শান্তিনিকেতনে ভ্রমণ

ভ্রমণ

যেকোনও ট্রেন এ গিয়ে বোলপুর স্টেশন এ নেমে ,স্টেশন থেকে অটো করে শান্তিনিকেতন ১৫মিনিট এর রাস্তা| বীরভূমের বাসেও পৌঁছে যেতে পারেন|

শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) — বাঙালির অতি প্রিয় বেড়ানোর জায়গা| ১৮৬৩ সালে আশ্রম হিসেবে এর যাত্রা শুরু। রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহন সিনহার কাছ থেকে বিশ বিঘা জমি কিনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পশ্চিম বাংলার বীরভূম জেলার অন্তর্গত বোলপুরের কাছে এই আশ্রম অবস্থিত। ১৮৮৮ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট- একটি অতিথিভবন, প্রার্থনা কক্ষ এবং ধর্মীয় সাহিত্যের জন্য নিবেদিত গ্রন্থাগারের সংস্থান করেছিলেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) শান্তিনিকেতন আশ্রমে শিশুদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা এবং গ্রামীণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রকে বেছে নিয়ে তিনি শিলাইদহে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেন এবং পরে স্থান পরিবর্তন করে শান্তিনিকেতনে চলে আসেন।

কিসে যাবেন —- হাওড়া থেকে ট্রেন-এ বোলপুর স্টেশন .
Guhati express 11-15am- 2-25pm,
Rampurhat Express- 11-55am-3-35pm,
Shaktipunj Express- 1-10pm-4-21pm,
Saraighat Express- 3-50pm-6-55pm,


যেকোনও ট্রেন এ গিয়ে বোলপুর স্টেশন এ নেমে ,স্টেশন থেকে অটো করে শান্তিনিকেতন ১৫মিনিট এর রাস্তা| বীরভূমের বাসেও পৌঁছে যেতে পারেন| .

santiniketan tour from kolkata

থাকবেন যেখানে —শান্তিনিকেতনে খাওয়া ও থাকার জন্য প্রচুর হোটেল বা লজ আছে ,হোটেল ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে শুরু,৫০০০টাকা পর্যন্ত। হোটেল AC এবং NON AC সবরকম পাবেন।

শান্তিনিকেতনে ঢোকার আগে শিল্পী প্রফেসর সেলিম মুন্সীর গ্যালারি ‘নীহারিকা’ থেকে নান্দনিক ভাস্কর্য এবং নানাচিত্রকর্ম দেখে নিতে পারেন। শান্তিনিকেতনের উপর করা অনেকগুলো কাজের প্রদর্শনীও দেখা যাবে এখানে। গ্যালারির সামনের রাস্তা ধরে এগোলে বেশ কয়েকজন শিল্পীর বাসস্থান চোখে পড়বে। আরো সামনে এগোলেই চোখে পড়বে বিশাল মাঠ, প্রতিবছর এখানেই বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। মিউজিয়ামে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথি, ছবি ও রবিঠাকুরের ব্যাবহার করা দ্রব্য আপনাকে বিমোহিত করবে।

উপসনা মন্দির—-মহর্ষি দেবান্দ্রনাথ ঠাকুরের জেষ্ঠ পুত্র দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি উপাসনা মন্দির বা ব্রাহ্ম মন্দির বা আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন.কাঁচের তৈরি এই মন্দির অতি সুন্দর.এটি এবার কাঁচ মন্দির নামে পরিচিত|.

শান্তিনিকেতন ভবন —- মহর্ষি দেবান্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রথম বসত বাড়ি রূপে নির্মান করেন. এই বাড়িটি পাকা ইটের তৈরি দোতলা. এখানে রবীন্দনাথ ঠাকুর দীর্ঘ দিন সপরিবারে বসবাস করেন .এই বাড়ির সামনে রামকিঙ্কর বেজ এর নির্মিত একটি সুন্দর ভাস্কার্য আছে| .

ছাতিম তলা—–মহর্ষি দেবান্দ্রনাথ ঠাকুর মনের শান্তি ও আনন্দের জন্য রায়পুরের জমিদারের কাছ হতে সোলো আনার দিয়ে ,২০ বিঘা জমি ক্রয় করেন. এখানে দুটি ছাতিম গাছ আছে .এখানের প্রাকিতিক পরিবেশ সকলের ভালো লাগবে. স্থানটি খুব সুন্দর করে সাজানো|


নতুন বাড়ি —— এটি মাটির তৈরি খরের চালের বাড়ি . এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্রাম ও পরামর্শ গৃহ হিসাবে ব্যবহার করতেন.এই বাড়ির চার পাশের পরিবেশ খুব সুন্দর| .
শাল বীথি —– শাল গাছের বাগান এটি, মোনরম পরিবেশে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগে।
আম্র কুঞ্জ—– সুন্দন আমের বাগান।পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মিস্টি বাতাসে মৌমাছি গুঞ্জন।মন ভালো করে দেয়।

এছাড়া আরও তথ্যের ভান্ডার এখানে পাওয়া যাবে রবীন্দ্রনাথ এর সংগ্রহশালা থেকে।রবীন্দ্রনাথের ব্যাবহারের জিনিস, নোবেল পুরস্কার আরো অনেক কিছু। তবে শীতকালে পৌষ মেলা ও বসন্তকালে বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতনকে আলাদা করে দেয়| বাচ্চাদের নিয়ে পরীক্ষার পর অর্থাৎ শীতের শুরুতে গেলে খুব আনন্দ পাবেন|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *