Pakistani Jet Starts Bombing in India

“হল্লা চলেছে যুদ্ধে” দেখতে সবাই নারাজ – Pakistani Jet Starts Bombing in India

আন্তর্জাতিক

ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে ১০০০ কেজি ওজনের বোমা ফেলেছে।

আবহাওয়া অনেকটাই বেসুরো| কাঁটা তারের দুপাশে দুই শক্তিশালী বাহিনী প্রস্তুত| ঠান্ডা ঘর থেকে শুধু আদেশ আসার অপেক্ষা| দুই দেশের অগণিত মানুষ খুব অসহায়তা বোধ করছে| পরমাণু শক্তিতে তো দুই দেশই সমৃদ্ধ| গত ১৪ই ফেব্রুয়ারির বদলা নিয়েছে ভারত| সময় নিয়েছে মাত্র দেড় মিনিট! আর তারমধ্যেই পাকিস্তানে প্রবেশ করে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান নিখুঁত লক্ষ্যে বোমা ফেলে জইশ-ই-মহম্মদের একাধিক জঙ্গি-ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে|

ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোটে ১০০০ কেজি ওজনের বোমা ফেলেছে। সেখানে মারা গিয়েছে কমবেশি ৩০০ জন জঙ্গি। জইশ-প্রধান মাসুদ আজহারের শ্যালক মৌলানা ইউসুফ আজহারও রয়েছে নিহতদের তালিকায়। ১৯৯৯ সালে ভারতীয় বিমান ছিনতাই করে কন্দহরে নিয়ে যাওয়ার পিছনে এই ইউসুফই ছিল প্রধান। সেই সময়, পরিস্থিতির চাপে ওই মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিয়ে বিমানযাত্রীদের ফিরিয়ে আনে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকার।

যদিও ভারত সরকারের দাবি অবশ্য পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে পাকিস্তান। তারা জানিয়েছে, ভারতীয় বায়ুসেনা পাক আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা ঢুকেছিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মাত্র ৪-৬ কিমি ভিতরে। তখনই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান তাদের চ্যালেঞ্জ করলে, তাড়াতাড়ি পালানোর সময় ফাঁকা এলাকায় কিছু বোমা ফেলে যায় তারা। তাতে কোনও ক্ষয়ক্ষতিই হয়নি। কিন্তু মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে তিনটেয় সময় আলো ফোটার আগেই ওয়েস্টার্ন ও সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে একসঙ্গে ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান ওড়ে।

পাকিস্তানকে দিশাহারা করতেই একাধিক বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে বিমানগুলো উড়েছিল। একইসঙ্গে দিল্লি থেকে আকাশে ওড়ে ‘এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম’ নামের একটি বিমান, যার কাজ ছিল মিরাজ-২০০০ বিমানগুলিকে নিখুঁত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া এবং পাকিস্তানের দিক থেকে আসা বিমানের দিকে নজর রাখা। আগরা থেকে আকাশেই যুদ্ধবিমানে জ্বালানি ভরে দেওয়ার জন্য আইএল-৭৮ নামে একটি বিমানও উড়ে যায়। এই দু’টি বিমান অবশ্য নিয়ন্ত্রণরেখার ও-পারে যায়নি।

এদিকে, নিয়মের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের আকাশে ঢুকে জইশ ঘাঁটি ধ্বংস করার ঘটনায় এখন বিপর্যস্ত পাকিস্তান। দ্রুত জটিল পরিস্থিতি সামলাতে সকাল থেকেই একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেই সব বৈঠকে কখনও পাক বিদেশমন্ত্রী আবার কখনও দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকছেন। দিনের শেষে অবশ্য ন্যাশনাল কম্যান্ড অথরিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইমরান। জানা যাচ্ছে, এই কমিটির হাতেই আছে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

এদিন পাকিস্তান দিনটা শুরু করেছিল ইমরানের ডাকা জরুরি বৈঠক দিয়ে। বায়ু, নৌ, ও স্থলবাহিনীর সকল আধিকারিকরা সেখানে ছিলেন। সেই বৈঠকের পরই ইমরানের দফতর বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, পাক সেনা এবং পাক জনতা যেন সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকে। ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা ভারতকে অবাক করে দেব। একটু অপেক্ষা করুন। এই প্রত্যাঘাত অন্য ভাবে আসবে।

কিন্তু আশঙ্কা থাকছে নতুন করে বেপরোয়া জঙ্গি হামলার। ভারতের দাবি, একরকম বাধ্য হয়েই পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি শিবিরে আঘাত হানতে হয়েছে। বিনয়ের সাথে আন্তর্জাতিক বিশ্বকে এই বার্তা দিয়ে নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দিল, যুদ্ধ নয়, কেবল আত্মরক্ষার্থেই প্রত্যাঘাত করেছে ভারত।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন ও অস্ট্রেলিয়া সংযত থাকার পরামর্শ দিলেও দিল্লির সমালোচনা করেনি। আবার ফান্স সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিকমহল বড় সাফল্য বলেই মনে করছে । সব শেষে এ বার আমেরিকাও সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানকে কড়া পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছে তারা। দ্রুত শান্তি আলোচনায় বসে, আতঙ্কের পরিস্থিতি মেটাতে বলেছে আমেরিকা| যুদ্ধের ঘূর্ণবর্ত কেটে যাক, এটা সবাই চাইছে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *