings and entry fee
New Town Eco Park timings and entry fee

২: ইকো পার্ক

নিউ টাউন ইকো পার্ক বা প্রকৃতি তীর্থ কলকাতার রাজারহাটে অবস্থিত একটি সবুজে মোড়া উদ্যান এবং ভারতের বৃহত্তম উদ্যান। এই উদ্যানের মোট আয়তন ৪৮০ একর এবং এর সঙ্গে একটি দ্বীপ-সহ ১০৪ একর আয়তনের জলাশয় বা জলাভূমি রয়েছে।

পার্ক তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে:

১) জলাভূমি, ঘাসফুল এবং শহুরে বনের মত পরিবেশগত অঞ্চল ।

২) থিম উদ্যানসমূহ এবং খোলা স্থান ।

৩) শহুরে বিনোদনমূলক স্থান।

আসার নির্দেশিকা:

গ্রীষ্মকালীন সময়: (১ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর)
মঙ্গলবার থেকে শনিবার = দুপুর ২:৩০ টা থেকে রাত ৮:৩০ টা।
রবিবার এবং ছুটির দিন = দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৮:৩০ টা।

শীতকালীন সময়: (১ নভেম্বের থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি)
মঙ্গলবার থেকে শনিবার = দুপুর ১২ টা থেকে রাত ৭:৩০ টা।
রবিবার এবং ছুটির দিন = দুপুর ১১ টা থেকে রাত ৭:৩০ টা।

পার্ক সোমবার বন্ধ থাকে। পার্কে প্রবেশ এবং টিকিট কাউন্টার রাত ০৭:৩০ টায় বন্ধ কারা হয়। এখানকার প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

Howrah Bridge History
Howrah Bridge History

৩। হাওড়া ব্রিজ

ব্যতিক্রমী এই হাওড়া ব্রিজ কলকাতাকে চেনায়। এই হাওড়া ব্রিজ না দেখলে আপনার কলকাতা ভ্রমণে, একটা অসম্পূর্ণতা থেকে যাবে। শহরের অন্যতম ব্যাস্ত এলাকায় গর্ব ভরে এটি দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৪৫ সালে তৈরি করা এই ব্রিজটি ব্যাবহার করা হয় কলকাতা এবং হুগলীর মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে। সবথেকে আশ্চর্যের হল, এই অভূতপূর্ব ব্রিজটির নদীর উপর কোনো পিলার নেই, দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন শুন্যে ভাসছে । হাওড়া ব্রীজ নির্মাণ শিল্পের এক অবিস্মরণীয় সৃষ্টি ।

১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ প্রশাসন যা পরিকল্পনা করেছিল, তা রূপায়িত হয়েহিলো ১৯ বছর পর ১৮৭৪ সালে। পরে নতুনরূপে দিয়ে ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিজটি জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ১৯৬৫ সালে কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সন্মানে এই ব্রিজটির নামকরন করা হয় রবীন্দ্র সেতু। দৈর্ঘ্যে ব্রিজটি ৭০৫ মিটার লম্বা ও চওড়ায় ৭১ ফুট। সঙ্গে পথচারীদের জন্য ১৪ ফুট চওড়া ফুটপাথ দুদিকে। কলকাতা থেকে হাওড়া স্টেশন যেতে উঠতে হবে এই সেতুতে।

Jorasanko Thakurbari timings and entry fee
Jorasanko Thakurbari timings and entry fee

৪। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ী

পৃথিবীর বহু মানুষের কাছে এই স্থানটি সুপরিচিত। অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন বড় বাজারে, শেঠদের জমিতে। ধীরে ধীরে এই পাড়াটি হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যের বহু বিখ্যাত ঘটনার সাক্ষী। বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের বড় একটা সময় এইখানেই কাটান।

প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের সাহিত্য প্রেমী ও পর্যটকরা কবিগুরুর এই বাড়ী দেখতে ছুটে আসেন। বিশেষ করে প্রতিবছর মে মাসের ৮ তারিখে সবথেকে বেশি ভিড় হয়, কারণ ওই দিনই যে জন্মেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । মস্ত বাড়িটি একটি জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে কবিগুরুর যাবতীয় জিনিসপত্র, তাঁর সাহিত্যকর্ম, চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র ইত্যাদি সব সংরক্ষিত আছে। মোট চারটি ভবনের ১৮টি গ্যালারি জুড়ে আছে রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়াম। বিকাল ৫টায় বন্ধ হয়ে যায় ঠাকুর বাড়ির দরজা।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সোমবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০৩০ টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে । প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা।

Botanical garden Kolkata timings and entry fee
Botanical garden Kolkata timings and entry fee

৫। বোটানিক্যাল গার্ডেনস

হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে প্রায় ২৭৩ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে কলকাতার ফুসফুস, বিখ্যাত বোটানিক্যাল গার্ডেন। ১৭৮৬ সালে এই উদ্যান তৈরী করা হয়। প্রত্যেক প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এই বোটানিক্যাল গার্ডেনের আকর্ষণ অতুলনীয়। এখানে আছে ১২ হাজারেরও বেশী ভিন্ন প্রজাতির গাছ। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন অংশ থেকে সংগৃহীত ২৫ লাখেরও বেশী শুষ্ক উদ্ভিদ নমুনা রয়েছে।

চারিদিকে সবুজের সমারোহ চোখ ও মনকে ভরিয়ে দেয়। বোটানিক্যাল গার্ডেন এর প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হল এক ২৫০ বছরের প্রাচীন বট গাছ। ফাইকাস বেঙ্গলহেনসিস (Ficus Benghalensis) নামে পরিচিত এই গাছটি প্রায় ৯৮ ফুট উঁচু এবং প্রায় ১৩০০ ফুটের এক পরিধি ঘিরে আছে।

প্রবেশ মুল্য ও সময়:

প্রতিদিন সকাল ১০-টা থেকে সন্ধ্যা ৬-টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা ও বিদেশিদের জন্য ১০০ টাকা।

Belur Math timings
Belur Math timings

৬। বেলুর মঠ

শিক্ষিত ও ধর্মপ্রাণ অথবা মানবতাবাদী মানুষদের জন্য এটি একটি চরম আকর্ষণের জায়গা। বেলুড় মঠ রামকৃষ্ণ মন্দির ও রামকৃষ্ণ ভাব-আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। এই মন্দিরটি হিন্দু, ইসলামী, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান স্থাপত্যের মিশ্রণে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন। জগৎ প্রসিদ্ধ রামকৃষ্ণ মিশন ও রামকৃষ্ণ মঠের কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হয়। মঠের প্রাচীন দালান কোঠা আর সবুজ চারপাশ এক অপূর্ব শান্তিতে ভরিয়ে দেবে।

প্রতি সন্ধ্যায় আরতি শুরু হওয়ার সময় একটি বিশেষ ঘণ্টা বাজানো হয়, তারপর পরিদর্শকরা শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের মূল মন্দিরের ভিতরে এসে বসতে পারে । সন্ধ্যা আরতির সময় বাইরে চলা-ফেরা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। ৪০ একর জমির উপর অবস্থিত মূল মঠপ্রাঙ্গন রামকৃষ্ণ পরমহংস, সারদা দেবী, ও স্বামী বিবেকানন্দের দেহাবশেষের উপর অবস্থিত । এখানেই রামকৃষ্ণ মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনের সদর কার্যালয় অবস্থিত।

মন্দির দর্শনের সময়:

এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর – সকাল ৬-টা থেকে সকাল ১১.৩০-টা। বিকাল ৪-টা থেকে সন্ধ্যে ৭-টা পর্যন্ত।

অক্টোবর থেকে মার্চ – সকাল সাড়ে ৬-টা থেকে সকাল ১১.৩০-টা। দুপুর ৩.৩০-টে থেকে বিকেল ৬-টা পর্যন্ত।

Rabindra Sadan Kolkata
Rabindra Sadan Kolkata

৭। রবীন্দ্র সদন

এটি হল মহানগরীর বাংলা সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রস্থল। জওহরলাল নেহেরু ১৯৬১ সালের ৮-ই মে কলকাতার রবীন্দ্র সদনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু, ১৯৬৭ সালের অক্টোবর থেকে এটি জনসাধারণের জন্য খোলা হয়েছিল। রবীন্দ্র সদনের সুন্দর মঞ্চটি থিয়েটার ও শহরের অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি প্রাণকেন্দ্র। এই রবীন্দ্র সদন চত্বর বাঙালি সমাজের সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের এক প্রধান কেন্দ্র।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাটক, নৃ্ত্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী দেখতে পাওয়া যায়। কলকাতা ময়দানের দক্ষিণ-পূর্ব কেন্দ্রে, এ.জে.সি.বোস রোড এবং ক্যাথিড্রাল রোডের সংযোগস্থলে এই রবীন্দ্র সদন অবস্থিত। রবীন্দ্র সদন এলাকা, রবীন্দ্র সদন মঞ্চ, নন্দন, বাংলা আ্যকাডেমী, গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা নিয়ে গঠিত। নাট্যমেলা, কবিতা উৎসব, ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সহ আরও অনেক কিছু এখানে আয়োজন করা হয়।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

এখানে কোনো প্রবেশ মূল্য নেই । আপনি যদি বাংলা আর্টফ্লিম -এর ভক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সরকারি মাল্টিপ্লেক্স অর্থাৎ নন্দনে প্রবেশ করে টিকিট কেটে, একটা সিনেমা দেখে ফেলতেই পারেন ।

Kolkata zoo timings and entry fee
Kolkata zoo timings and entry fee

৮। কলকাতা চিড়িয়াখানা

৮ থেকে ৮০ সকলের কাছেই আকর্ষণের কেন্দ্র চিড়িয়াখানা। ১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি কলকাতায় একটি চিড়িয়াখানা নির্মাণের কথা ভাবেন। ১৮৭৩ সালে তৎকালীন লেফটেনান্ট গভর্নর স্যার রিচার্ড টেম্পল কলকাতায় একটি চিড়িয়াখানা স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে সময় মাত্র ৫০০০ টাকা চিড়িয়াখানা নির্মাণের খরচ হিসাবে ধার্য করা হয়। ১৮৭৬ সালের ১লা জানুয়ারী এই চিড়িয়াখানা উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করতে এসেছিলেন স্বয়ং ইংল্যান্ডের রাজা প্রিন্স অফ ওয়েলস সপ্তম এডওয়ার্ড।

রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, আফ্রিকান সিংহ, জাগুয়ার, জলহস্তী, ভারতীয় একশৃঙ্গ গণ্ডার, রেটিকুলেটেড জিরাফ, গ্র্যান্ট’স জেব্রা, এমু, ড্রোমেডারি ক্যামেল ও ভারতীয় হাতি, আফ্রিকান বাফেলো, জ্যাঞ্জিবার ভেড়া, কাশ্মীরি ছাগল, ইন্ডিয়ান আন্টেলোপ, ইন্ডিয়ান গেজেল, হরিণ, সাপ, পাখি সহ অনেক কিছু এর আকর্ষণের বিষয়।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

বৃহস্পতিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে । মাথা পিছু প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

Indian Museum timings and entry fee
Indian Museum timings and entry fee

৯। জাদুঘর

ভারতীয় জাদুঘর একটি সাংস্কৃতিক ও বিজ্ঞান সম্মৃদ্ধ জাদুঘর। ব্রিটিশ আমল থেকেই কলকাতার এই জাদুঘরটিই ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম নাম পরিচিত। কলকাতা জাদুঘরে ছয়টি বিভাগ রয়েছে – শিল্পকলা, পুরাতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, ভূতত্ত্ব, প্রাণীতত্ত্ব ও অর্থনৈতিক উদ্ভিজ্জ। পরাধীন ভারতে, ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করে। এই জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা কিউরেটর ছিলেন ড্যানিশ বোটানিস্ট ড.নাথানিয়েল ওয়ালিচ।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সোমবার থেকে শুক্রবার ১০টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এবং শনি ও রবিবার ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ভারতীয় নাগরিকদের ৫০ টাকা ও বিদেশিদের জন্য টিকিটের দাম ৫০০ টাকা। স্কুল পড়ুয়াদের জন্য কোনও প্রবেশ মূল্য লাগবে না। স্মার্ট ফোনের জন্য ৫০ টাকা ও ক্যামেরার জন্য ১০০ টাকা দিতে হবে। ভালো ভাবে সবটা দেখতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লাগবে।

Birla Planetarium timings and entry fee
Birla Planetarium timings and entry fee

১০। বিড়লা প্ল্যানেটরিয়াম (তারামণ্ডল)

শিল্প ও সংস্কৃতির শহর কলকাতায় অন্যরকমের বিস্ময়, এই তারামণ্ডল। দিনের বেলা গভীর রাতের আকাশকে দেখার স্বাদই আলাদা। দক্ষিণ কলকাতার জওহরলাল নেহেরু রোডে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল, সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল ও ময়দানের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্ল্যানেটরিয়াম । বিড়লা তারামণ্ডল এশিয়ার বৃহত্তম প্ল্যানেটরিয়াম, তথা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্ল্যানেটরিয়াম।

১৯৬৩ সালের ২রা জুলাই, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এই প্ল্যানেটরিয়ামটি উদ্বোধন করেছিলেন। একেবারে পাল্টে যাওয়া অন্ধকার ঘরে, অত্যাধুনিক অপ্টোমেকানিক্যাল প্রোজেক্টর এর সাহায্যে বাস্তবিক রাতের পরিমণ্ডল সৃষ্টি করে। বিখ্যাত জার্মান সংস্থা কার্ল জেইসের কাছে থেকে আনা হয়েছে প্রোজেক্টর। অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের ন ’টি প্রজেক্টরের মাধ্যমে দর্শকদের চোখে আরও নিখুঁত করে ধরা পড়বে মহাজাগতিক বিভিন্ন রহস্য, ডিজিটাল প্রজেকশনে।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

ইংরাজী, হিন্দি ও বাংলা, এই তিনটি ভাষায় প্রদর্শনী রয়েছে। প্রবেশ মূল্য জন প্রতি ১০০ টাকা। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে । কিন্তু মাসের প্রতি দ্বিতীয় ও শেষ শুক্রবার বিকেল ৩টেতে খোলে ।

Science City timings and entry fee
Science City timings and entry fee

১১। সাইন্স সিটি

বিজ্ঞানের নানা দিক দেখে আসতে পারেন সাইন্স সিটিতে গিয়ে। এখানে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বর্তমান যুগের নানা জীবজন্তুর মূর্তি। সায়েন্স সিটি কলকাতার একটি বিজ্ঞান সংগ্রহালয় ,ও বিজ্ঞান-কেন্দ্রিক বিনোদন উদ্যান। এখানে আছে বিজ্ঞানের নানা দিক নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দেখার সুবিধা। ক্যাবল কার দিয়ে পুরো সাইন্স সিটি ঘুরে দেখা সুযোগ রয়েছে। ৫০ একর জমির উপর সায়েন্স সিটি, ১৯৯৭ সালের ১লা জুলাই সায়েন্স সিটি উদ্বোধন হয়।

সায়েন্স সিটি দু’টি ভাগে বিভক্ত। একটি সায়েন্স সেন্টার আর অন্যটি কনভেনশন। এখানে আছে স্পেস এক্সিবিউশন, ডায়নামোশেন, আর্থ এক্সপ্লোরেশন, মেরিটাইম সেন্টার ও সায়েন্স পার্ক। এসবের প্রতিটি বিভাগও আবার বিভিন্ন বিজ্ঞান চিত্র প্রদর্শনী, থ্রিডি প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্র নাট্যানুষ্ঠানস্থল।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সায়েন্স সিটি (Major Tourist Attractions in Kolkata) প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশ মূল্য ৪০ টাকা। এরপর রোড ট্রেন ১৫ টাকা, স্পেস থিয়েটার ৬০ টাকা, গ্রাভিটি কোস্টার ৩০ টাকা, টাইম মেশিন ২০ টাকা, মোনো সাইকেল ১৫ টাকা, ত্রিমাত্রিক (3D) প্রদর্শনী ৩০ টাকা, রোপওয়ে ৪০ টাকা + পরিষেবা কর, সায়েন্স অন স্ফিয়ার ২০ টাকা, প্যানোরমা শো অন হিউম্যান ইভোল্যুশন ৬০ টাকা, ইভোল্যুশন অব লাইফ – ডার্ক রাইড ৪০ টাকা, প্যানোরমা শো অন হিউম্যান ইভোল্যুশন + ইভোল্যুশন অব লাইফ – ডার্ক রাইড (কম্বো টিকিট) ৮০ টাকা।

জলপথে একদিনেই গঙ্গাসাগরআরও জানতে ক্লিক করুন …

Fort William Kolkata timings and entry fee
Fort William Kolkata timings and entry fee

১২। ফোর্ট উইলিয়াম

ইংরেজ শাসন কালে তৈরী হাওয়া এই বিশাল অট্টালিকাটি কলকাতার অন্যতম আকর্ষণের জায়গা। হুগলী নদীর পূর্ব দিকে থাকা শত-বছরের বেশী পুরনো এই ভবনটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। ইংরেজ আমলে এটি ব্যবহার করা হত জেলখানা হিসেবে। বর্তমানে এটি ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের হেড কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্বাধীন ভারতে এই হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের ব্যাপক সংস্কার করে, আধুনিক সেনানিবাসে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমানে এই সেনানিবাসে প্রায় ১০ হাজার সৈন্য বসাবাস করার সুবিধা পেয়ে থাকে ৷

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

শুধুমাত্র রবিবার ফোর্ট উইলিয়াম এর ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে সাধারণ মানুষ ৷ যার পোশাকি নাম হবে “হেরিটেজ ওয়াক”। এছাড়া ফোর্ট উইলিয়ামের সামনে বিজয় স্মারক প্রতি রবিবার ও ছুটির দিনে বেলা আড়াইটা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে সাধারণের জন্য ৷ কোনো প্রবেশ মুল্য নেই ।

Aquatica Kolkata timings and entry fee
Aquatica Kolkata timings and entry fee

১৩। অ্যাকোয়াটিকা

আধুনিক অ্যাকোয়াটিকা কলকাতার (Kolkata) এক রাজকীয় অহংকার। এটি রাজারহাটে কোচপুকুরে ৮ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত। অ্যাকোয়াটিকা জল-উদ্যানটি ২০০০ সালে নির্মিত হয়েছে। শধুমাত্র পর্যটকদের জন্য নয় বরং কলকাতার নাগরিকদের জন্যেও, যারা এই ঠাণ্ডা জলে এসে গরম থেকে মুক্তি পায়। অ্যাকোয়াটিকা একটি সাধারণ জল উদ্যান নয়, বরং এটি একটি প্রসঙ্গভিত্তিক উদ্যান যেখানে আপনি সবকিছু পাবেন। আপনি নাচ করতে চাইলে, নৃত্য মঞ্চ পাবেন।

যদি আপনি জলের ঢেউ উপভোগ করতে চান, আপনি কৃত্রিম নদীসহ কৃত্রিম ঢেউ পাবেন। আপনি মজার রাইডস চাইলে সেটিও পাবেন। অ্যাকোয়াটিকার প্রধান আকর্ষণ হল ঢেউ যুক্ত পুল যা আপনাকে সমুদ্র সৈকতের অনুভূতি দেবে। তাছাড়া রয়েছে নায়েগ্রা ফলস, বডি স্লাইড এবং টিউব স্লাইড সহ একাধিক রাইড, যা এই গরমে শরীরকে তো ঠান্ডা করবেই, সেই সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদও মিটবে।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সকাল ১০.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬.৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে। ৪৭০ ও ৬০০ টাকা মূল্যের দুটি আলাদা বিভাগের টিকিট আছে

Mother's Wax Museum timings and entry fee
Mother’s Wax Museum timings and entry fee

১৪। মাদার’স ওয়াক্স মিউজিয়াম

আধুনিক কলকাতার রূপ এখানে পাওয়া যাবে। নিউ টাউনে অবস্থিত একটি মোম শিল্পকর্মের জাদুঘর (Major Tourist Attractions in Kolkata)। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি ভারতের প্রথম মোমশিল্পের জাদুঘর। এটি মাদাম তুসো জাদুঘরের আদলে নির্মিত। রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুল, শাহরুখ কিংবা অমিতাভ। বাদ নেই রাজনীতিবিদ, শিল্পী, খেলোয়াড়ও।

প্রথমেই চোখে পড়বে মহাত্মা গান্ধীকে। তার পাশেই দাঁড়িয়ে যার নামের এই জাদুঘর সেই মাদার টেরিজা। পাশেই আছেন শ্রী চৈতন্য দেব। বঙ্গবন্ধু, এপিজে আবুল কালাম, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, মারাদোনা, মোটা-পাতলু, মিঠুন, অমিতাভ, শাহরুখ, মান্না, লতা ছাড়া আরও অনেক নামি-দামী ব্যাক্তির, বাস্তব সদৃশ পুতুলের সাথে ছবিও তুলতে পারেন। পশ্চিবঙ্গের খ্যাতনামা ভাস্কর সুশান্ত সাহা গড়ছেন আরও অনেক নতুন মূর্তি।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

এখানে প্রবেশ মূল্য ২৫০ টাকা। দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে । সোমবার বন্ধ ।

Kolkata Coffee House timings and entry fee
Kolkata Coffee House timings

১৫। কফি হাউস, কলেজ স্ট্রিট

নষ্টালজিকতার স্পর্শ পাবেন কলকাতার কফি হাউসে। এটি উত্তর কলকাতার বইপাড়ার কলেজ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক কফি হাউস বা রেঁস্তোরা। ঐতিহ্যবাহী বাঙালির আড্ডাস্থল, এই কফি হাউসটি কলকাতার কফি-হাউসসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম। এটি ইন্ডিয়ান কফি হাউসের একটি স্থানীয় শাখা। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টোপাশে অবস্থিত কফি হাউসটি কলকাতার সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এককালের বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের প্রধান আড্ডাস্থল ছিল এই সাধের কফি হাউস। বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও নামিদামী বুদ্ধিজীবী – লেখক, সাহিত্যিক, গায়ক, রাজনীতিবিদ, পেশাদার, ব্যবসায়ী ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে আছে এখানে। সুন্দর পরিবেশে বিভিন্ন মূল্যের চা ও কফি পাবেন এখানে। পাশেই আছে বইপাড়া। নতুন পুরানো সকল বই এখানে মিলবে। বইপাড়ায় যে বই পাওয়া যাবেনা সম্ভবত পৃথিবীর কোথাও সেটি আপনি পাবেন না। এই বিশ্বের সবথেকে বড় ও প্রাচীন বইয়ের বাজার ।

Netaji Bhawan timings and entry fee
Netaji Bhawan timings and entry fee

১৬। নেতাজি ভবন

কলকাতার সাথে নেতাজি সুভাষ চান্দ্র বসুর সম্পর্ক সকলেই জানেন। নেতাজি ভবন (Major Tourist Attractions in Kolkata) হল কলকাতায় অবস্থিত একটি স্মারক ভবন ও গবেষণা কেন্দ্র। এখানে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতা সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণা চলে। ১৯০৯ সালে সুভাষচন্দ্রের বাবা জানকীনাথ বসু এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন। ১৯৪২ সালে গৃহবন্দী অবস্থায় নেতাজি এই বাড়ি থেকে ইংরেজদের চোখে ধুলো দিয়ে পলায়ন করেছিলেন ।

বর্তমানে নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো এই বাড়িটির রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে আছে। এখানে একটি জাদুঘর, মহাফেজখানা এবং একটি গ্রন্থাগার আছে। নেতাজি ভবন জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালে। এই ভবনের জাদুঘরে সুভাষচন্দ্র বসুর পায়ের ছাপ রাখা আছে। এখানে আসলে দেশের অন্যতম দেশপ্রেমিকের অনেক কিছু পাওয়া যায়।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সোমবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত খোলা থাকে । প্রবেশমূল্য ৫ টাকা ।

Dakshineswar Kali Temple timings
Dakshineswar Kali Temple timings

১৭। দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি

কলকাতার হুগলি নদীর তীরে দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি একটি সুন্দর আধ্যাত্মিক পরিবেশে তৈরী। ১৮৫৫ সালে প্রসিদ্ধ মানবদরদি জমিদার রানি রাসমণি এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৭-৫৮ সালে কিশোর রামকৃষ্ণ পরমহংস এই মন্দিরের পূজার ভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি এই মন্দিরকেই তার সাধনক্ষেত্ররূপে বেছে নেন।

মূল মন্দির ছাড়াও রয়েছে “দ্বাদশ শিবমন্দির” নামে পরিচিত বারোটি আটচালা শিবমন্দির। মন্দিরের উত্তরে রয়েছে “শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মন্দির” নামে পরিচিত রাধাকৃষ্ণ মন্দির এবং মন্দিরের দক্ষিণে রয়েছে নাটমন্দির। মন্দির চত্বরের উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংসের বাসগৃহ। প্রবেশের স্কাইওয়ার্ক মনকে ভরিয়ে দেবে। মূল মন্দিরটি তিন তলা। উপরের দুটি তলে এর নয়টি চূড়া আছে। মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। একটি উত্তোলিত দালানের উপর গর্ভগৃহটি স্থাপিত। এই দালানটি ৪৬ বর্গফুট প্রসারিত ও ১০০ ফুট উঁচু।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে আসা যায়। কোনো প্রবেশ মুল্য নেই ।

St. Paul's Cathedral timings
St. Paul’s Cathedral timings

১৮। সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল

সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল কলকাতায় অবস্থিত একটি অ্যাংলিক্যান ক্যাথিড্রাল। এই গির্জাটি গথিক স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল ডায়োসিস অফ ক্যালকাটার পাদপীঠ। এই গির্জার কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৩৯ সালে এবং নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয়েছিল ১৮৪৭ সালে।

সেন্ট পল’স ক্যাথিড্রাল চৌরঙ্গী রোডে বিশপ’স প্যালেসের ঠিক উল্টোদিকে অবস্থিত। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল এই ক্যাথিড্রালের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। বড়দিনের সময় অন্য রূপে সেজে ওঠে এই জায়গাটি। ঔপনিবেশিক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ কলকাতায় আজও নজর কাড়ে বেশ কিছু গির্জা। বড়দিনের আগে শীতের উদাস মরশুমে এই গির্জাগুলি সেজে ওঠে আলোক মালায়। ফিরিয়ে আনে শহরের উৎসবের মেজাজ।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

সোম থেকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে, মাঝে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত বন্ধ থাকে । যদিও প্রতি রবিবার একটানা সকাল ৭.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যায়। কোনো প্রবেশ মুল্য নেই ।

Nakhoda Masjid timings
Nakhoda Masjid timings

১৯। কলকাতার মসজিদ

নাখোদা মসজিদ কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মসজিদ। শিল্প-স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এটি। এটি মধ্য কলকাতার পোস্তা, বড়বাজার এলাকার জাকারিয়া স্ট্রিট ও রবীন্দ্র সরণির সংযোগস্থলে অবস্থিত। কুচ্চি মেমন জামাত সম্প্রদায়ের নেতা, আবদুর রহিম ওসমান এই মসজিদের স্থাপক। তিনি নিজে ছিলেন বিশিষ্ট নাবিক। এই নাখোদা শব্দের অর্থ নাবিক।

১৯২৬ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর এই মসজিদটি স্থাপিত হয়। মসজিদের নামাজ ঘরের ধারণক্ষমতা হল কমবেশি ১০,০০০। প্রাচীন এই মসজিদে তিনটি গম্বুজ এবং দুইটি মিনার রয়েছে যা ১৫১ ফুট উচ্চ। এছাড়া অতিরিক্ত ২৫টি ছোট ছোট মিনার রয়েছে যা ১০০ ফুট থেকে ১১৭ ফুট উচ্চ।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে । এখানে কোনো প্রবেশ মুল্য নেই ।

আইফেল টাওয়ার প্যারিস শহরে অবস্থিত সুউচ্চ একটি লৌহ কাঠামোআরও জানতে ক্লিক করুন …

Kalighat Temple Timings
Kalighat Temple Timings

২০। কালীঘাট মন্দির

কালীঘাট মন্দির দক্ষিণ কলকাতার (Major Tourist Attractions in Kolkata) একটি প্রসিদ্ধ কালী মন্দির। কালী ঠাকুরের একান্ন শক্তিপীঠের অন্যতম একটি হিন্দু তীর্থক্ষেত্র। ১৮০৯ সালে বড়িশার সাবর্ণ জমিদার শিবদাস চৌধুরী, তাঁর পুত্র রামলাল ও ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীকান্তের উদ্যোগে আদি-গঙ্গার তীরে বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত করেছিলেন। মন্দির সংলগ্ন জমিটির মোট আয়তন ১ বিঘে ১১ কাঠার কাছাকাছি, বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্য-শৈলীতে নির্মিত মূল মন্দিরটির আয়তন অবশ্য মাত্র ৮ কাঠা।

মূল মন্দির সংলগ্ন অনেকগুলি ছোটো ছোটো মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ, শিব প্রভৃতি হিন্দু দেবতা পূজিত হন। কালীঘাট কালীমন্দিরের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি অভিনব রীতিতে নির্মিত। মায়ের মূর্তিটির জিভ, দাঁত, মুকুট, হাত ও মুণ্ডমালাটিও সোনার। প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ (First day of Bengali new year), অক্ষয় তৃতীয়া, দুর্গাপূজা ও কালীপূজার দিন মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। প্রত্যেক সন্ধ্যার আরতি মন ভরিয়ে দেয়।

প্রবেশ মূল্য ও সময়:

প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে রাত ১০.৩০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । কিন্তু দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এখানে কোনো প্রবেশ মুল্য নেই ।

লিস্টের বাইরে আরও কিছু প্রসিদ্ধ কলকাতার ভ্রমণস্থল

কলকাতার এই ২০টি বিশেষ ভ্রমণ স্থল (Major Tourist Attractions in Kolkata) ছাড়াও আছে আরও অনেক কিছু দেখার, যেমন, প্রিন্সেপ ঘাট, রবীন্দ্র সরোবর, একাধিক পার্ক (মোহর কুঁজো, এলিয়ট পার্ক ও ময়দান), গড়ের মাঠ, ধাপের মাঠ, বিশ্ব বাংলা গেট, চায়না টাউন, শতাধিক হেরিটেজ বিল্ডিং, শহীদ মিনার, বাবু ঘাট, রায় দীঘি, নিকো পার্ক, বিড়লা মন্দির, ইডেন গার্ডেন, পার্ক স্ট্রিট, শোভাবাজার রাজবাড়ী, টিপু সুলতান প্যালেস, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, সেন্ট্রাল পার্ক এবং আরও অনেক কিছু ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *