Travel to Tarapith in Birbhum

চলুন এবার তারাপীঠ ঘুরে আসি

ভ্রমণ

হিন্দুদের বিশ্বাসে, এই মন্দির ও শ্মশান একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। এই মন্দির শাক্তধর্মের পবিত্র একান্ন সতীপীঠের অন্যতম।

তারাপীঠ (Tarapith) পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম (Birbhum) জেলার.এক ধর্মীয়স্থান|.ওই জেলার রামপুরহাট শহরের কাছে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র মন্দির নগরী। এই শহর তান্ত্রিক দেবী তারার মন্দির ও মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত। হিন্দুদের বিশ্বাসে, এই মন্দির ও শ্মশান একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। এই মন্দির শাক্তধর্মের পবিত্র একান্ন সতীপীঠের অন্যতম। জেলার রামপুরহাট মহকুমার সদর রামপুরহাট শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে তারাপীঠ অবস্থিত। রামপুরহাট ও চাকপাড়ার ‘তারাপীঠ রোড’ রেল স্টেশনদুটি তারাপীঠের নিকটতম রেল স্টেশন।

Travel to Tarapith in Birbhum
Travel to Tarapith in Birbhum

পুরান মতে, শিবের স্ত্রী সতী তাঁর পিতা দক্ষের “শিবহীন” যজ্ঞ সম্পাদনার ঘটনায় অপমানিত বোধ করে। স্বামীনিন্দা সহ্য করতে না পেরে তিনি যজ্ঞস্থলেই আত্মাহুতি দেন। এই ঘটনায় শিব ক্রুদ্ধ হয়ে সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়নৃত্য শুরু করেন। তখন বিষ্ণু শিবের ক্রোধ শান্ত করতে সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর দেহ খণ্ডবিখণ্ড করে দেন। সতীর দেহ একান্নটি খণ্ডে ছিন্ন হয়ে পৃথিবীর নানা স্থানে পতিত হয়। এইসকল স্থান “শক্তিপীঠ” নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।সতীর তৃতীয় নয়ন বা নয়নতারা তারাপুর বা তারাপীঠ গ্রামে পড়ে এবং প্রস্তরীভূত হয়ে যায়। ঋষি বশিষ্ঠ প্রথম এই রূপটি দেখতে পান এবং সতীকে তারা রূপে পূজা করেন। তারা মায়ের প্রাচীন মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পর ১২২৫ বঙ্গাব্দে মল্লারপুরের বাসিন্দা জগন্নাথ রায় আটচালা ইট দিয়ে নতুন মন্দিরটি নির্মান করেন। মন্দিরটির টেরাকোটা শিল্প আজও পর্যটকদের নজর টানে।

Travel to Tarapith in Birbhum
Travel to Tarapith in Birbhum

এখানে কি কি দেখবেন —-

তারাপীঠ মন্দির—

একান্নটি পীঠস্থানগুলির মধ্যে মধ্যে তারাপীঠ একটি “সিদ্ধপীঠ”, .বামাক্ষেপা এই মন্দিরে পূজা করতেন .মন্দিরের ভিতরে, শিশু শিবকে স্তন্যপানরতা তারার মূল প্রস্তরমূর্তিটি একটি তিন ফুট উঁচু ধাতব মূর্তির মধ্যে রাখা আছে । মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবীমূর্তি সংস্থাপিত। এই মূর্তিটি তারা দেবীর ভীষণা চতুর্ভূজা, মুণ্ডমালাধারিণী মূর্তি।প্রতিকৃতি বিগ্রহের নিচে গোল্রাকার বেদীতে দুটি রূপোর পাদপদ্ম থাকে।

মন্দিরের প্রবেশপথের মধ্য খিলানের ওপর দুর্গার প্রতিকৃতি রয়েছে। উত্তরদিকে বামপাশের খিলানের ওপর কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ঘটনা, ভীষ্মের শরশয্যা, অশ্বত্থমা হত প্রভৃতি মহাভারতের কাহিনী উৎকীর্ণ রয়েছে। মন্দিরের উত্তর ভিতের পূর্বদিকে সীতাহরণ, অকালবোধন, রাম ও রাবণের যুদ্ধের দৃশ্য এবং পশ্চিমদিকে কৃষ্ণলীলার চিত্র খোদিত।১২৮,১২৯ ১২ ফুট X ৬ ফুট মাপের মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবীমূর্তি সংস্থাপিত।মন্দিরের শিল্প কার্য অপূর্ব ঐতিহাসিক নি.দর্শন.এই মন্দিরের পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে| .

চন্দ্রচুড় মন্দির—-
তারাপীঠে শিব চন্দ্রচূড় হিসেবে পূজিত হন। এই মন্দির নির্মাণ করেন জয়দত্ত বণিক নামক ত্রয়োদশ শতাব্দীর এক বণিক পরিবারের সন্তান। মন্দিরটি মাঝারি আকারের গম্বুজাকৃতি ও তারা মন্দিরের পূর্বদিকে অবস্থিত।মন্দিরের সম্মুখে ধ্যান যোগ এবং পুজার্চনায় মানসিক শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে .

বামাক্ষ্যাপা আশ্রম—-
তারাপীঠের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ সাধক হলেন বামাক্ষ্যাপা (১৮৪৩-১৯১১)।মন্দিরের অদূরেই তাঁর আশ্রম অবস্থিত| তিনি মন্দিরে পূজা করতেন এবং শ্মশানে সাধনা করতেন। তিনি সমগ্র তারাপীঠের প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছিলেন। ভক্তেরা তাঁর কাছে আশীর্বাদ বা আরোগ্য প্রার্থনা করতে আসত। কেউ কেউ আবার শুধুই তাঁকে দর্শন করতে আসত।

 Birth Place of Bama Khepa
Birth Place of Bama Khepa

শ্মশানঘাট.—–
তারা মন্দিরের পশ্চিম দিকে অদূরেই শ্মশানক্ষেত্রটি অবস্থিত| এই শ্মশানে অনেক জটাধারী ভষ্মমাখা সাধুরা শ্মশানক্ষেত্রে নিজেদের কুটির বানিয়ে বাস করেন।তন্ত্রসাধকরা বিশ্বাস করেন নরকঙ্কাল ও শ্মশানক্ষেত্র তারা দেবীর বিশেষ প্রিয়। দেবীর যে সকল চিত্র আঁকা হয়ে থাকে, তাতে তাঁকে শ্মশানক্ষেত্রনিবাসিনী রূপেই দেখানো হয়। এই কারণে তন্ত্রসাধকেরা শ্মশানক্ষেত্রকেই তাঁদের সাধনস্থল হিসেবে বেছে নেন।

 Inside of the crematorium in Tarapith
Inside of the crematorium in Tarapith

যাবেন কিভাবে —-
হাওড়া থেকে ট্রেন এ, Guhati express 11-15am-2-২৫pm
Rampurhat Express 11-55am-3-35pm,
Shaktipunj Express 1-10pm-4-21pm,
Saraighat Express 3-50pm-6-55pm,

পছন্দের ট্রেন ধরে রামপুরহাট এ নেমে ,স্টেশন থেকে অটোতে তারাপীঠ| মাত্র ১০ কিলোমিটার রাস্তা| .

থাকবেন কোথায় —-
তারাপীঠে থাকার জন্য প্রচুর হোটেল ও রিসোর্ট আছে| হোটেল ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে শুরু, হোটেল AC এবং NON AC সবরকম পেয়ে যাবেন| অমাবস্যা ও শনিবারে বেশি ভিড় হয় এখানে|.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *