Myanmar Government on Rohingya Issue Latest

Rohingya Issue: রোহিঙ্গাদের গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে সরকারি ভবন

আন্তর্জাতিক

যেসব অঞ্চলে আগে রোহিঙ্গাদের (Rohingya Issue) বসবাস ছিল সেসব যায়গা এখন পুরোপুরি সরকারি অবকাঠামোতে রূপান্তর করা হয়েছে।

মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের (Rohingya Issue) গ্রামগুলি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং সেসব জায়গায় পুলিশ ব্যারাক, সরকারী ভবন এবং শরণার্থী স্থানান্তর শিবির স্থাপন করা হয়েছে। যেসব অঞ্চলে আগে রোহিঙ্গাদের বসবাস ছিল সেসব যায়গা এখন পুরোপুরি সরকারি অবকাঠামোতে রূপান্তর করা হয়েছে। এমন চারটি রোহিঙ্গা গ্রামকে দেশটির সরকার পুরোপুরি সরকারি অবকাঠামোতে রূপান্তর করেছে। যদিও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এগুলো আগে ছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের বসতি। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গ্রামে এসব স্থাপনা তৈরির অভিযোগ নাকচ করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের জন্য সাত লাখের রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়।

Rohingya Refugee Crisis
Rohingya Refugee Crisis

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা ও বর্বর নির্যাতন চালায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলে। জাতিসংঘ একে জাতিগত নির্মূল কর্মকাণ্ডের ‘টেক্সটবুক’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে মিয়ানমার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত ২২শে আগস্ট রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবসনের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাটিও ব্যর্থ হয়ে যায়। ওইদিন বাংলাদেশ থেকে ৩৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রজি হয়েছিলো মিয়ানমার সরকার। কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নাগরিক অধিকার ছাড়া সেখানে যেতে অস্বীকার করায় দুই দেশের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এ ঘটনায় পরস্পরকে দুষছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ইউরো এশিয়া রিভিউ ২০১৮ সালের মার্চের শুরুতে জানায়, ২০১৭ সালে শেষ থেকে মিয়ানমার সরকার ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কমপক্ষে ৪৫৫টি গ্রামের সব অবকাঠামো ও ফসলের ক্ষেত ধ্বংস করে দিয়েছে। এ বছরের জানুয়ারিতে অ্যামনেস্টির সবশেষ গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বহু গ্রাম জ্বালিয়ে ও বুলডোজারে গুড়িয়ে দেওয়ার আলামত উঠে এসেছিল। ফেব্রুয়ারিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী অর্ধশতাধিক গ্রাম বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ওই বছর মার্চের শুরুতে নতুন করে অ্যামনেস্টির দেওয়া বিবৃতি থেকে অন্তত ৩টি সামরিক ঘাঁটি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ চলমান থাকার কথা জানা যায়।রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িগুলো ভেঙে তৈরি করা হয়েছে বর্ডার গার্ড পুলিশের একটি বিশাল ব্যারেক, যা ঘিরে রাখা হয়েছে কাঁটাতারের বেষ্টনি দিয়ে। ওই গ্রামের রাখাইন বৌদ্ধ বাসিন্দারা জানায়, তারা এখানে আর কখনও মুসলিমদের থাকতে দেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *