Massive Fire Breaks Out in Notre Dame Cathedral of Paris

ভয়াবহ আগুনে ছাই হয়ে গেলো প্যারিসের “নোতর দাম গির্জা” – Massive Fire Breaks Out in Notre Dame Cathedral of Paris

আন্তর্জাতিক

প্যারিসের সবচেয়ে প্রাচীন ও বিখ্যাত “নোতর দাম গির্জা” দীর্ঘকাল শহরের সবথেকে উঁচু বিল্ডিং হিসেবেও পরিচিত ছিল। তবে দমকল সূত্রে দাবি, এই গির্জার সংস্কার চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

স্তব্ধ হয়ে গেলো প্যারিস| আগুনের লেলিহান শিখায়, ছাই হয়ে গেলো এক সাবেকি গির্জা| কিছু বুঝে ওঠার আগেই দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে গির্জার ছাদ। ঘন ধোঁয়ায় ওই গির্জার মাথাটা একেবারেই দেখা যাচ্ছিলো না। গতকাল সোমবার বিকেলে মধ্য প্যারিসের জনাকীর্ণ রাস্তায় হঠাৎই এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে নির্বাক হয়ে যান পথচারীরা। অগণিত মানুষ এসে পৌঁছায় সেই ৮৫০ বছরের পুরনো এই গির্জার আশপাশে। আসলে প্যারিসে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র, এই বিশ্বপ্রসিদ্ধ নোতর দাম গির্জায়। গির্জায় আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত সেখানে পৌঁছায় দমকল। তড়িঘড়ি শুরু হয় উদ্ধারকাজ। মঙ্গলবার ভোরের দিকে দমকল ও উদ্ধারকারী দলের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে| যদিও ভেঙে পড়েছে গির্জার চূড়া ও ছাদ। পুড়ে গিয়েছে ছাদ-লাগোয়া কাঠের পাটাতনগুলিও।

Massive Fire Breaks Out in Notre Dame Cathedral of Paris
Massive Fire Breaks Out in Notre Dame Cathedral of Paris

মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গির্জার ভিতরের দেওয়ালে থাকা বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তিও। তবে প্রায় ১০০জন দমকল কর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমে রক্ষা পেয়েছে ভিক্টর হুগোর ‘হাঞ্চব্যাক অব নোতর দাম’ উপন্যাসে উল্লেখিত বিশাল ঘণ্টা ঝোলানো দুটি টাওয়ার।

Massive Fire Breaks Out in Notre Dame Cathedral of Parisজানা যায়, ১৮৩১ সালের ১৬ই মার্চ বিখ্যাত ফরাসি ঔপন্যাসিক ভিক্টর হুগোর উপন্যাস ‘হাঞ্চব্যাক অব নোতর দাম’ এর সূত্র ধরেই “নোতর দাম গির্জা” বিশ্বের দরবারে পরিচিতি পায়। তবে ১৩৪৫ সালে এই গির্জা বানানোর কাজটি সমাপ্ত হয়। এটি বানানোর প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল, ১১৬৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা লুই-এর আমলে। প্রায় ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বানানো এই বিশাল ঐতিহ্যমণ্ডিত গির্জাটি প্রকৃত অর্থেই পৃথিবীর স্থাপত্যের ইতিহাসের এক অনিবার্য দলিল। যদিও এর আগে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছে ৬৯ মিটার বা ২২৬ ফুট উচ্চতার এই গির্জাকে। ফরাসি বিপ্লবের সময় ১৭৯০ সাল নাগাদ এই গির্জার ভিতরে থাকা বহু স্থাপত্য ও চারুকলা একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, প্রতি বছর অন্তত ১.৩ কোটি মানুষ এই গির্জা দেখতে আসেন।

প্যারিসের সবচেয়ে প্রাচীন ও বিখ্যাত “নোতর দাম গির্জা” দীর্ঘকাল শহরের সবথেকে উঁচু বিল্ডিং হিসেবেও পরিচিত ছিল। তবে দমকল সূত্রে দাবি, এই গির্জার সংস্কার চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সেই কাজ চলাকালীনই যেকোনওভাবে আগুন লেগে যায়| বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন সে দেশের অগণিত মানুষ| ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বলেন, নোতর দাম তাদের ইতিহাস, সাহিত্য, অহংকার। আজ গোটা দেশ আবেগে-শোকে বাকরুদ্ধ! তবে নোতর দাম গির্জা তারা আবার তৈরি করবে। যেভাবেই হোক, দেশের শিল্পকলার ইতিহাসকে হারিয়ে যেতে দেবে না সেই দেশের সরকার| আগুনের গ্রাস থেকে আবার ফিনিক্স পাখির মতো হাজির হবে প্যারিসের “নোতর দাম গির্জা”|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *