Pakistan Banned Hafiz Saeed's Organizations

হাফিজ সইদ এর সংগঠনকে নিষিদ্ধ করল পাকিস্তান – Pakistan Banned Hafiz Saeed’s Organizations

আন্তর্জাতিক

ভারতীয় সেনাদের রক্তের মিছিলকে সব দেশই সমবেদনা জানিয়েছেন ও জঙ্গি মুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পাকিস্তানকে|

অবশেষে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নোয়ালো ইমরান খানের পাকিস্তান| ভারতীয় সেনাদের রক্তের মিছিলকে সব দেশই সমবেদনা জানিয়েছেন ও জঙ্গি মুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পাকিস্তানকে| কিন্তু নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন ইমরান খান| কিন্তু পুলওয়ামাকাণ্ডের জেরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পাকিস্তান হাফিজ সইদের জমাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়তের উপর নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনল। সেই মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদ রাষ্ট্রসংঘের কালো তালিকাভূক্ত জঙ্গি। আবার হাফিজের জামাত-উদ-দাওয়ারই প্রকাশ্য সংগঠন ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত।

পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিক জঙ্গি সংগঠনের তালিকা অনুযায়ী পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মামনুন হোসেন একটি অধ্যাদেশ (অর্ডিন্যান্স) জারি করেন। এর মাধ্যমেই নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় ঠাঁই পায় জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়ত।

কিন্তু, কিছুদিন আগেই পাক রাষ্ট্রপতির সেই অধ্যাদেশের মেয়াদ সীমা ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশের ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের তকমা থেকে মুক্তি পায় হাফিজ সইদের এই দুই দল। কিন্তু এবার, পাকিস্তানের বর্তমান পিটিআই সরকারের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রক দুই সংগঠনকেই আবার ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করল।

Hafiz Seed's Political Campaign
Hafiz Seed’s Political Campaign

যদিও এই দুই জিঙ্গী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং পাক প্রধানমন্ত্রী তথা পিটিআই প্রধান ইমরান খান। পাক সেনা প্রধান কামর জাভেদ বাজওয়া, বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি-সহ আইএসআই এবং সেনা গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্তারাও সেখানে ছিলেন । আর তারপরেই জামাত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়তের উপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রক।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে জামাত-উদ-দাওয়াই বকলমে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা। ২০০২ সালে পাকিস্তানে লস্করকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে এই জামাতের নাম নিয়েই সে দেশে সমস্ত কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে হাফিজের দল। কিন্তু এই জামাত-উদ-দাওয়াকে নিষিদ্ধ করা তো দূরের কথা, হাফিজের বিরুদ্ধে সামান্য কিছু নাটক ছাড়া কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি ইসলামাবাদ। কয়েকদিন হাস্যকর গৃহবন্দী রেখে ফের ছেড়ে দেওয়া হয় লস্কর প্রধানকে। এদিকে অধিকৃত কাশ্মীরে দেদার জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে রুটিন ভিজিটও দিচ্ছে হাফিজ।

যদিও ২০১২ সালে আমেরিকা ঘোষণা করেছিল, হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ দিতে পারলেই ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। কিন্তু আজকে পাকিস্তান যে একরকম বাধ্য হয়েই জামাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণাকরলো, তা কয়েকদিন বাদে নিয়মের প্রহসন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *