Masood Azhar Blacklisted in United Nation Terror List

রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকায় জঙ্গি মাসুদ আজাহার নিষিদ্ধ ।

আন্তর্জাতিক

JeM Chief Masood Azhar Global Terrorist in UNSC Terror List

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রাথমিক ভাবে বিষয়টিকে ‘ভারতের জয়’ বললেও তার পরপরই প্রচারে একে কাজে লাগাতে কসুর করেননি।

নির্বাচনের মধ্যেই বড়সর কূটনৈতিক জয় ভারতের। অবশেষে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষিদ্ধ জঙ্গি তালিকায় জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মাসুদ আজহারের অন্তর্ভুক্তি ঘটল।একটানা চারবার বাধা দেওয়ার পর নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে সায় দিল চীন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাসুদ আজহারের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে এবং তার গতিবিধিতে রাশ টানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সাউথ ব্লক।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রাথমিক ভাবে বিষয়টিকে ‘ভারতের জয়’ বললেও তার পরপরই প্রচারে একে কাজে লাগাতে কসুর করেননি। দেশের তিন দফা ভোট বাকি থাকতে মাসুদকে নিয়ে এই ঘোষণায় শাসক দল অবশ্যই প্রচারের জন্য আরও একটা বড় হাতিয়ার পেল।

পুলওয়ামা কাণ্ডের পরে ব্রিটেন, আমেরিকা এবং ফ্রান্স যে ভাবে চাপ তৈরি করেছিল চীনের উপর, তাতে এই সিদ্ধান্তে আসা ছাড়া উপায়ও ছিল না তাদের| কিছু দিন আগেই বিদেশসচিব বিজয় গোখলে মোদীর দূত হয়ে চিনে গিয়ে মাসুদের ব্যাপারে দরবার করেন। জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গির তালিকাভুক্ত করল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

এই মাসুদ আজাহারকে আন্তজার্তিক জঙ্গি ঘোষণার ক্ষেত্রে চীনের প্রাচীর সরে যাওয়ায় পাক জঙ্গিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি তালিকাভুক্ত করা হল। এর অর্থ মাসুদ আজাহারের টাকা পয়সা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। নির্বাচনী মরসুমে এটাই অন্যতম বড় জয় নরেন্দ্র মোদীর সরকারের কাছে। কারণ পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই ভারত নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল যাতে মাসুদকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করা যায়।

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে ১৯৬৮ সালে জন্ম তাঁর। বাবা আল্লা বক্স সাবির ছিলেন সরকারি স্কুলের হেডমাস্টার। বাড়ির প্রত্যেকে যুক্ত ছিল ডেয়ারি ও পোলট্রি ব্যবসার সঙ্গে। ২০০১ সালে সংসদ চত্বরে বিস্ফোরণে নাম জড়ায় এই বাড়িরই ছেলে মাসুদের।ছোটবেলার স্কুল ছেড়ে জামিয়া উলুম-ই-ইসলামি স্কুলে ভর্তি হয় মাসুদ। তখন থেকেই অমুসলিম ব্যক্তিদের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি হয় তার। পড়াশোনায় ভাল হাফিজ বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে ।

১৯৯৪ সালে হরকত উল মুজাহিদিন নামে কাশ্মীরি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হয় তাকে।১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান আইসি ৮১৪ কাঠমান্ডু থেকে দিল্লি আসছিল। বিমানটিকে ভারতের আকাশ থেকে ছিনতাই করে আফগানিস্তানের কন্দহরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫৪ জন যাত্রীর প্রাণের বিনিময়ে মাসুদ আজহার, মুস্তাক আহমেদ ‌জ়ারগর ও আহমেদ উমর সঈদ শেখের মতো জঙ্গিদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় অটলবিহারী সরকার। এবার সন্ত্রাস মুক্ত পৃথিবী তৈরির পাশে সবাই|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *