Bandel Tourists Spot

চলুন ব্যান্ডেল ঘুরে আসি, এখানেই আছে সব ধর্মের মেলবন্ধন

ভ্রমণ

এখানেই একসাথে দেখা যাবে চার্চ, ইমামবাড়া ও হংসেশ্বরী মন্দির| টুক করে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বেড়ানোর নয় স্বাদ পাবেন|

কলকাতা শহর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে হুগলি জেলায় ব্যান্ডেল| কদিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা| হাতে কিছুটা সময় থাকলেই বেড়িয়ে পড়া, সময় নষ্ট না করে বহু মানুষ বেড়িয়ে পরে ব্যান্ডেল চার্চের উদ্যেশ্যে। এখানেই একসাথে দেখা যাবে চার্চ, ইমামবাড়া ও হংসেশ্বরী মন্দির| টুক করে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বেড়ানোর নয় স্বাদ পাবেন|

কি দেখবেন —
ব্যান্ডেল চার্চ (Bandel Church)-— গির্জার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস।এই গির্জার পোষাকি নাম দ্য ব্যাসিলিকা অফ দ্য হোলি-রোসারি, ব্যান্ডেল। ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ নির্মিত এই গির্জাটি।গির্জার সামনেই একটি জাহাজের মাস্তুল রয়েছে। কথিত আছে, বঙ্গোপসাগরে একটি পর্তুগিজ জাহাজ প্রবল ঝড়ের মুখে পড়লে মেরিমাতা জাহাজটিকে রক্ষা করেন। এরপর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ জাহাজের কাপ্তান মাস্তুলটি গির্জায় দান করেন। গির্জায় তিনটি পূজাবেদি, কয়েকটি সমাধিপ্রস্তর, একটি পাইপ অর্গ্যান ও মেরির একটি সিংহাসন রয়েছে।

Bandel Tourists Spot - Bandel Church
Bandel Tourists Spot – Bandel Church

ইমামবাড়া — লন্ডন শহরে গিয়ে বিগ বেন দেখার সৌভাগ্য যাদের নেই, তাঁরা আসতে পারেন এই ইমামবাড়ায় ( Imambara )। ব্রিটিশ স্থাপত্যের বদলে পাবেন ইসলামি শিল্পকলার স্বাদ।হুগলি ইমাবাড়া তৈরি হয়েছিল ১৬৯৪, মতান্তরে ১৭১৭ সালে। নতুন এই স্থাপত্যটির প্রধান স্থপতি ছিলেন সৈয়দ কেরামত আলি। রয়েছে লন্ডনের বিগ বেনের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘড়িটি। ঘড়িটির নির্মাতা মেসার্স ব্ল্যাক অ্যান্ড হারি কোম্পানি, বিগ বেন, লন্ডন। সেই সময়ে ঘড়িটির দাম পড়েছিল ১১,৭২১ টাকা।এই ঘড়িটিতে দম দেওয়ার চাবিটির ওজন ২০ কিলোগ্রাম, দু’জন মিলে ঘড়িটি দম দিতে হয়। তিনটি ঘণ্টা রয়েছে, মাঝারি ও ছোট ঘণ্টা দুটি ১৫ মিনিট অন্তর বাজে আর বড় ঘণ্টাটি বাজে ১ ঘণ্টা অন্তর। ঘণ্টাটিতে রানি ভিক্টোরিয়ার মুখ খোদাই করা আছে। ঘড়ির দু-দিকের দুই মিনারে ওঠা যায় ১৫২টি করে সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে।

 Bandel Tourists Spot - Imambara
Bandel Tourists Spot – Imambara

হংসেশ্বরী মন্দির ( Hanseshwari Temple) — এই কালীমন্দির হুগলী জেলার বাঁশবেড়িয়া নামক স্থানে অবস্থিত।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্দেশে শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু এই বাঁশবেড়িয়ায় একমাস থেকে এই মন্দিরের প্রতিটি মৃত্‍ফলকের ছবি এঁকেছিলেন। এই মন্দিরের ছয়টি চূড়া, পাঁচ তলা মন্দির মানব দেহের পঞ্চ প্রধান নাড়ীর নির্দেশক—ঈড়া, পিঙ্গলা, বজ্রক্ষা, সুষুম্না ও চিত্রিণী। প্রত্যেকটি ধাপের চূড়ার মাথায় এক একটি পদ্ম কুঁড়ির আকৃতি দেওয়া হয়েছে।

Hanseshwari Temple
Hanseshwari Temple

পাঁচ তলার শেষে, ছয় তলার উপরে একেবারে মধ্যিখানের মিনারের মাথার উপরে ধাতু নির্মিত সূর্য দেবতার মূর্তি, তার সহস্র রশ্মি সহ খোদিত যার মাধ্যমে ষটচক্রভেদ বোঝানো হয়েছে। সমগ্র মন্দিরের উচ্চতা প্রায় সাড়ে সাতাশ মিটার (প্রায় ৯০ ফুট), পদ্মের সংখ্যা মোট ১৩ টি। মা হংসেশ্বরী নীলবর্ণা, চতুর্ভুজা, বাম হাতে খড়্গ ও নৃমুণ্ড ধারিণী এবং ডান হাতে বর ও অভয় মুদ্রা। নিম কাঠে তৈরী মূর্তিটি একটি দ্বাদশদল রক্তবর্ণ পদ্মের উপর দণ্ডায়মানা—ডান পায়ে দাঁড়িয়ে দেবী বাঁ পা রেখেছেন ডান ঊরুর উপরে।

কিভাবে যাবেন?
হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল বা বর্ধমান লোকালে চেপে ব্যান্ডেল স্টেশন। হাওড়া থেকে ভোর ৪টে ১৫ থেকে শুরু করে ১১টা ৪৫ অবধি ট্রেন আছে। আর ব্যান্ডেল থেকে ফেরার শেষ ট্রেন ১১টা ১১ মিনিটে। ৩০ মিনিট অন্তর ট্রেন পাওয়া যায়। হাওড়া থেকে ১ ঘন্টার পথ, মাত্র ৪০ কিলোমিটার পথ।ধর্মতলা ও হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল যাওয়ার বাস মেলে।ব্যান্ডের চার্চ থেকে ছোট গাড়িতে পৌঁছে যাবেন বাকি জায়গাগুলোতে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *